পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় দর্শনার্থীদের ভিড়



এসএম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় দর্শনার্থীদের ভিড়

পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় দর্শনার্থীদের ভিড়

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়া শহর থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে হরিপুর ব্রিজ। ব্রিজ থেকে দুই পাশে গড়াই নদের উপচেপড়া সৌন্দর্য দেখতে দেখতে হাট হরিপুর পৌঁছে গেলাম। বাঁধ ধরে হেঁটে হেঁটে চলে গেলাম একেবারে পদ্মার সংযোগস্থানে। এখানে গড়াই ও পদ্মা নদীর যুগলবন্দি।

গড়াই এসে মিশেছে পদ্মার সঙ্গে। ভারত থেকে গঙ্গা রাজশাহীতে ঢুকেছে। তারপর পদ্মা হয়ে মিলিত হয়েছে মেঘনায়। গড়াই এখানে মিলিত হওয়ায় তিনটি নদীপথ। পদ্মার একদিকে কলকাতা, অন্যদিকে বাংলাদেশ। কুষ্টিয়ার এখান থেকে গোয়ালন্দ। গড়াই গেছে শিলাইদহ হয়ে রাজবাড়ীতে। ফলে অপরূপ এক মোহনা সৃষ্টি হয়েছে কুষ্টিয়া শহরের কাছে, হরিপুরে। নয়নাভিরাম এই স্থানকে স্থানীয়রা বলেন ত্রিমোহনা। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ে এক মনোরম আবেশ সৃষ্টি হয় এখানে। বিকেলে সময় কাটাতে কুষ্টিয়া শহরসহ অন্যান্য এলাকার ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন প্রতিদিন। বিস্তীর্ণ জলরাশির গড়াই-পদ্মার এই মোহনাকে সাগর বলে আপনার কাছে ভুল হতে পারে।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই সৌন্দর্যের জাল আরো জোরালোভাবে বিছিয়ে দিল ত্রিমোহনা। সূর্যের রক্তিম আভা পানিতে আছড়ে পড়ছে। সূর্যাস্তের লাল আভা গিলে খাচ্ছে নদীর স্রোত। এই সৌন্দর্য না দেখলে ব্যাখ্যা করা মুশকিল। এখান দিয়েই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতা-শিলাইদহ যাতায়াত করতেন। পদ্মা ও গড়াই নদীর স্মৃতি নিয়ে অনেক কবিতা-গান লিখেছেন কবি। গড়াইকে তিনি বলতেন গোড়াই। এমনটা উল্লেখ আছে তাঁর কবিতায়—‘গোড়াই নদীর চর/নূতন ধানের আঁচল জড়ায়ে ভাসিছে জলের পর/একখানা যেন সবুজ স্বপন একখানা যেন মেঘ/আকাশ হইতে ধরায় নামিয়া ভুলিয়াছে গতিবেগ/দুপুরের রোদে আগুন জ্বালিয়া খেলায় নদীর চর/দমকা বাতাসে বালুর ধূম্র উড়িছে নিরন্তর/রাতের বেলায় আঁধারের কোলে ঘুমায় নদীর চর/জোনাকি মেয়েরা স্বপনের দীপ দোলায় বুকের পর। ’


পদ্মার ওপারে পাবনা, পারমাণবিক কেন্দ্র রূপপুর। আরো আছে বিস্তীর্ণ বালুচর। সবুজের সমারোহ। নৌকার চলাচল আর ছোট ছোট লঞ্চে মাঝিদের জীবনের গল্প। আপনি চাইলে নৌকা কিংবা লঞ্চ ভাড়া করে নেমে পড়তে পারেন নদীতেও। নদীতে নেমে গেলে মনে হয় সাগর। কী বিশালতা। চারদিকে শুধু থইথই পানি আর পানি। এর মাঝে নৌকা ভাসছে, দুলছে। আমাদেরও ভাসতে ইচ্ছা হলো। দুই সঙ্গী লুত্ফর ও মালেককে নিয়ে মাঝারি আকৃতির একটি নৌকা ভাড়া করলাম। তাদের নিয়ে নাও ভাসালাম মাঝ দরিয়ায়। কিছুদূর যেতেই ঢেউয়ের তোড়ে নৌকা এই ডোবে এই ভাসে অবস্থা। নৌকার এমন নাচুনিতে ভয়ই পেয়ে গেলাম।

আমলা মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে পদ্মা গড়াইয়ের মোহনায় বেড়াতে আসা একজন দর্শনার্থী গোলাম কিবরিয়া মাসুম জানান, দুই মেয়ে আর পরিবারের সকলকে নিয়ে ছুটির দিনে প্রায়ই বেড়াতে আসি এখানে। এতো সুন্দর অপরুপ সৌন্দর্য পরিবারের সকলকে নিয়ে উপভোগ করার মতো। পদ্মা গড়াই মোহনার কোল ঘেষে নদী রক্ষা বাঁধ করা হলেও রাস্তা না থাকায় চলাচলের খুব সমস্যা হচ্ছে। এই সৌন্দর্য দেখতে আসা দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করা না হলে এই সৌন্দর্য দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমতে থাকবে।


গড়াই-পদ্মার মিলনস্থলে নৌকাভ্রমণ দারুণ রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা। জেলেদের মাছ ধরা, নৌকায় মালামাল পরিবহন, রঙিন নৌকায় ঝলমলে রোদের ঝিলিক অপূর্ব সৌন্দর্যের অবতারণা করে। ওপারের সবুজ গাছগাছালি ও চরাঞ্চলের সবুজ ক্ষেতের মনোরম দৃশ্যও দুচোখ ভরে দেখার মতো। সন্ধ্যাবেলায় নৌকাগুলো যেন পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির। পাশ থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভুটভুট শব্দে এ যেন মাতোয়ারা এক ত্রিমোহনা।

পদ্মার প্রধান শাখা নদ গড়াই। গড়াই নদের আর এক প্রান্ত গিয়ে মিশেছে মধুমতীতে। এই মিলন স্থান থেকে কিছুদূর গেলেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এটি দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু। তার আগেই পড়বে লালন শাহ সেতু। আর এক তীরে দেশের বৃহত্তম ডিজেলচালিত তাপবিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র। একটু সময় করে নৌকাভ্রমণে দেখা মিলবে এতগুলো বিখ্যাত স্থাপনার।

নৌকাভ্রমণ শেষে বাঁধে বসলাম। বিনোদনপিপাসুদের ভিড় হয় বিকেলবেলা। প্রেমিকযুগলেরও দেখা মেলে সারি সারি। বাদাম আর পটেটো চিপস খেতে খেতে ভুলে গেলাম সারা দিনের ছোটাছুটির ক্লান্তি। নদীর স্রোতের শব্দে হিমেল মৃদু হাওয়ায় গেয়ে উঠলাম, সাগরের তীর হতে, মিষ্টি কিছু হাওয়া এনে, তোমার কপালে পরাব বলে ভাবি এ বিরলে।

কিভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কুষ্টিয়ার মজমপুর। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে পোড়াদহ বা ভেড়ামারা নামতে হবে। এরপর অটো কিংবা লোকাল বাসে কুষ্টিয়া। রাজশাহী বা খুলনার কিছু ট্রেন কুষ্টিয়ায়ও আসে। রাজবাড়ী বা গোপালগঞ্জ থেকে ট্রেনে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন। কুষ্টিয়া শহর থেকেই অটোতে তিন-চার কি.মি. দূরে হরিপুর ব্রিজ।

থাকা ও খাওয়া: থাকা ও খাওয়ার জন্য কুষ্টিয়া শহরে জায়গার অভাব নেই। বাজেটের মধ্যেই বিভিন্ন দাম ও মানের আবাসিক ও খাবার হোটেল পাবেন।

আরো যা কিছু

কুষ্টিয়ায় বেড়াতে এলে এখানকার বিখ্যাত তিলের খাজার স্বাদ নিতে ভুলবেন না। কুষ্টিয়ার কুলফি মালাইর স্বাদে মাদকতা আছে। একবার খেলে বারবার খেতে মন চাইবে। শহরের কাছেই ছেঁউড়িয়া। মানে লালন সাঁইজির আখড়া। এখানেই লালন একাডেমি। বিখ্যাত বাউলসাধক লালন সাঁইজির মাজারের কাছেই তাঁর অনেক ভক্তের কবর। লালন একাডেমির ক্যাম্পাসও দেখার মতো! অপরূপ রঙ্গন ফুটে আছে ক্যাম্পাসজুড়ে। প্রতিবছর লালনের জন্ম ও মৃত্যুদিনে (কার্তিক মাসে) মেলা হয়। তখন প্রচুর লোক-সমাগম হয়। যে কেউ গেলেই লালনের গান গেয়ে শোনান ভক্তরা। ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন মেলা। লালন গানের সুরে নিজেকে হারাতে চাইলে চলে আসতে পারেন।

৫০ হাজার তাল বীজ বপন করবে ঢাকাস্থ বালিয়াকান্দি সমিতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
৫০ হাজার তাল বীজ বপন করবে ঢাকাস্থ বালিয়াকান্দি সমিতি

৫০ হাজার তাল বীজ বপন করবে ঢাকাস্থ বালিয়াকান্দি সমিতি

  • Font increase
  • Font Decrease
বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ৫০ হাজার তাল বীজ বপন করবে ঢাকাস্থ বালিয়াকান্দি উপজেলা সমিতি। 
 
শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় প্রথম ধাপের ১৪ হাজার তাল বীজ বপন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনির। 
 
আগামী ৩ বছর এই সমিতি বালিয়াকান্দির ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে ৫০ হাজার তালবীজ বপণ করবেন বলে জানান সমিতির সদস্যরা। তাল বীজ বপনে সহযোগিতা করে ইসলামপুর স্বাবলম্বী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

 
তাল বীজ বপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম রিপন, সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল বারিক বিশ্বাস, সৈয়দ মইনুল হক ইমরান, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হাসান, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ, ইসলামপুর স্বাবলম্বী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, সহ-সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. রাসেল প্রমুখ।

যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বারিক বিশ্বাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, তালগাছ শুধু বজ্রপাতের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে না বরং তালগাছের নানান উপকারিতা রয়েছে। মানুষ বিভিন্নভাবে তালগাছ দ্বারা উপকৃত হয়। যেমন তালপাতার পাটি, তালপাতার পাখা, তালের রস, তালের গুড়, তালের শাঁস দিয়ে সুস্বাদু মিষ্টি খাবার রান্না করা হয়, তাল দিয়ে ঐতিহ্যবাহী অনেক পিঠা তৈরি করা হয়।

তালের গাছ ও পাতা ঘরের কাজে ও জ্বালানি কাজে ব্যবহার করা হয়। তালের পাতায় সুন্দরভাবে বাসা তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এগুলো আমাদের গ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রেখেছে। 

;

বগুড়ায় চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ!



Mansura chamily
বগুড়ায় চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ!

বগুড়ায় চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ!

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় অপারেশনের আগেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিয়াম (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনের কারণে সিয়ামের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টায় বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকার আলিফ জেনারেল হাসপাতাল নামের ক্লিনিকে সিয়াম মারা যায়।

সিয়াম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার পারটেকুর গ্রামের সিএনজি চালক ইয়াকুব আলীর ছেলে। সে দক্ষিণ পারটেকুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সিয়ামের বাম পার্শ্বে উরুতে ব্যথা অনুভব করে। তাঁকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসককে দেখানো হয়।

চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, সিয়ামের চামড়ার নিচে টিউমার দেখা দিয়েছে। দ্রুত সেটি অপারেশন করে অপসারণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিয়ামের পরীক্ষা শেষে তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড়ের পার্শ্বে আলিফ জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার রাতে ভর্তি করানো হয়।

চিকিৎসক বলেছেন, রাত ১টায় সিয়ামের অপারেশন করা হবে। সে অনুযায়ী অপারেশনের সব প্রস্তুতি চলছিল। অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর ইনজেকশন করার পর সিয়ামের আর জ্ঞান ফিরেনি।

ওই রোগীর অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ডা. আব্দুল হালিম বলেন, রাত ১২ টা ১০ মিনিটে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে দেখি রোগীর খিচুনি উঠেছে। এসময় অপারেশন থিয়েটারে অজ্ঞানের ডাঃ নাকিব উপস্থিত ছিলেন। তার সহযোগীতায় রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করি। ঘণ্টা খানেক পর রোগীর জ্ঞান ফিরলে অ্যাম্বুলেন্স যোগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর আগেই রোগী মারা যায়। তিনি বলেন, কি কারণে রোগী মারা গেল তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না।

এদিকে রোগী মারা যাওয়ার খবরে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শহরের বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর তার স্বজনেরা ময়না তদন্ত করবে না এবং কোন অভিযোগ দিবে বলে আর কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।
এদিকে আলিফ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির কাছে জানার জন্য শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২ টায় ফোন দিলে মসজিদে আছি বলে ফোন কেটে দেন।

;

‘বিদেশিদের কাছে বিএনপি’র অপশাসন ও সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরুন’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপি সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে চালানো নৃশংসতার বর্ণনা তুলে ধরতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা জানুক, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে অপপ্রচার চালানো বিএনপি’র এখন প্রধান কাজ।’

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব কেএম শাখাওয়াত মুন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকায় উন্নত দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি।’

নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল দেশে নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে জনগণ এখন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। অপরদিকে বিএনপি ভূয়া ভোটার তালিকা তৈরি করে এবং ভোটের দিন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি গত সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৭০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং আসন বাণিজ্যের কারণে জনগণ তাদের ভোট দেয়নি।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি মাতৃভূমিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের কোন মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না।

নিউইর্য়কে ইউএনজিএ’র ৭৭তম অধিবেশন ও উচ্চ পর্যায়ের অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছেন।

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করার পর তিনি ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইর্য়কে যান।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ৪ অক্টোবর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

;

ইস্কাটন গার্ডেন রোডে উদ্বোধন হলো এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইস্কাটন গার্ডেন রোডে উদ্বোধন হলো এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজার

ইস্কাটন গার্ডেন রোডে উদ্বোধন হলো এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজার

  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষকগণ দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্যপ্রাপ্তি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে একটি যথাযথ বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি রাজধানীবাসীর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব।

এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দ্বিতীয় কৃষকের বাজার উদ্বোধন করা হলো, যেখানে সাভারের তেুঁতলঝোড়া থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্তৃক যাচাইকৃত ১০ জন নিরাপদ চাষি তাদের উৎপাদিত সবজি এবং ফলমূল বিক্রি করবেন।

এলাকাবাসীর জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাদ্যের যোগান দিতে প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইস্কাটন গার্ডেন রোডে ঢাকা লেডিজ ক্লাবের পাশে এ বাজারটি আয়োজিত হবে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডে কৃষকের বাজারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

কৃষকের বাজারটি উদ্বোধন করেন আয়োজনের প্রধান অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব মোহাম্মদ আবুল বাশার। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজনে বক্তব্য রাখেন রোকসানা ইসলাম চামেলী, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসন, ওয়ার্ড নং: ১৩,১৯,২০, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. সানজিদা ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, সাভার উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া, পেদ্রো আন্দ্রেস গার্জন ডেলভো, ফুড সিস্টেম পলিসি ইকনোমিস্ট, ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রজেক্ট, এফএও বাংলাদেশ, গাউস পিয়ারী, পরিচালক, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট। আরো উপস্থিত ছিলেন নুরুল বাশার রিমন, সমাজ সেবক, ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রকল্পের সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট জাহাঙ্গীর আলম, এবং ঢাকা দক্ষিণের সিটি কো-অর্ডিনেটর শরীফা পারভীন। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকের বাজার কার্যক্রমের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করবেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সংরক্ষিত আসন, ওয়ার্ড নং. ১৩,১৯,২০ এর কাউন্সিলর রোকসানা ইসলাম চামেলী বলেন, বাজারটি আরো বড় পরিসরে করা হলে এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশন বাজারের সাথে কৃষকের বাজারকে সম্পৃক্ত করা হলে বাজারটি স্থায়ী হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. সানজিদা ইসলাম বলেন, এ বাজারে নিরাপদ ও তাজা সবজি নিয়মিত আসছে কি না, তা এলাকাবাসীকে খেয়াল রাখতে হবে। বাজারের বর্জ্যরে কারণে যেন রাস্তা নোংরা হয়ে এলাকাবাসীর অসুবিধা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিয়মিত তদারকি জরুরি।

সাভার উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের উত্তম কৃষি চর্চা শেখানো হয়। এখানে যে পণ্য পাওয়া যায়, তা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমি কৃষকদের অনুরোধ জানাই, তারা যেন পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখেন, নতুবা ভোক্তাগণ নিরুৎসাহিত হবেন।

ঢাকা ফুড সিস্টেম প্রজেক্টের ফুড সিস্টেম পলিসি ইকনোমিস্ট পেদ্রো আন্দ্রেস গার্জন ডেলভো বলেন, সাভারের তেতুলঝোড়া থেকে চাষীরা এখানে নিরাপদ সবজি, ফলমূল বিক্রি করবেন। এলাকাভিত্তিক কৃষকের বাজারের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের জন্য আর্থিক লাভ এবং এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। বাজারটি টেকসই করার লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সহযোগিতা আশা করছি।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকাবাসীকে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতের জন্য ঢাকা মহানগরীতে ইতোমধ্যে ৭টি কৃষকের বাজার স্থাপিত হয়েছে। আজকে অষ্টম বাজারটি উদ্বোধন করা হলো। আমাদের প্রত্যাশা এ উদ্যোগটি কৃষক ও ভোক্তাদের উন্নয়ন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে।

;