বিএনপির রাজনীতি লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি লাশের ওপরে প্রতিষ্ঠিত, সেই কারণে তারা লাশ সৃষ্টি করতে চাই। আর আগস্ট মাস আসলেই তাদের এই প্রবণতাটা আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, সেজন্য ভোলাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি। সারা বাংলাদেশে তারা এধরনের ঘটনা ঘটিয়ে লাশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের গত কয়েক দিনের উসকানিমূলক বক্তব্য এটিই প্রমাণিত হয়। তবে জনগণ তাদেরকে সেই সুযোগ দিবে না।

বুধবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ভোলায় ছাত্রদল নেতা নিহতের ঘটনায় বিএনপির হরতাল ডাকা ও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। এসময় বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক এ এস এম আবুল হোসেন, সিনিয়র প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ান, আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক হীরক খান উপস্থিত ছিলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির রাজনীতিটা লাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জিয়াউর রহমান লাশের ওপর পাড়া দিয়েই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল। এবং ক্রমাগতভাবে বহু সৈনিকের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। ১৯টা ক্যু হয়েছে, শতশত নয় কয়েক হাজার সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করেছে জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকেও হত্যা করেছেন তিনি। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে ক্রমাগতভাবে লাশ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, এরপর বেগম খালেদা জিয়াও একইপথ অনুসরণ করেছে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে কিভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষকে পুড়িয়ে লাশ বানিয়ে সেই লাশ আবার পুড়িয়ে অঙ্গার করে ফেলেছে। লাশের ওপর দাঁড়িয়েই তাদের রাজনীতি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভোলায় তারা যে মিছিল ও সমাবেশ করবে তা পুলিশকে জানায়নি। এরপরও পুলিশ তাদেরকে সহযোগিতা করেছে। যখন তারা দোকানপাট ভাঙচুর এবং পুলিশের প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করল, বিএনপির সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়া হয়েছে। সেই গুলিতে পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছে, আরেকজন কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএনপি অফিসে মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। সেখানে তাদের দুজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। আগে যিনি মৃত্যুবরণ করেছে ডাক্তারের রিপোর্ট হচ্ছে তার হেড ইনজুরিতে মৃত্যু হয়েছে। হেড ইনজুরি ইট-পাটকেলের আঘাতেই হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। ইট পাটকেল তো বিএনপিই ছুড়েছে। তাদেরকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর দায় দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির। প্রকারান্তরে তাদের মৃত্যুর জন্যও দায়ী বিএনপি।

নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপি মিটিং করছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের এই মিটিং দেখে অনেকে আবার নতুন দল গঠন করার উৎসাহী হচ্ছে, বিএনপি কখন তাদের ডাকে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্র। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটার নিয়েই প্রথম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করা হয়। পরে ভারতের পক্ষ থেকে একটি ট্রান্সমিটার তাদেরকে দেওয়া হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হচ্ছে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র। ট্রান্সমিশন যাতে আরও ভালো হয় সেজন্য সলিমপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র শোনা যায়।

বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ বিজয়ী সেগুফতার সাথে সাক্ষাৎ সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ বিজয়ী সেগুফতার সাথে সাক্ষাৎ সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ বিজয়ী সেগুফতার সাথে সাক্ষাৎ সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের এ বছরের বিজয়ী সেগুফতা মেহজাবীন, প্রতিযোগিতা্টির আয়োজক ও পার্টনারদের সাথে  দেখা করে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ড।

এ বছর ১৭ বছর বয়সী সেগুফতা মেহজাবীন স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ  ২০২২ এর আর্ন্তজাতিক রাউন্ডে বাংলাদেশেকে প্রতিনিধিত্ব করতে সুইডেন যাচ্ছে । স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের পানি সম্পর্কিত  বড় চ্যালেঞ্জগুলি সমাধান করতে গবেষণা প্রকল্প তৈরি করে। প্রতিযোগিতাটিতে  ৪০ টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করে।  প্রতি বছর আগস্টের শেষে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পানি সপ্তাহে, সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস হার রয়্যাল হাইনেস ভিক্টোরিয়া এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলকে পুরস্কার প্রদান করেন।

এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রদূতের সামনে এবছরের বিজয়ী প্রকল্পটি উপস্থাপন করা ও  তা নিয়ে আলোচনা করা এবং 'স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ বাংলাদেশ' আয়োজনে হাউস অফ ভলান্টিয়ার্স (এইচওভি) এর বছরব্যাপী কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা ও চিন্তা বিনিময় করা।

সাক্ষাতের এক অংশে অ্যালেক্স বার্গ ফন লিন্ডে ব্যক্ত করেন যে "বাংলাদেশের তরুণদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আমরা যে প্রধান পানির চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয়েছি তা মোকাবেলায় তাদের অংশগ্রহণ দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সেগুফতার বিজয়ী প্রকল্পটি এরই একটি  গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আমি তাকে শুভকামনা জানাই তার ফাইনাল রাউন্ডের জন্য। এছাড়াও, আমি বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের আয়োজক, এর পার্টনার এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাই যারা বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতাকে সম্ভব করে তুলেছে।''

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের এর আয়োজক হাউস অফ ভলান্টিয়ার্স ফাউন্ডেশন এবং এর সাথে যুক্ত সকল পার্টনারদের প্রতিযোগিতায় অর্থপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতায়  নিযুক্ত সারা দেশের তরুণ  স্বেচ্ছাসেবকদেরকেও  তার শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূতকে পুরো অনুষ্ঠানে তার উদার সমর্থনের জন্য প্রশংসার স্বরূপ একটি ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। 

হাউস অফ ভলান্টিয়ার্স ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের জাতীয় সংগঠক, যেখানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ সহ-সংগঠক এবং নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড স্পনসর। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজে এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি (ESTex)- বুয়েট এর প্রতিযোগিতার টেকনিকাল পার্টনার, মিয়াকি মিডিয়া লিমিটেড প্রযুক্তি পার্টনার এবং বিডি নিউজ২৪ ডট কম  প্রতিযোগিতার মিডিয়া পার্টনার।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও আইটিএন, বুয়েটের পরিচালক ড. তানভীর আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর ইণ্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ড. ফেরদৌস সারওয়ার; নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড এর ডিরেক্টর লিগ্যাল, আরএসএ, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কোম্পানি সেক্রেটারি দেবব্রত রায় চৌধুরী, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ কারিগরি উপদেষ্টা মো. তাহমিদুল ইসলাম, হাউস অব ভলান্টিয়ার্স ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এর  নির্বাহী পরিচালক জাফরুল হাসান ও নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আফিক হাসান, বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ ২০২২ এর সেরা শিক্ষার্থী এম্বাসেডর পুষ্পিতা ঘোষ।

বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ ২০২৩ -এর কার্যক্রম অক্টোবর ২০২২- এ শুরু হবে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত www.sjwpbd.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

;

৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ বুধবার। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় ৫শ’ পয়েন্টে বোমা হামলায় দু’জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দফতর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারাদেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি। যারমধ্যে ১৪২টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়। এসব মামলায় এজাহারভূক্ত আসামি ছিল ১৩০ জন। গ্রেফতার করা হয় ৯৬১ জনকে। ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। যার আসামি সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন। এই সিরিজ বোমা হামলার রায় প্রদান করা মামলাগুলোর ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এরমধ্যে ৮ জনের ফাঁসি ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন, আর জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি। এছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

বিএনপি-জামায়াতের শাসন আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬) সরকারি এমপি মন্ত্রীদের সরাসরি মদদে সারাদেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা।২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। ওই বছরের ৩ অক্টোবরে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর এবং লক্ষ্মীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েকদিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতী এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইজনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। আত্মঘাতী হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয় ।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিষ্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন সাধারণ মানুষ নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুর পাড় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দু’নেতাসহ ৮ জন নিহত হন। শতাধিক আহত হন ।

;

ব্রিটিশ আভিজাত্যের চট্টগ্রাম ক্লাবে দেশি ঐতিহ্য নিষিদ্ধ!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককে একবার দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো তারা। এই তারা হলো চট্টগ্রাম ক্লাব। যাদের পরিচিতি এশিয়ার প্রাচীনতম অভিজাত ক্লাব হিসেবে। তারা চট্টগ্রামের অন্যতম সংবাদ ব্যক্তিত্ব আবদুল খালেককে ক্লাবে ঢুকতে দেয়নি আভিজাত্য ভাঙবে না বলে। কারণ, খালেক সাহেবের পরনে নাকি পাঞ্জাবি ছিলো। এ পোশাক বাঙালির ঐতিহ্য হলেও ব্রিটিশ নিয়মে গড়া চট্টগ্রাম ক্লাবের ড্রেস কোডে নিষিদ্ধ। আজাদী সম্পাদক অবশ্য তার স্বকীয়তা বিসর্জন দেননি। আর কখনোই চট্টগ্রাম ক্লাবমুখী হননি তিনি।

তার মতো অনেকেই পাঞ্জাবি পরার কারণে ক্লাব গেট থেকে অপমানিত হয়ে ফিরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে প্রাইম ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দেশের স্বনামধন্য একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান। পাঞ্জাবি পরায় তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো। পাঞ্জাবি পরায় একজন ব্যবসায়ীকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মিজানুর রহমান তখন বলেছিলেন, ভেন্যু ভাড়ার সময় আমাদের ড্রেসকোডের বিষয়ে বলা হয়নি। স্বাধীন দেশে ব্রিটিশদের গোলামি নিয়ম থাকা উচিত নয়; পরিবর্তন করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর আক্ষেপ আরও বড়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্লাব অনেকাংশে ভূমিদস‍্যু ও নষ্ট মাফিয়াদের দখলে। আমি আর যাই না সেখানে। এখন আমার সদস্যপদও নেই। ঘৃণা, প্রচণ্ড ঘৃণা তাদের প্রতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে সামাজিক ক্লাব হিসেবে ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রতিষ্ঠা। সামাজিক সংগঠন হিসেবে ইউরোপিয়ানরা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই ক্লাবে ইউরোপিয়ানরাই কেবল সদস্য হতে পারতেন। ফলে তাদের সংস্কৃতি ও আচারঘনিষ্ঠ নিয়মই চলত। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা বিতাড়িত হলে পাকিস্তানিরা নিয়ন্ত্রণ নেয়; কিন্তু সেখানেও বাঙালিদের সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল না। নিয়ম-কানুনেও পরিবর্তন আনেনি। তারা কাবুলি পরার কারণে পাঞ্জাবিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পোশাক মনে করত। ফলে তারাও বাঙালির ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মূল্য দেয়নি।

ব্রিটিশদের বিতাড়ন এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ব্রিটিশদের কালো নিয়ম ও ভোগবাদী মনোভাব থেকে বের হতে পারেনি ক্লাবটি। বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতি ও জীবনাচারকে উপেক্ষা করে এখনো লাটদের বানানো নিয়ম মানতে হয় ক্লাবের সদস্য ও আগত অতিথিদের, যা বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্লাবের সদস্য এবং অতিথিদের নির্ধারিত ড্রেসকোড পরে ক্লাবে আসতে হয়। টি-শার্ট ও শার্টের সঙ্গে পরতে হবে ফরমাল সু বা ক্লাব নির্দেশিত স্যান্ডেল। তবে পাঞ্জাবি পরে প্রবেশ করতে পারবে না। ড্রেসকোড না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড ও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ক্লাবের বাই-লজ অনুযায়ী ক্লাব পরিচালিত হয়। সেটাতে পরিবর্তন আনতে হলে ইজিএমের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচিত কমিটি বাই-লজে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ ছালাম বলেন, ক্লাবটি ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেক নিয়ম টেনে নিয়ে যাচ্ছি। ড্রেসকোডও সে রকম একটি। তবে চাইলে এ নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। ঢাকা ক্লাব নিয়ম পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি অ্যালাউ করেছে।

তবে ক্লাবের বর্তমান চেয়ারম্যান নাদের খান বলছেন, ড্রেসকোড থাকতেই পারে। ১৪৪ বছর আগে ব্রিটিশরা সামাজিক ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের নিয়ম-কানুন এখনো চলছে। সন্ধ্যা ৭টার পরে ক্লাবে আসতে হলে ড্রেসকোড মানতেই হবে। মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং বাই-লজের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়ম বাতিল করা জরুরি। ড্রেসকোড থাকতেই পারে। কিন্তু বাঙালির সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নিয়ম থাকা উচিত নয়। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার পর ক্লাব ড্রেসকোড মানতে বাধ্য করতে পারে না। ব্রিটিশ আমলের অনেক আগে থেকেই পাঞ্জাবি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক। বর্তমানেও বাঙালির অঘোষিত জাতীয় পোশাক পাঞ্জাবি। পহেলা বৈশাখ, ঈদ-পূজা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জানাজায় পাঞ্জাবি পরা হয়। এদেশের প্রধান পোশাক পরে ক্লাবে কেন যেতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত জাতীয় শোক দিবসের আগে গত ১১ আগস্ট ভারতীয় শিল্পী এনে গানের জলসা আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সমালোচনার তোপে পড়ে চট্টগ্রাম ক্লাব। পরে বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এছাড়া ক্লাবটির মদের বার থেকে বিভিন্ন জায়গায় মদ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মদ খেয়ে ভ্যাট না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

;

আজ কোথায় কখন লোডশেডিং



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির জন্য দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক আজও লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারের (১৭ আগস্ট) তালিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউসন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর ওয়েবাসাইটের নির্দিষ্ট লিংককে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পারবেন গ্রাহকরা।

আজকে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর সূচি দেওয়া হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক।

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

http://www.wzpdcl.org.bd/

https://nesco.portal.gov.bd/site/page/13ccd456-1e1d-4b24-828d-5811a856f107

http://reb.portal.gov.bd/site/page/c65ac273-d051-416f-9a93-5cd300079047

https://bpdb.portal.gov.bd/site/page/cafea028-95e6-4fca-8fea-e4415aef9a60

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

জ্বালানি সাশ্রয়ে উচ্চ ব্যয়ের ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ সংকটে দেশজুড়ে প্রতিদিন সূচি ধরে কোথাও এক ঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা শুরু হয় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে।

এর আগে ১৮ জুলাই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

;