‘অনলাইনে গবাদিপশু ক্রয়ে যাতে কেউ প্রতারিত না হয়’



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, অনলাইনে গবাদিপশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয় সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। ডিজিটাল হাটের সাথে সম্পৃক্ত এটুআই, একশপ, ই-ক্যাবসহ অন্যান্য ফোরাম সম্মিলিতভাবে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে মানুষের আস্থা বাড়ে। যদি কেউ প্রতারিত হয়, তারা আগামী বছর এ প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হতে আগ্রহী থাকবে না।

রবিবার (৩ জুলাই) কোরবানির পশু বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'ডিজিটাল হাট ২০২২' (digitalhatt.gov.bd) এর অনলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই ও একশপ এবং ই-ক্যাব যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ঈদ-উল-আজহায় জরিপ অনুযায়ী ৯৭ লক্ষ ৭৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা মেটানোর জন্য ১ কোটি ২১ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৮৯ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনভাবে পশুর সংকট না হয়। একসময় ভারত-মিয়ানমার থেকে পশু না এলে কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে তার অন্যতম অধ্যায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত পশু বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনা নিয়ে একসময় নানা বিড়ম্বনা ও বিভিন্ন রকম প্রতিকূল অবস্থা ছিল। সেটা তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিকায়নের মাধ্যমে অনেক সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে পশু ক্রয়ের পর যদি কারো মনোপুত না হয়, সেক্ষেত্রেও তার প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের জন্য স্মার্ট কার্ডসহ অন্যান্য অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ডিজিটাল দেশে রূপান্তর হওয়ার দৃশ্যমান অবস্থা তুলে ধরেছে।

শ ম রেজাউল করিম আরও যোগ করেন, গতবছর অনলাইনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কারণে অনেকেই কোরবানির জন্য আগ্রহী হয়নি। এ বছর আশা করা হচ্ছে আরো বেশি গবাদিপশু বিক্রয় হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে ক্রয়কৃত গবাদিপশু পছন্দ না হলে ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে যাতে এটা সবার কল্যাণে কাজে লাগে এবং কেউ যেন কোনভাবে প্রতারণার শিকার না হয়। অনলাইন প্লাটফর্মে এবছর ভার্চুয়াল ক্যালকুলেটর নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এটি ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অনাহুত সমস্যা থেকে মুক্ত করবে এবং তাদের দুশ্চিন্তা দূর করবে।

তিনি আরও যোগ করেন, অনলাইনে আপলোডকৃত গবাদিপশুর মালিকানা, ঠিকানা, মালিকের মোবাইল নম্বর, পশুর বয়স, ওজন এবং ছবি সম্বলিত তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। আপলোডের ক্ষেত্রে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের ভেটারিনারী সার্জনরা সেবা প্রদান করবে। তাতে রোগাক্রান্ত ও কোরবানির অনুপযুক্ত পশু নির্ণয় করা যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। এক্ষেত্রে ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান অতিথি আরও জানান, অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হাসিল আদায় করা যাবে না। এ ক্ষেত্রকে ইজারা বহির্ভূত রাখা হবে এবং এ সংক্রান্ত হয়রানি রাতে কেউ না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি বাজারের বাইরে বাড়িতে বা রাস্তায় কেউ পশু বিক্রি করলে কোনভাবেই তাদের কাছ থেকে হাসিল বা চাঁদা আদায় করা যাবে না। কোরবানির পশু পরিবহনকারী যানবাহন সড়কে, সেতুতে এবং ফেরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অনলাইনে ক্রয়কৃত পশু আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে কেউ সমস্যার মুখোমুখি হলে তা সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যেন সমস্যার মুখোমুখি না হয় সেটা আমাদের লক্ষ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান ও এ এইচ এম শফিকুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি-২ প্রকল্পের পরিচালক আ ন ম গোলাম মহিউদ্দিন, ইউএনডিপি'র জাতীয় প্রকল্প ব্যাবস্থাপক কাজল চ্যাটার্জী, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল প্রমুখ। ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। ডিজিটাল হাট প্লাটফর্ম নিয়ে উপস্থাপন করেন এটুআই এর হেড অব ই-কমার্স রেজওয়ানুল হক জেমি।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিককে চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতির বিরুদ্ধে। মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার ১৩ আগস্ট মিরসরাইয়ের বড় তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ১৪ আগস্ট রোববার হাসপাতালের মালিক জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিরসরাই থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে এ ঘটনায় কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো. কবির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন, মো. তুরিন (২৭), ইউসুফ (২৮),  মো. মাসুদ রানা (২৭),  আবির (৩৫), সোহেল মেম্বার (৩৫) ও মো. হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে তুরিন ও মাসুদ রানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতির পদ ছাড়াও মাসুদ মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও তুরিন ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাকিরা তাদের কর্মী।


জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট সকালে আমার স্বামী এবং আমার দুই মেয়ে মুনতাহা কারিনা বৃষ্টি (২০) এবং নুসরাত আফরিন বিথী (১৭) সহ আমাদের বড়জোর  তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাই। আমরা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুপুরে তুরিন ও মাসুদ সহ ৮/১০ জন হাসপাতালে ঢুকে আমার স্বামীকে একটা কক্ষে নিয়ে মারধর শুরু করে।'

স্বামীকে বাঁচাতে রুমে ঢুকার চেষ্টা করলে তাকে ও তার মেয়েদের গালিগালাজ করার অভিযোগ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমি এবং আমার দুই মেয়ে সহ আমার স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা আমাদেরকে রুমে প্রবেশ করতে না দিয়া উল্টো গালিগালাজ করে এবং আমাদেরকেও মারধর করা চেষ্টা করে।'

স্বামী জসিম উদ্দিনকে ওই রুমে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, 'তারা আমার স্বামীকে প্রায় তিন ঘন্টা অফিস কক্ষে মারধর করে। এসময় তারা বলে যে, আমার স্বামী নাকি হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট নাদিমা সুলতানাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তাকে ৩০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করত হবে। এ সময় আমার স্বামী নাদিমাকে তার সামনে এনে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করলে তারা বিয়ের বদল ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার প্রস্তাব দেয়।'

'পরে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে সে নাদিমাকে বিয়ে করবে এই মর্মে ৩০০ টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন তারা ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা হাসপাতাল ভাংচুর করবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আমরা মিরসরাই থানায় একটা মামলা দায়ের করেছি।'-- যোগ করেন সাবিনা ইয়াসমিন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি মিরসরাই।

;

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ।

এ উপলক্ষে সোমবার শোকাবহ ১৫ আগস্ট দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শোকের প্রতীক কালোব্যাজ ধারন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী।

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অশ্রুসিক্ত দিনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের রেক্টর প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এবং রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট নিয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মতিয়া খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সফল করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত বই এবং মহান নেতাকে নিয়ে লেখা অন্যান্য লেখকদের বইগুলো পাঠ করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। শোকাবহ দিনের অনুষ্ঠান শেষে রচনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।

;

আং‌শিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা, প্রতিমন্ত্রী বলছেন ‘স্লিপ অব টাঙ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুডিগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শোক দিবস উপলক্ষে আয়ো‌জিত দলীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেনের বক্তব্যের এক‌টি অং‌শ ‌নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃ‌ষ্টি হ‌য়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, 'এটা স্লিপ অব টাঙ'। তি‌নি পরক্ষণেই দুঃখ প্রকাশ ক‌রে তার বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছেন।

‌সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকা‌লে কু‌ড়িগ্রা‌মের রাজীবপুর উপ‌জেলা আওয়ামী লীগ আয়ো‌জিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ভুল বশত বলেন, আমরা কায়মনে তার (বঙ্গবন্ধু) জন্য দোয়া করবো, বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ যেন জাহান্নামের ভালো জায়গায় স্থান করে দেন।

তবে প্রতিমন্ত্রীর দা‌বি, ভুলবশত তার মুখ থেকে এমন বাক্য বের হয়ে‌ছিল। তি‌নি তৎক্ষণাত তা বুঝ‌তে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে‌ছেন এবং বক্তব্য সং‌শোধন ক‌রে বঙ্গবন্ধু‌কে জান্নাত দানের দোয়া করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হ‌লে প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেন ব‌লেন, 'ওটা স্লিপ অব টাঙ’। আ‌মি আজ তিন উপ‌জেলায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে‌ছি। ক্লা‌ন্তি ছিলাম, অ‌নিচ্ছাকৃত ভাবে জান্নাত শব্দের স্থলে জাহান্নাম বলে ফেলে‌ছি। সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য ঠিক ক‌রে‌ছি। বিষয়‌টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃ‌ষ্টির সুযোগ নেই।

এ‌ নিয়ে কোনও লি‌খিত সং‌শোধনী দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সং‌শোধনী দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আ‌মি সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছি।

অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত নেতাকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ভুলবশত মুখ ফসকে জাহান্নাম বললেও তি‌নি পরক্ষণে দুঃখ প্রকাশ করে তা সং‌শোধন করে বক্তব্য ঠিক করেছেন। কিন্তু এক‌টি পক্ষ তার বক্তব্যের ভুল অংশটুকু ‌কেটে নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রা‌ন্তি ছড়াচ্ছে। পুরো ভি‌ডিও প্রকাশ করলে বিষয়‌টি প‌রিষ্কার হতো।

এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার বলেন, বিষয়টি আসলেই স্লিপ অব টাঙ হয়েছে। তিনি পরক্ষণেই সংশোধিত বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হো‌সেন কু‌ড়িগ্রাম-৪ আস‌নের (‌রৌমারী,রাজীবপুর ও চিলমারী) সংসদ সদস‌্য। তি‌নি রৌমারী উপ‌জেলা আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি।

;

সাতজনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে নবদম্পতিসহ ৭ জন ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। বেঁচে রয়েছেন শুধু নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) ।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বর হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), কনে মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। শুধু বেঁচে গেছেন হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার
উত্তরার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতরা তিন নম্বর সেক্টরের বিআরটি প্রকল্প এলাকায় সিয়াম টাওয়ারের সামনে প্রাইভেটকারে ছিলেন। নির্মাণ কাজের ক্রেনের তার ছিঁড়ে গার্ডার পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

বিআরটি প্রকল্পের প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, এখনও গাড়িটি চাপা পড়ে আছে। ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে মারা যায় আরও একজন। গার্ডারের নিচে গাড়ির ভেতরে চাপা রয়েছেন, এর মালিক রুবেল, একজন নারী ও দুই শিশু।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, নিহত পাঁচজনের লাশ গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়ে রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

;