ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় অব্যাহত থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, সরকার দেশের ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে শোকাবহ আগস্ট মাসে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের এককোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শোকাবহ আগস্ট মাসে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল এবং পেঁয়াজ নির্ধারিত মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বিক্রয় শুরু করা হলো। এ সকল পণ্য এক কোটি কার্ড হোল্ডারের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। পণ্য বিক্রয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন আর ট্রাক সেলে এ সকল পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে না। নিয়োগকৃত ডিলারগণের নির্ধারিত দোকান বা স্থাপনা হতে দেশব্যাপী এ পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয়ের ফলে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষ এ সকল পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। এতে সুবিধাভোগীগণ খুশি। টিসিবি’র পণ্য বিক্রয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা মোতাবেক দেশের এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ১১০ টাকা এবং পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে (ভর্তুকি মূল্যে) টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে।

প্রতি কার্ডধারী এক কেজি চিনি, দুই কেজি মশুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল এবং দুই কেজি পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাবেন।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেলারেল মো. আরিফুল হাসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী আহাদ খানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার: ক্রেনচালকসহ গ্রেফতার ৯



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার

প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ক্রেন চালককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (১৭ আগস্ট) রাতে র‍্যাব সদর দফতর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ক্রেনচালক, চালকের সহকারী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী। সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার চাপায় পাঁচজন নিহত হন। হতাহতরা ঢাকায় একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরছিলেন।

প্রাইভেটকারে থাকা সাতজনের মধ্যে পাঁচজান মারা যান। এরমধ্যে দুই শিশু, দুই নারী ও একজন পুরুষ মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- রুবেল (৫০), ঝরণা (২৮), ফাহিমা (৪০), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামে নবদম্পতি আহত হন।

স্বজনরা জানান, ফাহিমা হলেন নববধূ রিয়া মনির মা। আর ঝরণা তার খালা। রুবেল সম্পর্কে ফাহিমা-ঝরণার বেয়াই। জান্নাত ও জাকারিয়া ঝরণার সন্তান। ফাহিমা-ঝরণাদের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। আর রুবেলের বাড়ি মেহেরপুরে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশনের (সিজিজিসি) বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় ক্রেনের চালক ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতদের।

;

ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন

ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করার পর মাতৃভূমিতে ফিরেছেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে করে আজ (১৭ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী। ১৯৫৪ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও ভয়ঙ্কর পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত কে-টু -তে আরোহণ করা ৪০ নারী পর্বতারোহীর একজন তিনি। ওয়াসফিয়া নাজরীনের এ অভিযানে স্পন্সর ছিল রেনাটা লিমিটেড।

দেশে পৌঁছানোর পর, রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে দুই মাসব্যাপী কারাকোরাম অভিযানের রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কথা বলেন ওয়াসফিয়া। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং করার অনুমতি পেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসফিয়া বলেন, “বাংলাদেশ যখন ৪০ -এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে আমি চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এ জন্য আমি ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে কে-টু যাত্রার জন্য তৈরি করেছি। ডেথ-জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে যেসব পর্বত আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতসমূহ আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এ সাফল্যের জন্য আমি আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। এবং আমার এ দলে যারা ছিলেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মূহূর্তে বিশ্বের  সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছে এবং আমার ওপর ভরসা করেছে, সবাইকে ধন্যবাদ।  কে-টু আমার আরোহণ করা সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার আমি পাথরে আঘাত পেয়েছি আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কে-টু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত, প্রতি পদক্ষেপে সেখানে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে! একবারেই কে-টু জয় করে ফেরত আসতে পেরেছেন এমন অল্পকিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি। এমনও অনেক পৃথিবী-বিখ্যাত পর্বতারোহী রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে পারেননি। আমি এই অভিযানের স্পন্সর রেনাটা লিমিটেডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমার এই মিশনের ওপর ভরসা রেখেছেন এবং আমাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছেন।”


কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত কে-টু পর্বত ৮,৬১১ মিটার উঁচু এবং পর্বতারোহীদের আরোহণের জন্য এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম বলে সবার কাছে পরিচিত। বিপদসংকুল পরিবেশ, প্রায় পিরামিড-সদৃশ ঢাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ -এর চূড়ায় পা রাখতে পেরেছেন মাত্র ৪শ’ পর্বতারোহী, যাদের অনেকেই আর নিচে নামার সুযোগ পাননি। ওয়াসফিয়া নাজরীন গত ২২ জুলাই তার দলের সঙ্গে কে-টু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। তার দলের অনেকেই পৃথিবী-বিখ্যাত পর্বতারোহী, যাদের মধ্যে মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা এবং নির্মল পুরজাকে নিয়ে ‘১৪ পিকস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি করেছে নেটফ্লিক্স। ওয়াসফিয়ার এই ঐতিহাসিক অভিযানের একমাত্র স্পন্সর দেশের স্বনামধন্য ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অ্যানিমেল হেলথ প্রোডাক্ট কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড।

ওয়াসফিয়া প্রথম বাঙালি এবং একইসাথে প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন। তার এই অভিযানের অনেকগুলোতেই স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিলো রেনাটা। তিনি পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, পাকিস্তানের উচ্চতম এবং সবচেয়ে দুর্গম ও বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু বিজয়ী প্রথম বাঙালি এবং বাংলাদেশি। 

;

জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা

জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ও চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেটকে বাংলাদেশের মানবধিকার নিয়ে নানা অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করেছেন সরকার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট জনেরা ।

ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার  মিশেল বাচেলেট এর সম্মানে এক টাউন হল মিটিং ও নৈশভোজে জাতিসংঘের হাই কমিশনার বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় করেন ।

বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্র ফুটে উঠে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর বক্তৃতায়। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিরোধী কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করছে- জাতিসংঘের হাই কমিশনারকে এমন তথ্য দেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ । 

পররাষ্ট্র সচিব ড۔ মাসুদ বিন মোমেনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় পর্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে একটা মর্যাদার স্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে । দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ মোটামুটি একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।

নৈশভোজ পর্বে জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে নানা  অপপ্রচার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ । ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে জামিন দেয়া না দেয়া, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার, সাংবাদিকদের এই আইনের বাইরে রাখা, এই আইনে প্রকৃত সাংবাদিকরা গ্রেফতার হচ্ছে কিনা- এই সকল বিষয়ের সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা দেন তিনি । ড۔ সেলিম জানান, বাংলদেশে প্রচলিত বেশ কয়েকটি আইনে যৌক্তিক কারণেই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিধান রয়েছে, অনেক আইনেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে জামিন না দেয়ার বিধান রয়েছে । তবে উচ্চতর আদালত জামিন দিয়ে থাকে । সাংবাদিক সহ কোন কমিউনিটিকে নির্দিষ্ট কোন ফৌজদারি আইনের আওতার বাইরে রাখা সংবিধানিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী । তিনি জানান, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি আইনে বহু বছর ধরেই এই ধরণের বিধান রয়েছে । যৌক্তিক কারণেই এই ধরণের বিধান রাখা হয় । ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সনদ, আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিধানাবলী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, এই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে, যে মামলা গুলো ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় বলে প্রচার করা হচ্ছে, এর প্রায় ৮০% মামলা বিএনপির আমলে প্রণীত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অধীন মামলা । শেখ হাসিনার সরকার এই ৫৭ ধারা বাতিল করেছে। আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ মামলাই হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক কিছু ভুঁইফোড় বেআইনি নিউজ পোর্টালের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, যারা মূলত নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে হয়রানি করে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুম বা ফোর্সড ডিসএপিয়ারেন্স সম্পর্কে যে অপপ্রচার চলছে, সেই বিষয়টি ড۔ সেলিম মাহমুদ জাতিসংঘ হাইকমিশনারের দৃষ্টিতে আনেন। তিনি জানান, মানবাধিকার রিপোর্ট গুলোতে গুম সম্পর্কিত যে তথ্য দেয়া হয়ে থাকে, একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায় যে, এগুলো স্ববিরোধী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এই সব রিপোর্টে বলা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতা- কর্মী ও সমর্থকরা এই ফোর্সড ডিসএপিয়ারেন্স এর মূল ভিক্টিম। কিন্তু সেই রিপোর্টে ভিক্টিমদের যে সংখ্যা দেয়া হয়, তাতে বুঝা যায় এই বক্তব্য স্ববিরোধী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ভিকটিম রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সমর্থক হয়ে থাকলে এই সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ার কথা। পক্ষান্তরে ভিক্টিমদের যে তালিকা দেয়া হয়, সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা সমর্থক থাকেনা। তাতে বুঝা যায়, এই রিপোর্ট গুলোতে যে তথ্য দেয়া হয়, সেগুলো অসত্য ও স্ববিরোধী। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে নানা কারণে কিছু ব্যক্তি প্রতিবছর নিখোঁজ হয়ে যায়। দেশের মোট জনসংখ্যার আকার বিবেচনা করলে নিখোঁজ হওয়া এই মানুষের সংখ্যাও কম হওয়ার কথা নয়। মূলত এই হারিয়ে যাওয়া লোকগুলোকেই এই তালিকায় আনা হয়ে থাকে।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাতি সংঘের হাই কমিশনারকে জানান, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু মানবাধিকার সংগঠন সাম্প্রতিক সময়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করছে, তাতে দেখা যায় এই সংগঠনগুলো যে তথ্যের উপর ভিত্তি করছে, সেগুলো সরকার বিরোধী কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে নেয়া। কোন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পক্ষপাত দোষে দুষ্ট কোন সোর্স থেকে তথ্য নেয়া সমীচীন নয়। এই সকল সংগঠনের রিপোর্টে যে ফুটনোট ব্যবহার করা হয়, তাতে দেখা যায় তারা কেবলমাত্র সরকার বিরোধী সোর্স থেকে তথ্য নিচ্ছে। এই ধরণের পক্ষপাত দুষ্ট ও একপেশে রিপোর্ট সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরণের রিপোর্টের কোন ক্রেডিবিলিটি থাকে না। এই ধরণের কর্মকান্ড বিশ্বের দেশে দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে কী ভূমিকা রাখে, এটি সেই সকল সংগঠনই ভালো বলতে পারবে।

জাতিসংঘের হাই কমিশনের সাথে নৈশভোজ আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

জাতিসংঘের হাইকমিশনারের সম্মানে দেয়া নৈশভোজের পূর্বে মতবিনিনয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন, সাবেক রাষ্ট্রদূত সমসের মবিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড۔ সাদেক হালিম, নারী নেত্রী আরোমা দত্ত, রোকেয়া কবির, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মফিদুল হক, অ্যাম্বাসেডর আব্দুল হান্নান, অ্যাম্বাসেডর শামীম আহসান, শিফা হাফিজা, প্রফেসর সাহাব আনাম খান প্রমুখ ।

অধিকাংশ বক্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাচেলেট তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের সকল দেশের মানবাধিকার নিয়েই সমস্যা রয়েছে । আমি অনেক শক্তিশালী ও ধনী রাষ্ট্র দেখেছি, যাদের মানবাধিকার নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে । এক একটি দেশের পরিস্থিতি একেক রকমের । মানবাধিকার নিয়ে প্রতিটি দেশের অনেক কাজ করার আছে।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রমুখ।

;

ওজন-পরিমাপে কারচুপি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ওজন ও পরিমাপে কারচুপির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিএসটিআই বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করে।

বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই)’ উৎপাদন ও বিক্রয়-বিতরণ করায় নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ভাইবোন মিষ্টান্ন ভান্ডার ও মেসার্স সাকিব হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ায় একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নন্দীগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই জেলা অফিস, বগুড়ার পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা (সিএম উইং) প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ ও সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি উইং) মো. মিজানুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ও আনসার সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে বিএসটিআই’র এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

;