অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে মেয়েকে হত্যা করেন বাবা!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের পীরগাছায় মাটির নিচে পুতে রাখা এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৭ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়েই মেয়েকে হত্যা করেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা রফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশ ।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই নয়াটারি এলাকার একটি সমতল জমিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি সংলগ্ন জায়গায় উঁচু মাটির ঢিবি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত এক নারীর মাথা দেখতে পায় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে মাটির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেদিনই লাশটি নিজের বোন লিপির বলে দাবি করে উপজেলার অনন্তরাম (বড়বাড়ি) এলাকার শামীম মিয়া। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য তার বাবা রফিকুল ইসলামকে থানায় ডাকেন। কিন্তু তিনি মামলা দায়ের না করার জন্য গড়িমশি শুরু করেন। তবে একপর্যায়ে তিনি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলেও সন্দেহ বেড়ে যায় পুলিশের। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে লিপির অবস্থান বাড়িতেই ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম ও ভাই শামীমসহ পরিবারের চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এক পর্যায়ে মেয়েকে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই হত্যা করেন বলে স্বীকার করে রফিকুল ইসলাম।

মেয়ে হত্যার বিষয়ে আদালতে রফিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে এএসপি আশরাফুল ইসলাম পলাশ জানান, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু সেই বিয়ে টিকেনি। এরপর এলাকায় এসে মাদকের ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে মেয়ে। এনিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক কর্মের জন্য ঢাকার সাভারে পাঠানো হয়। সেখানে সে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। সর্বশেষ গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে বাড়িতে আসলে মেয়ে গর্ভবতী বলে জানতে পায় বাবা রফিকুল ইসলাম। এতে তিনি লোকলজ্জার ভয়ে মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে গত ২২ জুলাই রাত ১টার দিকে মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর বাড়ির পাশের জমিতে পুতে রাখা হয় লাশ। কিন্তু কেউ যদি দেখে ফেলে এই ভয়ে দুইদিন পর লাশ তুলে দূরে নিয়ে গিয়ে পুতে রাখা হয়।
এঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালসহ আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত রফিকুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে বারভিডা নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন 



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে বারভিডা নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে বারভিডা নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন 

  • Font increase
  • Font Decrease

বারভিডার (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি গতকাল বিকেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বারভিডা প্রেসিডেন্ট  মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন এর নেতৃত্বে এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ শোকাবহ আগস্ট মাসে ধানমন্ডি ৩২ এ দেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বারভিডা প্রেসিডেন্ট মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন, সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ১ মোঃ আসলাম সেরনিয়াবাত, ভাইস প্রেসিডেন্ট ২ রিয়াজ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ৩ মোঃ গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জয়েন্ট ট্রেজারার মোঃ সাইফুল আলম, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডা. হাবিবুর রহমান খান, পাবলিকেশন অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মোঃ জসিম উদ্দিন, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি  মোঃ আব্দুল আউয়াল এবং কালচারাল সেক্রেটারি জোবায়ের রহমান জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব জাফর আহমেদ, এ. বি. সিদ্দিক (আবু), আবু হোসেন ভূইয়া রানু, মোঃ রায়হান আজাদ (টিটো) এবং মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবরও বারভিডা প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

;

মোংলায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, আটক ৩



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, আটক ৩

মোংলায় মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, আটক ৩

  • Font increase
  • Font Decrease

মোংলায় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মন্দিরের সামনের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শনিবারের হট্টগোল থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর সার্বজনীন মন্দিরে থাকা দুইটি প্রতিমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আংশিক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে মন্দির মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। ওই মন্দিরটির সামনের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মন্দির সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে খেলতে আসা শিশু কিশোরদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়ে আসছিলো কয়েকদিন ধরেই। মন্দির কমিটির লোকজন মন্দিরের সামনের মাঠে ফুটবল খেলতে নিষেধ করে এলাকার ছেলেদেরকে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় ছেলেরা ওই মাঠে খেলতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় মন্দির সংশ্লিষ্টরা। এনিয়ে সেখানে অনেক উচ্চবাক্য ও বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় উভয়পক্ষই একে অপরকে হুমকি ধামকি দেন। পরে খেলতে আসা ছেলেরা সেখান থেকে চলে যায়। এরপর গত গভীর রাতে ওই মন্দিরটিতে থাকা কালি ও গণেশ মূর্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আংশিক অংশ ভাংচুর হয়েছে। খেলা ছাড়াও অন্য কোন কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা তার অনুসন্ধান চলছে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পিযুষ মজুমদার বলেন, শুনেছি শনিবার বিকেলে কানাইনগর মন্দিরের সামনের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে মন্দির কমিটি ও খেলাতে আসা ছেলেদের মাঝে ঝগড়াঝাটি হয়েছিলো। সেই কারণে কিংবা অন্য কারণেও এ প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ এলাকায় এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও জানান তিনি।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ছিলেন মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবালও। ওসি মনিরুল আরো বলেন, মন্দিরের সামনের মাঠে ফুটবল খেলতে নিষেধ করলে শনিবার বিকেলে দুইপক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। খেলতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো তিনজনকে জিজ্ঞেসাবাদের পর আটক দেখানো হয়েছে। তারা হলেন কানাইনগর গ্রামের শহিদ চৌধুরীর ছেলে রাহাত চৌধুরী (২০), মৃত হাবিব মুন্সীর ছেলে নয়ন মল্লিক (২৪) ও জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আসিফ খান (২২) । প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। তাছাড়া অন্য কোন কারণ থাকতে পারে কিনা তা নিয়েও পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।

;

লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দোটানায় মালিকরা, প্রস্তাব নৌ মন্ত্রণালয়ে



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দোটানায় মালিকরা, প্রস্তাব নৌ মন্ত্রণালয়ে

লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দোটানায় মালিকরা, প্রস্তাব নৌ মন্ত্রণালয়ে

  • Font increase
  • Font Decrease

 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দোটানায় রয়েছেন নৌযান মালিকরা। একদিকে পদ্মাসেতুর কারণে ব্যবসায় মন্দা রয়েছে। নৌযানে যাত্রী কমেছে ৫০-৬০ শতাংশ। তার ওপরে বৃদ্ধি করা জ্বালানি তেলের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি করলে লঞ্চের ভাড়া আরো বেড়ে যাবে। এতে যাত্রী সংখ্যা আরো কমার শঙ্কা রয়েছে।

নৌপরিবহণ মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় নৌযান মালিকরা নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দু এক দিনের মধ্যে দেশে আসলে মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওযা হবে।

অন্যদিকে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে লঞ্চ মালিকরা এখনো কোনো প্রস্তাব দেননি। তারা প্রস্তাব দিলে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বাদল বার্তা২৪.কম কে জানান,  মন্ত্রী ও টিএর চোয়ারম্যান এখন দেশের বাইরে রযেছেন। তারা দেশে আসলেই সিদ্ধান্ত। তবে আমরা আমাদের প্রস্তাব মন্ত্রী ও টিএর চেয়ারম্যানের দফতরে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন, ও অকটেনের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলে ৩৪ টাকা, কেরোসিনে ৩৪ টাকা, অকটেনে ৪৬ টাকা, পেট্রলে ৪৪ টাকা বেড়েছে। আগে ভোক্তাপর্যায়ে খুচরামূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা। তবে দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রল।

শনিবার (৬ আগস্ট) ‘জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়: পরিবহন সেক্টরে তার প্রভাব’ নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ধারণা দিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২৯ পয়সা ও লঞ্চভাড়া ৪২ পয়সা বাড়তে পারে।

তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসে ভাড়া ৩৫ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দূরপাল্লায় বাসভাড়া বেড়েছে ৪০ পয়সা। ভাড়া বাড়ানোর পর মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাসে ২ টাকা ৫০ পয়সা, মিনিবাসে ২ টাকা ৪০ পয়সা ভাড়া দিতে হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসে ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব ও রাবেয়া শিপং লাইন্সের স্বত্তাধিকারী শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া  বার্তা২৪.কম কে জানান, ‘আগামী ১১ আগস্ট ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মিটিং আছে। আমরা প্রস্তাব সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, এমনিতেই আমাদের দুরাবস্থা। পদ্মা সেতু হওয়ার পর আমরা যাত্রী পাচ্ছি না। পদ্মা সেতু আমাদের পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন ৮০ শতাংশ কেবিন খালি রেখেই লঞ্চ চলাচল করছে। আর ডেকের যাত্রী ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এখন যদি আবার ভাড়া বাড়ে, তখন কী হবে? চিন্তা করছি- আমরা কী করবো?’

;

নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় বাড়ছে দাম



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় বাড়ছে দাম

নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় বাড়ছে দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও আশানুরূপ ইলিশের দেখা মিলছে না নদীতে। নদীর ইলিশের স্বাদ নিতে অপেক্ষা করতে হবে আরো দু'মাস। সমুদ্র থেকে মিঠা পানিতে মাছ আসার জন্য যে পরিবেশ দরকার তা এখনও হয়নি। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না থাকায় এখনো ইলিশ মাছ নদীতে আসা শুরু করেনি। তবে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আমরা নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ পাব।

এমনটাই জানিয়েছেন, চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার।

তিনি আরো বলেন, গত বছরের চেয়ে  এ বছর বেশি পরিমান ইলিশ আহরিত হবে। নদীতে ইলিশ আসবে নদীর পানি যখন স্বচ্ছ হবে। এজন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। বৃষ্টি হলে মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে আসবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকার পরেও দাম মাদারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে। শুধু ইলিশের চেহারা দেখেই নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণকে। তারা বলছেন,  বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়তি থাকার প্রয়োজন মিটাতে পাছেন না।

কাওরান বাজারে ইলিশ কিনতে আসা সাদিক মোল্লা জানান, তিন চারদিন আগে দাম কিছুটা কম থাকলেও এখন আর সে দামে পাওয়া যাচ্ছে  না।  তিনি আরো বলেন, ইলিশের দাম আজকে এতো বেশি যে আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। দুইদিন আগেও বাজারে এসেছিলাম, এত দাম ছিল না। আজ মনে হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই-আড়াইশ টাকা বেশি।

তিনি বলেন, খবরে দেখি নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু বাজারে তো সেই চিত্র নেই। দামটা অবশ্যই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা উচিত।

এদিকে দাম বেশির বিষয়টি স্বীকার করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদপুর-বরিশাল এলাকার নদীগুলোতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। সেখান থেকে ইলিশ সরাসরি আমাদের কাছে আসেও না। আড়তদাররাও যদি সরাসরি ইলিশ কিনতে পারত, তাহলে দাম অনেকটা কমে আসত। কিন্তু আড়তদারের ওপর আড়তদার, এর ওপর দাদন ব্যবসায়ী।

মাছ ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, গত দুই দিন থেকে দাম বেড়েছে। নদীতে মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। শরীয়তপুর, চাঁদপুর, বরিশাল এসব এলাকায় নদীতে পানি কম। যে কারণে মাছও কমে এসেছে। নদীতে পানি যত বেশি হবে, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশও বেশি ধরা পড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের অধিকাংশই সামুদ্রীক।  নদীর মাছ নেই।  আপনি যদি পদ্মার ইলিশ খেতে চান, তাহলে দামটা একটু বেশিই গুণতে হবে। নদীতে যখন পানি বাড়বে, বেশি মাছ ধরা পড়বে, তখন দামও কমে যাবে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

মাছের দাম প্রসঙ্গে মৎস্য গবেষক আবুল বাসার বলেন, মাছ ধরা থেকে বিপনন পর্যন্ত অনেক ব্যবসায়ী জড়ীত রয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা মাছ মজুদ করে রাখেন। দুই তিন হাত ঘুরে বাজারে আসে। ফলে মাছের দাম বাড়ছে। তবে আগের তুলনায় ইলিশের দাম কমেছে। আগামীতে নদীতে মাছ এলে আরো দাম কমে আসবে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকৃতির এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ থেকে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭শ টাকা কেজি করে। এরচেয়ে বড় আকৃতির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে। আর ছোট আকৃতির মধ্যে ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকা কেজি করে।

;