‘শেখ কামালের আদর্শ অনুসরণ করে যুব সমাজ দেশের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, শেখ কামালের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের যুব সমাজ নিজেদেরকে গড়ে তুলবে এবং শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সমুন্নত করবে।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিক নির্দেশনা রেখে গেছেন তা থেকে আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার  পথে তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে, তা অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।

তিনি তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু দেশে নয় বিশ্ব তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমাদের মেধা ও মননকে বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাটাকে আরো উন্নত করতে পারি,  সেভাবেই আমাদের ছেলে-মেয়েরা কাজ করবে সেটাই আমি চাই।’

তিনি বলেন, আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই, আধুনিক ফুটবল খেলা এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলায় ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভূক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে কামাল। পাশাপাশি সংগীত চর্চায় স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন দেশিয় গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে তুলে তাকে জনপ্রিয় করার কাজটিও সে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছে। কেননা বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন শেখ কামাল।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, বাসার ছাদে তাঁর সঙ্গীত দলের এই অনুশীলন চলতো যেখানে ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাসিরউদ্দিন সহ অনেকেই আসতো।

জাতির পিতা হত্যার ৬ বছর পর দেশের ফিরতে সক্ষম হয়ে ধানমন্ডী ৩২ নম্বরের জাতির পিতার বাড়িটিকে তিনি মিউজিয়াম করলে সেখানে ফিরোজ সাঁই কামালের অর্গান, যেটি দিয়ে তিনি গান তুলতেন সেটি দিয়ে যায়। তাঁর সেই অর্গান এবং কামালের ‘সেতার’টি তিনি সেখানেই রেখে দিয়েছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেও যেহেতু ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণীর লেখাপড়া তখনো শেষ হয়নি তাই মাষ্টার্স ড্রিগ্রী গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে আবারো ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে সে ভর্তি হয়। কিন্তু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হবার আগেই না ফেরার দেশে চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রবর্তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ কামালের অবদান সকলের মনে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, সাথে সাথে এটা আমি চাই আমাদের দেশের যুব সমাজ খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবা সহ সবদিকে আরো উদ্যোগী হবে এবং নিজেদেরকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করবে সেটাই আমার আকাঙ্খা। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য তাঁর দল যখনই সরকারে এসেছে তখনই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতির প্রচেষ্ট চালিয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দু:স্থদের সেবায় শেখ কামাল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই পদাংক অনুসরণ করেই তাঁর সরকার সীড মানি দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দিয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী হাবলু স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘এক আলোর পথের যাত্রী’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী পরে শেখ কামালকে নিয়ে রচিত ’বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক সচিত্র স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ।

১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বিপদগামী একদল সেনাকর্মকর্তার নির্মম বুলেটে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতা সহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে শাহাদাতবরণ করেন।

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে কামালের জন্মদিন। কামাল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলো। একাধারে সে হকি খেলতো, ফুটবল খেলতো, ক্রিকেট খেলতো। আবার সেতার বাজাতো। ভাল গান গাইতে পারতো। নাটকে অংশ গ্রহণ করতো। তাঁর অনেক নাটক করা আছে। উপস্থিত বক্তৃতায় সে সব সময় পুরস্কার পেত।

এত প্রতিভার পাশপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল রাজনৈতিকভাবেও সচেতন ছিলেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, শাহীন স্কুল থেকে পাস করে যখন ঢাকা কলেজে পড়তো তখন থেকে সে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আমরা সংগঠন করতাম, কখনো কোন পদ নিয়ে আমাদের চিন্তা ছিল না।

তিনি বলেন, আমার বাবা শিখিয়েছেন মানুষের জন্য রাজনীতি করা। তাঁর আদর্শ নিয়ে আমরা পথ চলতাম। তিনিই আমদের শিখিয়েছিলেন সাদাসিদে জীবন যাপন করতে হবে। কাজেই ‘সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং’। এটাই ছিল আমাদের মটো। এটাই আমাদের শিখিয়েছিলেন এবং আমরা সেটাই করতাম।

তিনি বলেন, শেখ কামাল সব সময় অত্যন্ত সাদাসিদেভাবে চলাফেরা করতেন। তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ, জীবন যাত্রা খুবই সীমিত ছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তার কোন অহংকার ছিল না। শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর যেমন দূরদর্শীতা ছিল তেমনি লেখাপড়াতেও ছিলেন মেধাবী।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে সেই কথা মেনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হচ্ছিল এবং শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ধানমন্ডি ১৯ নম্বর রোড, আবাহনী ক্লাব এলাকা ও সাত মসজিদ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার যুব সমাজকে সংগঠিত করার কাজ করেছিলেন। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঐ রাস্তায় বেরিকেড দেয়ার জন্য সে  বাসা থেকে চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতি পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা করলে তৎকালিন ইপিআর এর ওয়্যারলেস যোগে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরই জাতির পিতাকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাঁর মা সহ পরিবারের সদস্যদের বন্দি করা হলে কামাল লুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যায় (পরে শেখ জামালও মুক্তিযুদ্ধে চলে যান)।

তিনি বলেন, কামালকে কিন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন লেখাপড়া করার জন্য তাঁকে সবরকমের সহযোগিতা করবেন । কামাল তাতে রাজী না হয়ে বরং বলেছে, আমি যুদ্ধ করতে এসেছি যুদ্ধই করবো, ট্রেনিং নেব। সে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতী কর্নেল ওসমানীর এডিসি নিযুক্ত হয়। সে এবং মেজর নূর কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিল।

প্রধানমন্ত্রী ও বড় বোন শেখ হাসিনা শেখ কামালের সঙ্গে ছেলে বেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেননা পিঠেপিঠি ছোট ভাই কামাল যে তাঁর খেলার সাথীও ছিল। ছোট্ট কামালকে নিয়ে কারাগারে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে যাওয়ারও টুকরো স্মৃতির উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কামালের জন্মের পর পরই আব্বা গ্রেফতার হয়ে যান এবং ’৪৯ সাল থেকে ’৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। কামালের ছোট বেলায় আমি যেমন আব্বাকে দেখে আব্বা আব্বা বলে ছুটে যেতাম ও ঠিক তেমনটা যেতে পারতো না। আমাকে জিগ্যেস করতো,এইভাবে ওর ভেতর সবসময় একটা অতৃপ্তি ছিল। তবে, আব্বা বের হবার পর (কারা মুক্তির) পর তাঁকে যথেষ্ট আদর করতেন কেননা ছোটবেলায় সে বাবার আদর বঞ্চিত হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কামাল এবং খুনী নূর একই সাথে কর্ণেল ওসমানির এডিসি ছিল। নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস যে এই নূরই প্রথম আসে। কামাল মনে হয় ধোকায় পড়ে গিয়েছিল তাকে দেখে। ভেবেছিল বোধহয় তারা উদ্ধার করতে এসেছে। কিন্তু তারা যে ঘাতক হয়েছে সেটা বোধহয় জানতো না। কারণ প্রথম তারা কামালকে গুলি করে। তারপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।  

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি

  • Font increase
  • Font Decrease

আগের মতোই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি। এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি থাকবে না এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে মর্মে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নজরে এসেছে। এই নিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নিম্নরূপ

১। ম্যানেজিং কমিটি থাকবে না মর্মে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়।

২। আগের মতোই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে ম্যানেজিং কমিটি ।

৩। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবে এই সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি।

৪। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম মনিটর করার কথা বলা হয়েছে, পূর্বেও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করতেন। 

;

রাঙামাটির সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে নিহত ২



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
রাঙামাটির সাজেকে গাড়ি উল্টে নিহত ২

রাঙামাটির সাজেকে গাড়ি উল্টে নিহত ২

  • Font increase
  • Font Decrease

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সাজেকের নাঙ্গলমারা এলাকায় চাঁদের গাড়ি (জীপ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইলিয়াছ হোসেন (৪৫) নামে এক কাচাঁমাল ব্যবসায়ী ও অনন্ত ত্রিপুরা (৪০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের নাঙ্গলমারা (২ নং কালবার্ট) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইলিয়াছ হোসেনের বাড়ী উপজেলার বঙ্গতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী এলাকায় ও অনন্ত ত্রিপুরার বাড়ি সাজেক মাচালং এলাকায় বলে জানা যায়।

বুধবার সকালে মাচালং বাজার থেকে একটি জীপ গাড়ি কলা বোঝাই করে বাঘইহাট বাজারে আসার পথে নাঙ্গলমারা (২ নং কালবার্ট) এলাকায় জীপ গাড়ি ব্রেকফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারালে খাদে পরে জীপ গাড়ি উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হন।

সাজেক থানার ওসি নুরুল হক (নুর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর জীপ গাড়ি চালক পালিয়ে যায়, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

;

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই মালাই গাঁথা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে 'রং তুলিতে বঙ্গবন্ধু' শিরোনামে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় পটিয়া ক্লাব প্রাঙ্গণে এই আয়োজনে পটিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির সদস্য অগ্নিলা শর্মা দিয়ার সঞ্চালনায় ও নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, রাজনীতিবিদ রাশেদ মনোয়ার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাংলার মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। এর ফলে একেবারেই সাধারণত মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। তাই তিনি ছাত্রজনতার বঙ্গবন্ধু থেকে গণমানুষের মুক্তির মহা নায়ক।

রাশেদ মনোয়ার বলেন, বীরত্ব, ত্যাগ, দৃঢ়প্রত্যয়, নেতৃত্বগুণ—একজন রাজনীতিক হিসেবে এর সব কটির সম্মিলন জাতি দেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে, যা সহজেই তাঁকে স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতার মর্যাদায় আসীন করেছে। ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তিনি স্থান নিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে। বাঙালি জাতি তাদের মহান নেতাকে সব সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

নুরুল আজিম রনি বলেন, ১৯৭১ সমগ্র জাতি বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক হয়েছিল। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে দেশ পেয়েছিলাম তার নাম বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি ও তার পরিবারকে নির্মম  ভাবে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধীরা।

একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবি বলেন, বিংশ শতাব্দীর এক মহান নেতা বঙ্গবন্ধু। তাঁর স্বপ্ন, দর্শন, আদর্শ ও প্রাপ্তি ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার আকাশে-বাতাসে, মানুষের মননে। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম নয়, তিনি এক জাগ্রত ইতিহাস। একটি স্বাধীন জাতিসত্তার অপরিমেয় অহংকার, বর্ণিল ঐশ্বর্য। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই মালায় গাঁথা। তাই বঙ্গবন্ধু সবার, বঙ্গবন্ধু সব মানুষের। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

আরো বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী হামেদ হাসান, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সোহেল উদ্দিন,সাইদুল আলম তানিম, একাডেমির সমন্বয়ক এমরান হোসেন রাসেল, আবদুল আল মোমেন, জয় শীল, স্বাগত বড়ুয়া, সংগীত শিক্ষক শিবু মল্লিক।

আলোচনা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ক্রেস্ট, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। সেই সাথে ৪০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে এক বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

;

রংপুরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, প্রেমিক আটক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, প্রেমিক আটক

রংপুরে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, প্রেমিক আটক

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের কাউনিয়ায় সানজিদা আক্তার ইভা(১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সানি নামে তার প্রেমিককে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-সি) আশরাফুল আলম পলাশ। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কুটিরপাড় -মধুপুর সড়কের উপজেলার হরিচরণ লস্কর গ্রামে সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সানজিদা আক্তার ইভা কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের ইব্রাহীম মিয়ার মেয়ে এবং পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলার বড়দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সড়কের ধারে একটি মেয়েটিকে ছটপট করতে দেখে স্থানীয় লোকজন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মেয়েটির গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৮টি জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বড়দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে যায় ইভা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন জানান, ইভা নামে মেয়েটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়।

কাউনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সেলিমুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সানি নামে তার প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের জন্য ইভার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

;