ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ভোলা
ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক

ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারা গেছেন। পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী। বিদ্যুতের লোডশেডিং ও দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে ভোলা জেলা বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে বিএনপি পুলিশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ ১১জনকে আটক করেছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলা জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রবিবার সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ে এসে ঝড় হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি যখন বিক্ষোভ মিছিল বের করতে উদ্যত হয় তখন পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি মিছিল বের করতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, পুলিশ বিনা কারণে বিএনপির মিছিলে হামলা করে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আবদুর রহীম মারা যায়। আহত হয় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। 

এই ঘটনায় ভোলা জেলা বিএনপি তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন ডাকে। দুপুর ২টায় জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে ঘটনা তুলে ধরেন এবং ভোলার আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার জন্য পুলিশকে দায়ী করেন। গোলাম নবী আলমগীর বলেন, তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিং এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আমরা রবিবার সকালে ভোলা জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে গেলে বিএনপি অফিসের সামনেই রাস্তার উপর পুলিশ বাঁধা সৃষ্টি করে। পুলিশ বিনা কারণে ভোলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা করেছে।

হামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিতসার জন্য বরিশাল ও ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই এ ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চায় না। পুলিশ নিজেরাই পরিস্থিতি ঘোলা করছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হেলাল উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আমিনসহ জেলা নেতৃবৃন্দ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরহাদ সরদার বলেন, সমাবেশ শান্তিপূর্ণই ছিলো। কিন্তু সমাবেশ শেষে মিছিল করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে পড়ে। পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল নিক্ষেপ শেষে গুলি চালায়। এতে ১০জন পুলিশ এবং বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। একজন মারাও যায়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে ভোলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিএনপি সভাপতির বাড়ীসহ মহাজনপট্টি ও কালিনাথ বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সির ডাক্তার নাফিজা তাসলিম ঐশি বলেন, আমাদের এখানে যেসব রোগী ভর্তি হয়েছে, তাদের অধিকাংশ রোগীই গুলিবিদ্ধ। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আরও কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে বরিশালে রেফার করা হয়েছে।

৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ বুধবার। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় ৫শ’ পয়েন্টে বোমা হামলায় দু’জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দফতর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি। যারমধ্যে ১৪২টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়। এসব মামলায় এজাহারভূক্ত আসামি ছিল ১৩০ জন। গ্রেফতার করা হয় ৯৬১ জনকে। ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। যার আসামি সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন। এই সিরিজ বোমা হামলার রায় প্রদান করা মামলাগুলোর ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এরমধ্যে ৮ জনের ফাঁসি ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন, আর জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি। এছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

বিএনপি-জামায়াতের শাসন আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬) সরকারি এমপি মন্ত্রীদের সরাসরি মদদে সারাদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা।২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। ওই বছরের ৩ অক্টোবরে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতী এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইজনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। আত্মঘাতী হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয় ।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিষ্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুর পাড় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দু’নেতাসহ ৮ জন নিহত হন। শতাধিক আহত হন ।

;

ব্রিটিশ আভিজাত্যের চট্টগ্রাম ক্লাবে দেশি ঐতিহ্য নিষিদ্ধ!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককে একবার দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো তারা। এই তারা হলো চট্টগ্রাম ক্লাব। যাদের পরিচিতি এশিয়ার প্রাচীনতম অভিজাত ক্লাব হিসেবে। তারা চট্টগ্রামের অন্যতম সংবাদ ব্যক্তিত্ব আবদুল খালেককে ক্লাবে ঢুকতে দেয়নি আভিজাত্য ভাঙবে না বলে। কারণ, খালেক সাহেবের পরনে নাকি পাঞ্জাবি ছিলো। এ পোশাক বাঙালির ঐতিহ্য হলেও ব্রিটিশ নিয়মে গড়া চট্টগ্রাম ক্লাবের ড্রেস কোডে নিষিদ্ধ। আজাদী সম্পাদক অবশ্য তার স্বকীয়তা বিসর্জন দেননি। আর কখনোই চট্টগ্রাম ক্লাবমুখী হননি তিনি।

তার মতো অনেকেই পাঞ্জাবি পরার কারণে ক্লাব গেট থেকে অপমানিত হয়ে ফিরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে প্রাইম ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দেশের স্বনামধন্য একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান। পাঞ্জাবি পরায় তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো। পাঞ্জাবি পরায় একজন ব্যবসায়ীকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মিজানুর রহমান তখন বলেছিলেন, ভেন্যু ভাড়ার সময় আমাদের ড্রেসকোডের বিষয়ে বলা হয়নি। স্বাধীন দেশে ব্রিটিশদের গোলামি নিয়ম থাকা উচিত নয়; পরিবর্তন করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর আক্ষেপ আরও বড়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্লাব অনেকাংশে ভূমিদস‍্যু ও নষ্ট মাফিয়াদের দখলে। আমি আর যাই না সেখানে। এখন আমার সদস্যপদও নেই। ঘৃণা, প্রচণ্ড ঘৃণা তাদের প্রতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে সামাজিক ক্লাব হিসেবে ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রতিষ্ঠা। সামাজিক সংগঠন হিসেবে ইউরোপিয়ানরা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই ক্লাবে ইউরোপিয়ানরাই কেবল সদস্য হতে পারতেন। ফলে তাদের সংস্কৃতি ও আচারঘনিষ্ঠ নিয়মই চলত। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা বিতাড়িত হলে পাকিস্তানিরা নিয়ন্ত্রণ নেয়; কিন্তু সেখানেও বাঙালিদের সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল না। নিয়ম-কানুনেও পরিবর্তন আনেনি। তারা কাবুলি পরার কারণে পাঞ্জাবিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পোশাক মনে করত। ফলে তারাও বাঙালির ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মূল্য দেয়নি।

ব্রিটিশদের বিতাড়ন এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ব্রিটিশদের কালো নিয়ম ও ভোগবাদী মনোভাব থেকে বের হতে পারেনি ক্লাবটি। বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতি ও জীবনাচারকে উপেক্ষা করে এখনো লাটদের বানানো নিয়ম মানতে হয় ক্লাবের সদস্য ও আগত অতিথিদের, যা বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্লাবের সদস্য এবং অতিথিদের নির্ধারিত ড্রেসকোড পরে ক্লাবে আসতে হয়। টি-শার্ট ও শার্টের সঙ্গে পরতে হবে ফরমাল সু বা ক্লাব নির্দেশিত স্যান্ডেল। তবে পাঞ্জাবি পরে প্রবেশ করতে পারবে না। ড্রেসকোড না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড ও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ক্লাবের বাই-লজ অনুযায়ী ক্লাব পরিচালিত হয়। সেটাতে পরিবর্তন আনতে হলে ইজিএমের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচিত কমিটি বাই-লজে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ ছালাম বলেন, ক্লাবটি ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেক নিয়ম টেনে নিয়ে যাচ্ছি। ড্রেসকোডও সে রকম একটি। তবে চাইলে এ নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। ঢাকা ক্লাব নিয়ম পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি অ্যালাউ করেছে।

তবে ক্লাবের বর্তমান চেয়ারম্যান নাদের খান বলছেন, ড্রেসকোড থাকতেই পারে। ১৪৪ বছর আগে ব্রিটিশরা সামাজিক ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের নিয়ম-কানুন এখনো চলছে। সন্ধ্যা ৭টার পরে ক্লাবে আসতে হলে ড্রেসকোড মানতেই হবে। মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং বাই-লজের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়ম বাতিল করা জরুরি। ড্রেসকোড থাকতেই পারে। কিন্তু বাঙালির সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নিয়ম থাকা উচিত নয়। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার পর ক্লাব ড্রেসকোড মানতে বাধ্য করতে পারে না। ব্রিটিশ আমলের অনেক আগে থেকেই পাঞ্জাবি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক। বর্তমানেও বাঙালির অঘোষিত জাতীয় পোশাক পাঞ্জাবি। পহেলা বৈশাখ, ঈদ-পূজা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জানাজায় পাঞ্জাবি পরা হয়। এদেশের প্রধান পোশাক পরে ক্লাবে কেন যেতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত জাতীয় শোক দিবসের আগে গত ১১ আগস্ট ভারতীয় শিল্পী এনে গানের জলসা আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সমালোচনার তোপে পড়ে চট্টগ্রাম ক্লাব। পরে বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এছাড়া ক্লাবটির মদের বার থেকে বিভিন্ন জায়গায় মদ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মদ খেয়ে ভ্যাট না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

;

আজ কোথায় কখন লোডশেডিং



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির জন্য দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক আজও লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারের (১৭ আগস্ট) তালিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউসন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর ওয়েবাসাইটের নির্দিষ্ট লিংককে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পারবেন গ্রাহকরা।

আজকে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর সূচি দেওয়া হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক।

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

http://www.wzpdcl.org.bd/

https://nesco.portal.gov.bd/site/page/13ccd456-1e1d-4b24-828d-5811a856f107

http://reb.portal.gov.bd/site/page/c65ac273-d051-416f-9a93-5cd300079047

https://bpdb.portal.gov.bd/site/page/cafea028-95e6-4fca-8fea-e4415aef9a60

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

জ্বালানি সাশ্রয়ে উচ্চ ব্যয়ের ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ সংকটে দেশজুড়ে প্রতিদিন সূচি ধরে কোথাও এক ঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা শুরু হয় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে।

এর আগে ১৮ জুলাই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

;

‘খুনিরা বিদেশেও শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, পনের আগস্ট ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পিছনে যেসব খুনিরা ছিলো, তারা বিদেশেও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু তখন তারা যে দেশে ছিলেন, সে দেশের সরকার তা প্রতিহত করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

ড. গওহর রিজভী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। কোনো কোনোটি ছিল ব্যক্তি বিশেষের ষড়যন্ত্র, কোনোটির পিছনে ছিল সম্মিলিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার গোড়াপত্তন করেছিলেন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়াই ছিলো খুনিদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এসবের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। যথাযথ সময়ে সেসব প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম সোমবার রয়্যাল বা’রা অব কেনজিংটনের একটি হোটেলে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক শ্যাডো মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়স্ট এমপি এবং অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশের ভাইস চেয়ার লর্ড শেখ । অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে গঠিত স্টুডেন্ট একশন কমিটির অন্যতম সদস্য সৈয়দ মোজাম্মেল আলী।

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম তার স্মারক বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে তার অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র ছিলো পূর্বপরিকল্পিত। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড মানব ইতিহাসের নজিরবিহীন বর্বরতার ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন যা আব্রাহাম লিঙ্কন, মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং এবং জন এফ কেনেডি’র মতো অন্যান্য সমসাময়িক নেতাদের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বার্তা পাঠ করে শোনানো হয় এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেওয়া বিরোধীদলীয় ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কেয়ার স্টারমারের ভিডিও বার্তা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্মীত বঙ্গবন্ধুর ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

হাইকমিশনার অতিথিদের নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্মারক প্রকাশনা ‘বঙ্গবন্ধু-দ্য ফ্রেন্ড অব বেঙ্গল’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ঊর্মি মাজহার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (পলিটিক্স) দেওয়ান মাহমুদুল হক বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি নিবেদিত বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রখ্যাত কবিতা “সেই রাত্রির কল্পকাহিনী” আবৃত্তি করেন।

;