জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নির্বাচনের ইতিহাসে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)-এর নির্বাচনকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তাঁর সরকার জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখনে মানুষ কেবল স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকারই প্রয়োগ করেনি নির্বাচনটাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের ইতিহাসে এটা একটা দৃষ্টান্ত।’

জনসাধারণ যাতে তাদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশেরই মধ্যেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিহিত।

প্রধানমন্ত্রী আজ অপরাহ্নে কুসিক-এর নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে এবং তাদের প্রতি যথাযখ ভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার জন্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটা চাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রতি আপনার যে কর্তব্য ও  দায়িত্ব রয়েছে তা আপনারা যথাযথভাবে পালন করবেন, যাতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আপনাদের উপর থাকে।

তিনি বলেন, যে বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে ভোট দিয়েছে সেই বিশ্বাসে যেন কখনো চিড় না ধরে, সেই বিশ্বাস যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই বিশ্বাসকে ধরে রেখে আরো বিশ্বাস যাতে অর্জন করতে পারেন সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী আরফানুল হত রিফাতকে ভার্চুয়ালি শপথ বাক্য পাঠ করান। অন্যদিকে, সংরক্ষিত আসনের নয় জন মহিলাসহ ৩৬ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ মূলত প্রযুক্তিনির্ভর এবং বেশিরভাগ দেশই তাদের নির্বাচনে প্রযুক্তি ও নির্বাচনী ভোটিং মেশিন ব্যবহার করছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ যেন তাদের ভোটের অধিকারটা উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে যা যা করার আওয়ামী লীগ সরকার করে যাচ্ছে। কেননা, আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে এবং দলটির প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।

তিনি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রতিস্থাপন, ছবিসহ নির্বাচনী ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ভোটার তালিকা থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন ব্যাবস্থাকে স্বচ্ছ ও যুগোপযোগীকরণে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় মহাজোটের অবদানের কথার স্মরণ করেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ের সামরিক সরকারের অধীনে এদেশে সংঘটিত নির্বাচনের নামে প্রহসন এবং জিয়াউর রহমানের বিতর্কিত, ‘হ্যাঁ’ ‘ন’া ভোট, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনসহ খালেদা জিয়ার ২০০৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে জানিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রায় ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয় বলেও জানান সরকার প্রধান।

‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার পলিসি’তে তাঁর সরকার বিশ^াসী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনি এমনও দেখেছেন নিজের দেশের অর্থ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে আবার কমিশন খেয়ে অর্থ নিয়ে আসছে। কিন্তু, এই টাকা তো জনগণের টাকা।

 দেশে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের আগে মানুষ কিভাবে তার সুফল পাবে সেটা বিবেচনায় রাখা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোপূর্বে তাঁর সরকার কুমিল্লার টেকসই উন্নয়নে ১ হাজার ৫শ’ ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যদিও সে সময় কুমিল্লার মেয়র অন্য দলের ছিল।

তিনি বলেন, মেয়র কোন দলের আমরা সেটা দেখি নাই আমরা কুমিল্লার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছি।

তিনি প্রকল্প গ্রহণকালে সেটা যেন জনগণের উপযোগী হয়, সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু একটা অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গড়ে তোলা না। এর মাধ্যমে জনগণের কি লাভ হবে, এর মধ্যদিয়ে আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখতে পারছি বা ওই এলাকার উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখতে পারছি। সেটাই বিবেচ্য হতে হবে।

কুমিল্লা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ সংক্রান্ত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি কথা মাথায় রাখুন আপনি যদি সততার সাথে কাজ করেন তাহলে জনগণ সুফল পাবে এবং জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারলে এমনিতেই তারা আপনাকে ভোট দেবে।

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি-পেট্রোল ও ডিজেল-এবং বিদ্যুতসহ দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেন।

তিনি জনগণকে আরও ফসল ফলানোর জন্য এবং এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার আহ্বান জানান। কারণ, বিশে^র অনেক দেশই এখন খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।

 কোভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন তরঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য প্রোটোকল অনুসরণ করতে এবং করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিতে বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই বিজয়ী জাতি হিসেবে এদেশে সকল মানুষ তার সকল রকম অধিকার ভোগ করবে। তাদের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার নিশ্চিত হবে।

তাছাড়াও, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একেবারে অনগ্রসর জাতিসহ সকলের কল্যাণে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করি। আমরা চাই, বাংলাদেশ সব সময় এই অসাম্প্রদায়িক চেতনায়ই গড়ে উঠবে। সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে, সেটা আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফেও দেওয়া আছে। সেটা হল, কেউ কারো ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত দেবে না বা ধর্ম পালনে বাঁধা-নিষেধ দেবে না।

বাংলাদেশ সেই চেতনায়ই বিশ্বাস করে এবং সেই চেতনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিককে চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতির বিরুদ্ধে। মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার ১৩ আগস্ট মিরসরাইয়ের বড় তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ১৪ আগস্ট রোববার হাসপাতালের মালিক জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিরসরাই থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে এ ঘটনায় কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো. কবির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন, মো. তুরিন (২৭), ইউসুফ (২৮),  মো. মাসুদ রানা (২৭),  আবির (৩৫), সোহেল মেম্বার (৩৫) ও মো. হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে তুরিন ও মাসুদ রানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতির পদ ছাড়াও মাসুদ মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও তুরিন ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাকিরা তাদের কর্মী।


জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট সকালে আমার স্বামী এবং আমার দুই মেয়ে মুনতাহা কারিনা বৃষ্টি (২০) এবং নুসরাত আফরিন বিথী (১৭) সহ আমাদের বড়জোর  তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাই। আমরা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুপুরে তুরিন ও মাসুদ সহ ৮/১০ জন হাসপাতালে ঢুকে আমার স্বামীকে একটা কক্ষে নিয়ে মারধর শুরু করে।'

স্বামীকে বাঁচাতে রুমে ঢুকার চেষ্টা করলে তাকে ও তার মেয়েদের গালিগালাজ করার অভিযোগ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমি এবং আমার দুই মেয়ে সহ আমার স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা আমাদেরকে রুমে প্রবেশ করতে না দিয়া উল্টো গালিগালাজ করে এবং আমাদেরকেও মারধর করা চেষ্টা করে।'

স্বামী জসিম উদ্দিনকে ওই রুমে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, 'তারা আমার স্বামীকে প্রায় তিন ঘন্টা অফিস কক্ষে মারধর করে। এসময় তারা বলে যে, আমার স্বামী নাকি হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট নাদিমা সুলতানাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তাকে ৩০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করত হবে। এ সময় আমার স্বামী নাদিমাকে তার সামনে এনে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করলে তারা বিয়ের বদল ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার প্রস্তাব দেয়।'

'পরে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে সে নাদিমাকে বিয়ে করবে এই মর্মে ৩০০ টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন তারা ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা হাসপাতাল ভাংচুর করবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আমরা মিরসরাই থানায় একটা মামলা দায়ের করেছি।'-- যোগ করেন সাবিনা ইয়াসমিন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি মিরসরাই।

;

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ।

এ উপলক্ষে সোমবার শোকাবহ ১৫ আগস্ট দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শোকের প্রতীক কালোব্যাজ ধারন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী।

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অশ্রুসিক্ত দিনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের রেক্টর প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এবং রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট নিয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মতিয়া খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সফল করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত বই এবং মহান নেতাকে নিয়ে লেখা অন্যান্য লেখকদের বইগুলো পাঠ করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। শোকাবহ দিনের অনুষ্ঠান শেষে রচনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।

;

আং‌শিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা, প্রতিমন্ত্রী বলছেন ‘স্লিপ অব টাঙ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুডিগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শোক দিবস উপলক্ষে আয়ো‌জিত দলীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেনের বক্তব্যের এক‌টি অং‌শ ‌নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃ‌ষ্টি হ‌য়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, 'এটা স্লিপ অব টাঙ'। তি‌নি পরক্ষণেই দুঃখ প্রকাশ ক‌রে তার বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছেন।

‌সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকা‌লে কু‌ড়িগ্রা‌মের রাজীবপুর উপ‌জেলা আওয়ামী লীগ আয়ো‌জিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ভুল বশত বলেন, আমরা কায়মনে তার (বঙ্গবন্ধু) জন্য দোয়া করবো, বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ যেন জাহান্নামের ভালো জায়গায় স্থান করে দেন।

তবে প্রতিমন্ত্রীর দা‌বি, ভুলবশত তার মুখ থেকে এমন বাক্য বের হয়ে‌ছিল। তি‌নি তৎক্ষণাত তা বুঝ‌তে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে‌ছেন এবং বক্তব্য সং‌শোধন ক‌রে বঙ্গবন্ধু‌কে জান্নাত দানের দোয়া করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হ‌লে প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেন ব‌লেন, 'ওটা স্লিপ অব টাঙ’। আ‌মি আজ তিন উপ‌জেলায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে‌ছি। ক্লা‌ন্তি ছিলাম, অ‌নিচ্ছাকৃত ভাবে জান্নাত শব্দের স্থলে জাহান্নাম বলে ফেলে‌ছি। সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য ঠিক ক‌রে‌ছি। বিষয়‌টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃ‌ষ্টির সুযোগ নেই।

এ‌ নিয়ে কোনও লি‌খিত সং‌শোধনী দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সং‌শোধনী দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আ‌মি সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছি।

অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত নেতাকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ভুলবশত মুখ ফসকে জাহান্নাম বললেও তি‌নি পরক্ষণে দুঃখ প্রকাশ করে তা সং‌শোধন করে বক্তব্য ঠিক করেছেন। কিন্তু এক‌টি পক্ষ তার বক্তব্যের ভুল অংশটুকু ‌কেটে নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রা‌ন্তি ছড়াচ্ছে। পুরো ভি‌ডিও প্রকাশ করলে বিষয়‌টি প‌রিষ্কার হতো।

এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার বলেন, বিষয়টি আসলেই স্লিপ অব টাঙ হয়েছে। তিনি পরক্ষণেই সংশোধিত বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হো‌সেন কু‌ড়িগ্রাম-৪ আস‌নের (‌রৌমারী,রাজীবপুর ও চিলমারী) সংসদ সদস‌্য। তি‌নি রৌমারী উপ‌জেলা আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি।

;

সাতজনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে নবদম্পতিসহ ৭ জন ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। বেঁচে রয়েছেন শুধু নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) ।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বর হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), কনে মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। শুধু বেঁচে গেছেন হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার
উত্তরার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতরা তিন নম্বর সেক্টরের বিআরটি প্রকল্প এলাকায় সিয়াম টাওয়ারের সামনে প্রাইভেটকারে ছিলেন। নির্মাণ কাজের ক্রেনের তার ছিঁড়ে গার্ডার পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

বিআরটি প্রকল্পের প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, এখনও গাড়িটি চাপা পড়ে আছে। ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে মারা যায় আরও একজন। গার্ডারের নিচে গাড়ির ভেতরে চাপা রয়েছেন, এর মালিক রুবেল, একজন নারী ও দুই শিশু।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, নিহত পাঁচজনের লাশ গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়ে রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

;