মোংলায় চিংড়ি ঘেরে গ্যাসের উদগীরণ, সংযোগ লাগিয়ে রান্নাবান্না



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বাগেরহাট
মোংলায় চিংড়ি ঘেরে গ্যাসের উদগীরণ, সংযোগ লাগিয়ে রান্নাবান্না

মোংলায় চিংড়ি ঘেরে গ্যাসের উদগীরণ, সংযোগ লাগিয়ে রান্নাবান্না

  • Font increase
  • Font Decrease

 

মোংলায় একটি চিংড়ি ঘের থেকে সপ্তাহখানেক ধরে এক ধরণের গ্যাসের প্রচন্ড উদগীরণ হচ্ছে। ঘেরটির বিভিন্ন জায়গা থেকে পানির ঊর্ধ্বমুখী গ্যাসের এ উদগীরণ দেখতে প্রতিদিন বহু লোকজন সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আনন্দ ও কৌতুল থাকলেও রয়েছে দুর্ঘটনার ভীতিও। এদিকে ঘের মালিক সেই গ্যাস দিয়ে কয়েকদিন ধরে রান্নাবান্নার কাজও করছেন।

উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাখালীর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার শেখের (৩৫) পৌনে তিন বিঘার চিংড়ি ঘেরের মাটির নিচ থেকে এ প্রাকৃতিক গ্যাসের উদগীরণ ঘটছে। গত সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের উদগীরণ ক্রমেই বাড়ছে। ঘেরটিট ৪টি জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত উঠছে এ গ্যাস। যদিও এ গ্যাস উদগীরণ হয়ে আসছে প্রায় ৬ বছর ধরে। তখন মুলত ঝই-ঝামেলা এড়িয়ে থাকার জন্যই বাড়ীর প্রকৃত মালিক হাজী আলতাফ শেখ বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্ত বছর দুই আগে মারা যান তিনি। এরপর পূর্বের ধারাবাহিকতায় গত এক সপ্তাহ ধরে সেই গ্যাসের উদগীরণ বেড়ে গেলে তার সেজো ছেলে দেলোয়ার শেখ (৩৫) তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন। উদগীরণস্থল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই গ্যাস দিয়ে গত তিনদিন ধরে রান্নাবান্নার কাজ করছেন দেলোয়ারের পরিবার।

দেলোয়ার বলেন, ঘেরের জমিতে ৬ বছর আগে মাটি উত্তোলনের জন্য মিনি ড্রেজারের পাইপ বসাতে গিয়েছিলাম। তখনই সেখান থেকে হঠাৎ প্রচুর গ্যাস বের হতে শুরু করে। সেই সময়ে সেই গ্যাসের প্রচন্ড চাপ ছিলো। পাইপের মাটি, পানি ও বালি প্রচন্ত বেগে ও বিকট শব্দে গুলির মত বের হতে থাকে। ভয়ে আমরা তখন মাটির ৬০ ফুট গভীরে ঢুকানো পাইপ তুলে ফেলি। তারপর থেকে এভাবে গ্যাস উঠতে থাকে। কিন্তু সপ্তাহখানেক ধরে বেশি বের হতে থাকে। এরপর এ গ্যাস কাজে লাগানোর জন্য বাজারের মোবাইল দোকানদার বাদশা মোড়লকে দিয়ে ড্রাম ও পাইপ দিয়ে গ্যাসের লাইন টেনে চুলায় রান্নার কাজ করছি।


দেলোয়ারের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন মিম বলেন, তিনদিন ধরে এই গ্যাস দিয়ে চুলায় রান্নাবান্না করছি। সিলিন্ডার গ্যাসের যেমন প্রেসার এ গ্যাসেও চুলায় প্রায় একই রকম প্রেসার। এ গ্যাস দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে ভাত, মাছ, ডাল ও সবজি রান্না করছি। বহু লোকজন প্রতিদিন দেখতে আসছে এ গ্যাস দিয়ে তাদেরকে চা খাওয়াচ্ছি।

মিঠাখালী বাজারের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান তান্ত্রিক টেলিকমের মালিক মোঃ বাদশা মোড়ল (৩৩) বলেন, দেলোয়ার এসে আমাকে তার ঘের থেকে গ্যাস উঠার কথা জানিয়ে কিভাবে এর ব্যবহার করা যায় তার ব্যবস্থার জন্য বলেন। পরে আমি গত সোমবার তার ঘেরের মধ্যে প্লাস্টিকের ৫০ লিটারের একটি ড্রাম বসিয়ে ও ১ ইঞ্চির পাইপ লাগিয়ে চুলায় সংযোগের ব্যবস্থা করে দিই। এর আগে পাইপের মুখে দিয়াশলাই দিয়ে দেখি আগুন জ্বলে কিনা। দিয়াশলাই দিতেই তাতে আগুন জ্বলে। সেই সংযোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে তার ঘরে পুরো রান্নার কাজ চলছে।

তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ, বিদ্যৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মোংলার আহবায়ক মোঃ নুর আলম শেখ বলেন, মাটির নীচের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ। জনগণের গ্যাস সম্পদ উত্তোলন-সংরক্ষণ ও বিতরণ করে দেশের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের দেলোয়ারের চিংড়ি ঘের থেকে তীব্র বেগে গ্যাসের উদগীরণ হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ লোকায়ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পাইপ দিয়ে গ্যাসের চুলার সাথে সংযোগ ঘটিয়ে রান্নাবান্না করছে। সরকারেরর কাছে গ্যাস অনুসন্ধানের দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স'র মাধ্যমে প্রয়োজনীয়পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করণীয় প্রদান করে এলাকার মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার অবসান ঘটানোর দাবী জানাচ্ছি।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি বাপেক্স'কে জানানো হবে। তারা কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা এসে গবেষণা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিককে চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতির বিরুদ্ধে। মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার ১৩ আগস্ট মিরসরাইয়ের বড় তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ১৪ আগস্ট রোববার হাসপাতালের মালিক জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিরসরাই থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে এ ঘটনায় কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো. কবির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন, মো. তুরিন (২৭), ইউসুফ (২৮),  মো. মাসুদ রানা (২৭),  আবির (৩৫), সোহেল মেম্বার (৩৫) ও মো. হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে তুরিন ও মাসুদ রানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতির পদ ছাড়াও মাসুদ মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও তুরিন ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাকিরা তাদের কর্মী।


জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট সকালে আমার স্বামী এবং আমার দুই মেয়ে মুনতাহা কারিনা বৃষ্টি (২০) এবং নুসরাত আফরিন বিথী (১৭) সহ আমাদের বড়জোর  তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাই। আমরা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুপুরে তুরিন ও মাসুদ সহ ৮/১০ জন হাসপাতালে ঢুকে আমার স্বামীকে একটা কক্ষে নিয়ে মারধর শুরু করে।'

স্বামীকে বাঁচাতে রুমে ঢুকার চেষ্টা করলে তাকে ও তার মেয়েদের গালিগালাজ করার অভিযোগ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমি এবং আমার দুই মেয়ে সহ আমার স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা আমাদেরকে রুমে প্রবেশ করতে না দিয়া উল্টো গালিগালাজ করে এবং আমাদেরকেও মারধর করা চেষ্টা করে।'

স্বামী জসিম উদ্দিনকে ওই রুমে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, 'তারা আমার স্বামীকে প্রায় তিন ঘন্টা অফিস কক্ষে মারধর করে। এসময় তারা বলে যে, আমার স্বামী নাকি হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট নাদিমা সুলতানাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তাকে ৩০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করত হবে। এ সময় আমার স্বামী নাদিমাকে তার সামনে এনে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করলে তারা বিয়ের বদল ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার প্রস্তাব দেয়।'

'পরে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে সে নাদিমাকে বিয়ে করবে এই মর্মে ৩০০ টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন তারা ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা হাসপাতাল ভাংচুর করবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আমরা মিরসরাই থানায় একটা মামলা দায়ের করেছি।'-- যোগ করেন সাবিনা ইয়াসমিন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি মিরসরাই।

;

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ।

এ উপলক্ষে সোমবার শোকাবহ ১৫ আগস্ট দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শোকের প্রতীক কালোব্যাজ ধারন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী।

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অশ্রুসিক্ত দিনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের রেক্টর প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এবং রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট নিয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মতিয়া খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সফল করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত বই এবং মহান নেতাকে নিয়ে লেখা অন্যান্য লেখকদের বইগুলো পাঠ করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। শোকাবহ দিনের অনুষ্ঠান শেষে রচনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।

;

আং‌শিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা, প্রতিমন্ত্রী বলছেন ‘স্লিপ অব টাঙ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুডিগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শোক দিবস উপলক্ষে আয়ো‌জিত দলীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেনের বক্তব্যের এক‌টি অং‌শ ‌নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃ‌ষ্টি হ‌য়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, 'এটা স্লিপ অব টাঙ'। তি‌নি পরক্ষণেই দুঃখ প্রকাশ ক‌রে তার বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছেন।

‌সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকা‌লে কু‌ড়িগ্রা‌মের রাজীবপুর উপ‌জেলা আওয়ামী লীগ আয়ো‌জিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ভুল বশত বলেন, আমরা কায়মনে তার (বঙ্গবন্ধু) জন্য দোয়া করবো, বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ যেন জাহান্নামের ভালো জায়গায় স্থান করে দেন।

তবে প্রতিমন্ত্রীর দা‌বি, ভুলবশত তার মুখ থেকে এমন বাক্য বের হয়ে‌ছিল। তি‌নি তৎক্ষণাত তা বুঝ‌তে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে‌ছেন এবং বক্তব্য সং‌শোধন ক‌রে বঙ্গবন্ধু‌কে জান্নাত দানের দোয়া করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হ‌লে প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেন ব‌লেন, 'ওটা স্লিপ অব টাঙ’। আ‌মি আজ তিন উপ‌জেলায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে‌ছি। ক্লা‌ন্তি ছিলাম, অ‌নিচ্ছাকৃত ভাবে জান্নাত শব্দের স্থলে জাহান্নাম বলে ফেলে‌ছি। সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য ঠিক ক‌রে‌ছি। বিষয়‌টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃ‌ষ্টির সুযোগ নেই।

এ‌ নিয়ে কোনও লি‌খিত সং‌শোধনী দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সং‌শোধনী দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আ‌মি সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছি।

অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত নেতাকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ভুলবশত মুখ ফসকে জাহান্নাম বললেও তি‌নি পরক্ষণে দুঃখ প্রকাশ করে তা সং‌শোধন করে বক্তব্য ঠিক করেছেন। কিন্তু এক‌টি পক্ষ তার বক্তব্যের ভুল অংশটুকু ‌কেটে নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রা‌ন্তি ছড়াচ্ছে। পুরো ভি‌ডিও প্রকাশ করলে বিষয়‌টি প‌রিষ্কার হতো।

এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার বলেন, বিষয়টি আসলেই স্লিপ অব টাঙ হয়েছে। তিনি পরক্ষণেই সংশোধিত বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হো‌সেন কু‌ড়িগ্রাম-৪ আস‌নের (‌রৌমারী,রাজীবপুর ও চিলমারী) সংসদ সদস‌্য। তি‌নি রৌমারী উপ‌জেলা আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি।

;

সাতজনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে নবদম্পতিসহ ৭ জন ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। বেঁচে রয়েছেন শুধু নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) ।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বর হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), কনে মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। শুধু বেঁচে গেছেন হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার
উত্তরার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতরা তিন নম্বর সেক্টরের বিআরটি প্রকল্প এলাকায় সিয়াম টাওয়ারের সামনে প্রাইভেটকারে ছিলেন। নির্মাণ কাজের ক্রেনের তার ছিঁড়ে গার্ডার পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

বিআরটি প্রকল্পের প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, এখনও গাড়িটি চাপা পড়ে আছে। ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে মারা যায় আরও একজন। গার্ডারের নিচে গাড়ির ভেতরে চাপা রয়েছেন, এর মালিক রুবেল, একজন নারী ও দুই শিশু।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, নিহত পাঁচজনের লাশ গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়ে রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

;