‘ত্রাণ তো দূর, খোঁজও নিতে আসেনি কেউ’



কল্লোল রায়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুডিগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এ অবস্থায় বিশেষ করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুর্গম চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষজন। চুলা জ্বালাতে না পারায় এবং টিউবয়েল তলিয়ে থাকায় তীব্র হয়ে উঠছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গো-খাদ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একমাত্র আয়ের উৎস গবাদি পশুর খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের পূর্ব দৈখাওয়ার চরের বাসিন্দা মো. শাহ আলম। আড়াই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে বন্যার কারণে তুলতে পেরেছেন মাত্র দেড় বিঘা জমির বাদাম। তাও বন্যার কারণে আগাম তোলায় ফলন আশানুরূপ হয়নি বলে জানান তিনি। বানের পানি বাড়িতে ওঠায় পরিবার ও ফসলসহ আশ্রয় নিয়েছেন পূর্ব দৈখাওয়ার চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি জানান, বন্যার পানি এবার আগের থেকে দ্রুত বেড়েছে। তাই সব বাদাম তুলতে পারিনি। বাড়িঘরে পানি ওঠায় দ্রুত নিরাপদে সরে এসেছি। এখানে ৫ দিন থেকে আছি। কেউ খোঁজও নিতে আসলো না।

ঘরে পানি উঠায় মাঁচাতে বসে আছেন স্ত্রী-সন্তান

একই ইউনিয়নের আইড় মারির চরের দক্ষিণ পাড়ায় ৭ দিন ধরে ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে পানিবন্দী আশরাফুল আলম। ঘরের ভেতরে কোমর পানি ওঠায় মাচা করে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বসবাস করছে পরিবারটি। পাশের একটি মাচায় চুলা জ্বালিয়ে কোনমতে একবেলা রান্না হয়। বন্যায় খড়ি ভিজে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে রান্না হবে কিনা এই নিয়ে শঙ্কায় পরিবারটি। আশারাফুল আলমের স্ত্রী হামিদা খাতুন বলেন, প্রসাব-পায়খানা করতে অনেক সমস্যা হয়। গোয়ালঘরে ২টা গরু ও ২টা ছাগল একসাথে ছোট একটা জায়গায় আছে। এগুলোর খাবারও ঠিকমতো দিতে পারি না। নিজেদের খাবারই দিনে একবেলা রান্না হয়। সেই রান্নার কখনো ভর্তা-ভাত কখনো লবণ-তেল দিয়ে খাই। ত্রাণ তো দূর, এখনো কেউ খোঁজও নিতে আসলো না।

পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম সরকার জানান, বিশুদ্ধ পানির সংকটের কথা। তার বাড়ির উঁচু স্থানে বসানো টিউবওয়েলটিও হাঁটু পানির নীচে। সকালে আলু ভর্তা ভাত খেয়ে বিকেল পর্যন্ত থাকা এখন নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা পরিবারটির। ইব্রাহিম সরকার বলছিলেন, খাবার জন্য পানি পাচ্ছি না। রান্না করতেও অনেক ভোগান্তি, রান্নার জন্যেও তেমন কিছু নাই ঘরে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ নিতে আসলো না।

ঝুঁকিতে বানভাসি শিশুরা

অপরদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের (নতুন) একটি উঁচু স্থানে গত ছয়মাস ধরে বসবাস করছে প্রায় ১০০টি পরিবার। বন্যার পানিতে প্রায় ৯০ ভাগ বাড়ি তলিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িতে এখনো পানি না ওঠায় সেই খানেই ঠাঁই নিয়েছে বাকি পরিবারগুলো। তবে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী কয়েক ঘণ্টায় বাকি বাড়ি গুলোতেও পানি উঠবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

তবে পুরাতন পোড়ার চরের প্রায় ৫০টি বাড়ি গত ১০দিন থেকে পানিবন্দী। চরটি নীচু স্থানে হওয়ায় সেখানকার বাড়ি ঘরগুলো প্রায় নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্র‍য়ে সরে গেলেও কয়েকটি পরিবার এখনো ঘরের ভেতরে মাচা করে বসবাস করছে। গগণমাধ্যমে এই চরের খবর বহুল প্রচারিত হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সেখানে ছুটছেন ত্রাণ নিয়ে। এই চরের তেমনি একটি পরিবার শাহজালাল-মঞ্জিলা দম্পতি। দুই শিশুসহ চারজন সদস্যের এই পরিবারটির ভরসা শুকনো খাবার। শাহজালাল বলছিলেন, রান্নার কোন ব্যবস্থা নাই। ত্রাণের শুকনো খাবারেই আমাদের ভরসা।

বন্যায় গো-খাদ্যের চরম সংকটে পড়েছেন কুড়িগ্রামের বানভাসি মানুষ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন বৃহস্পতিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার ( ৫ জুলাই) বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন এই ভবন পরিদর্শনের সময় ভবনটি নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা ভবন সম্পন্ন হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, উইং ও  অন্যান্য শাখার জন্য স্থানসংকুলানের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে এবং আধুনিক সুবিধাবিশিষ্ট কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ভবনটির নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি দেখতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার আকস্মিক পরিদর্শন করেন এবং যথাসময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

মঙ্গলবার ভবনটি পরিদর্শনের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সাধারণ সেবা) মোহাম্মদ হজরত আলী খান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডি এম সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) জানিয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন পাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (৫ জুন) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেখর বিশ্বাস বলেন, 'মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ জুনের এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার বিষয়টি রেজিস্টারিং অথরিটির নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাবে না।'

এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

টাঙ্গাইলে ভিজিএফ’র চালে বড় বড় পাথর, ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা দশ কেজি চালে বড় বড় পাথর পাওয়া গেছে। এতে চাল নিতে আসা উপকাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) ভূঞাপুর পৌরসভায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলো পরিবর্তনের আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়াও পোকা, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের চাল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূঞাপুর উপজেলা গোডাউন কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আব্দুল হালিম জানান, চালে পাথর পাওয়ার পরই বস্তাগুলো পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে চালে এমন পাথর থাকতেই পারে। চাল যে চাতালগুলোতে শুকানো হয়, চাতালের পাথরগুলোই উঠে চালে মিশেছে।

ভূঞাপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কাজী হামিদুল হক বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওয়তায় ৬টি ইউনিয়নে ১০২ মেট্রিকটন এবং পৌরসভায় ৩০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই চালের বস্তাগুলো গত বছর গোডাউনে মজুদ করা হয়েছিল। এই মৌসুমটায় চালে পোকা ধরে। পোকা দমনে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। 

মঙ্গলবার পৌরসভায় চালগুলো বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া গেছে। সেগুলো পরিবর্তন করে দেয়া হবে।

ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ জানান, চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু বস্তাতে পাথর পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বস্তাগুলো পরিবর্তন করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান জানান, পাথরযুক্ত চালের বস্তাগুলোতে পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য খাদ্য পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। কেন চালে পাথর পাওয়া গেলে সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

ইভিএম জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে: সুজন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) নিকৃষ্ট যন্ত্র আখ্যা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

সেই সঙ্গে সংগঠনটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারকুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে সুজন। সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম নিয়ে সুজনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১২ সালে কুমিল্লা নির্বাচনে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক ইভিএমে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে পেপার ব্যালটে ভোট পড়েছিল ৬৪ শতাংশ। এবারে সেখানে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশ। ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে, বায়োমেট্রিক ছাপ না মেলায় অনেকে বিরক্ত হয়ে চলে গেছে। এখানে ইভিএম মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ইভিএম যদি মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সেই ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা কী?

গত কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট পড়ার হার তুলনা করেছে সুজন। তাতে দেখা যাচ্ছে ইভিএমে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়ছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন,গত জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছিল ৬টি আসনে আর ২৯৪টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল পেপার ব্যালটে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৯৪ আসনে যেখানে পেপারব্যালটে ভোট হয়েছে, সেখানে ভোট পড়েছে ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে যে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানে ভোট পড়েছিল ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ পার্থক্য। এর মানে যেখানে পেপার ব্যালটে ভোট হয়েছে সেখানে কারসাজি করা হয়েছে, না হয় যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেখানে মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রোবায়েত ফেরদৌস এবং সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

কুমিল্লা নির্বাচন সম্পর্কে সুজন-এর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এই নির্বাচনে মূল আলোচিত ঘটনা ছিল কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি। তিনি এলাকা ছাড়ার ব্যাপারে ইসির নির্দেশ অমান্য করা সত্ত্বেও বিধিমালার ৩১ ও ৩২ ধারা অনুযায়ী শাস্তির বিধান প্রয়োগ না করায় কমিশন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে কমিশন থেকে বলা হয় বাহাউদ্দিনকে এলাকা ছাড়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি কমিশনের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা না ফিরলে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। তাই, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যথাযথ তদন্ত পূর্বক এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে তাদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, কুমিল্লা নির্বাচন ছিল এই কমিশনের প্রথম পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষাতেই তারা অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ইভিএমে প্রিন্টআউট না থাকার কারণে পুনঃগণনার সুযোগ নেই। যারা ইভিএমে ভোট দিতে না পেরে ফেরত যান, তাদের জন্য বিকল্প ভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সরকারি লোকজন যদি সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে পদত্যাগ করার সাহস ও দৃঢ়তা দেখাতে হবে। কমিশন এই দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

;