চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল



আবুজার বাবলা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪কম, মৌলভীবাজার
চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

  • Font increase
  • Font Decrease

চা শ্রমিক জনতা, আমরা সবাই একতা "চা শ্রমিক, চা শ্রমিক, এক হও, লড়াই কর", ৩০০ 'টাকা মজুরি, দিতে হবে দিতে হবে',  মালিক পক্ষের টালবাহানা,  চলবে না,  চলবে না"

শনিবার (১৩ আগস্ট) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেরিন চা বাগান, ভাড়াউড়া চা বাগান, ফুল ছড়া চা বাগান, সোনাছড়া চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরি ছড়া চা বাগান, খাইছড়া চি বাগানসহ ৪২টি চা বাগানে এরকম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল তাল হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। শুধু শ্রীমঙ্গলে নয় দেশের চট্রগ্রাম সিলেটসহ ২৩১ টি চা বাগানে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে দেখা যায় আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কে নেমে পড়েন। এমন চিত্র দেখা যায় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমোহনা চত্বরে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় ও ভৈরবগঞ্জ বাজারে। এদিকে ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিকরা

সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এতে সড়কের চারিপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যেতে দেখা গেছে।

সমাবেশে আসা নারী চা শ্রমিক উষা রানী বলেন, আমাদের দুঃখ কেউ বুঝে না। আমরা ৪ দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করেছি। কিন্তু কেউ আমাদের এসে আশ্বাস দিলো না। আমরা এত কষ্ট করে কাজ করি কিন্তু আমাদের নায্য মজুরি দেয়া হয় না।  চাল ডাল, তেল, মসলা সব কিছুর দাম বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ আছে, অসুখ হলে চিকিৎসা করাতে হয়, প্রতিদিনই জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে।

জেরিন চা বাগানের আরেক নারী শ্রমিক সাদরমনি বলেন, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অনেক কাজ করি। আমরা রোদে পূড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি। আমাদের দাবি জানানোর আগেই বাগান মালিকদের উচিত আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে সুযোগ সুবিধা দেয়া। আমরা কাজ ফেলে কেন আন্দোলন করবো। দুই বছর আগে যে জিনিস ১০০ টাকায় পাওয়া যেতো এখন সেটা ২০০ টাকা। আমাদের তো আলাদা কোন রোজীর ব্যবস্থা নাই। এটা তো বাগান মালিকরা জানে। আমরা ছেলেমেদের আশা পুরন করতে পারি না। ভালো জামাকাপড় কিনে দিতে পারি না। যখন ছেলে মেয়ে এসে বলে অমুক ভালো জামা পড়েছে আমাকে কিনে দেও, তখন মনের ভিতর আঘাত পাই। ছেলেমেয়েদের জীবন আমাদের কষ্টের জীবনের সাথে মিশে গেছে। আমরা চাই চা বাগান ভালো থাকুক আমরাও ভালো থাকি। কিন্তু বাগান মালিকরা ভালই আছে, আমরা ভালো নেই। আমাদের দাবি না মানলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না, আন্দোলন চলছে চলবে।

জেরিন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নিতাই গোয়ালা বলেন, একটা ভালো সমাধান দরকার। পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে। চা শ্রমিকদের এই দুর্দশার সমাধান কেন হবে না। আন্দোলনের আজ ৫ম দিন। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা গত ৪ দিন ধরে দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে আসছি। মালিক পক্ষ থেকে কোন সারা আসেনি, তাদের টনক নড়ে নি। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা দেয়ার জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা দুই বছর আগ থেকে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ১৯ মাস গত হয়ে গেলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী  মালিক পক্ষ মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে গড়িমসি করছে। তারা মাত্র ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতির বাজারে মাত্র ১৪ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা গত মঙ্গলবার থেকে ৪ দিন দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে।  কিন্তু মালিক পক্ষ আমাদের এই কর্মবিরতি পাত্তাই দেয় নি। মালিক পক্ষের কোন সারা মিলেনি। আজ আমরা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছি।  দেশের ২৩১ টি চা বাগানে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোর হবে। আমাদের বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকরা একত্রিত হয়েছি। সব বাগানে বাগানে সমাবেশ হবে। আমরা  শ্রীমঙ্গল শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবো।

শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, আজ বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলন করছেন। আমাদের দাবি না মানলে আমরা ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করবো। আমরা ঢাকা শহরে চা শ্রমিকরা অবস্থান নিবো।

সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা  রোববার ও আগামী সোমবার (জাতীয় শোক দিবস) উপলক্ষে আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামীকাল সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল হবে না। রোববার ও সোমবার চা বাগানে ছুটি থাকায় কাজ বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবারও ধর্মঘট চলবে।

বাংলাদেশিয় চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকপক্ষের আলোচনা কালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি, এ আন্দোলন শ্রম আইনের পরিপন্থী। আমরা আশা করছি তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিবে। এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। তারাও এই সিজনে কাজ করে বাড়তি টাকা উপার্জন করেন।

আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

বাংলাদেশ থেকে আবারও জনবল নেয়া শুরু করেছে মলদোভা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর মলদোভা আবারও বাংলাদেশ থেকে জনবল নিয়োগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, নিজ দেশে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর মলদোভা অবশেষে বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে সম্মত হয়েছে।

প্রথম ব্যাচে ২৮ জন বাংলাদেশিকে মলদোভার ভিসা দেওয়া হয়েছে। যারা অ্যালুমিনিয়াম জানালা তৈরির কারখানায় কাজ করবে।

ড. মোমেন আরও বলেন, মলদোভা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভিসা পেতে আরও ৪০ জন বাংলাদেশি কর্মী অপেক্ষায় রয়েছেন।

;

চাঁদপুরে বাসায় ঢুকে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চাঁদপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁদপুর শহরে বাসায় ঢুকে রফিকুল্লাহ (৭০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের নতুন বাজারের সফিউল্লাহ বোর্ডিংয়ের তিনতলার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিকুল্লাহ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও শহীদ জাবেদ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সভাপতি। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার মো. মিরাজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই বাসার কেয়ারটেকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অবদান ‘দুঃখজনক’: প্রধানমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর অর্থবহ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী দেশগুলো জোরালো বক্তব্য রাখলেও পরিস্থিতির গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা শুধু কথা বলে, কিন্তু কাজ করে না। অথচ তারাই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা ধনী ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। তাদেরই এই ইস্যুতে এগিয়ে আসা উচিৎ। কিন্তু, আমরা তাদের দিক থেকে সেই ধরনের কোন সাড়া পাচ্ছি না। এটাই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, আমি জানি- ধনী দেশগুলো আরও ধনী হতে চায়। তারা অন্যদের নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সংযোজন করে এএফপি মন্তব্য করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ঘন জনবসতিপূর্ণ ডেল্টা ও নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

এএফপি আরও বলেছে, বাংলাদেশ পৃথিবীকে উষ্ণায়নের জন্য দায়ী খুবই সামান্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিৎসরণ করে।

প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে টিকে থাকার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১শ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার মতে, ওই বছর, বেসরকারি মাধ্যমসহ ৮৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা পূর্বাভাসে জানিয়েছে, নভেম্বরে মিশরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনটি সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, তা হলো- ধনীদেশগুলোকে অভিযোজন ও প্রশমন ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়-ক্ষতির জন্যও অর্থ দিতে হবে কিনা।

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই যে তহবিলটি আরও বৃদ্ধি হোক। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা উন্নত দেশগুলার কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি না।

এএফপি জানিয়েছে যে ধনী দেশগুলো ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু ক্ষয়ক্ষতির ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সম্মত হয়েছে।

এ বছর ইউএনজিএ জলবায়ু সুবিচারের জন্য বারংবার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও ছোট্ট দেশ ভানুয়াতুর নেতা জীবাশ্বা জ্বালানির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের ভয়াবহ বন্যায় তার দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্লাবিত হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

এএফপি মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশ পশ্চিমের যে নিষ্ক্রিয়তা দেখছে তাতে জলবায়ুই একমাত্র ইস্যু নয়, রোহিঙ্গা সংকট আরেকটি বড় সমস্যা। করোনার প্রাদুর্ভাব ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে ধনী দেশগুলোর মনোযোগ সরে গেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মিয়ানমারে ২০১৭ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম অভিযানের কারণে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছিল।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসা আগের এক লাখসহ এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি ও বর্তমানে চলা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে মনোযোগ সরে গেছে।

‘যতক্ষণ তারা আমাদের দেশে আছে, আমরা মনে করি, এটি আমাদের দায়িত্ব’ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু বাংলাদেশি আশ্রয়দাতাদের ধৈর্য ক্ষীণ হয়ে আসছে। এএফপিও স্মরণ করেছে জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট এই বছরের আগস্টে এক সফরে মন্তব্য করেছিলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাব বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণকে যথেষ্ট ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমি বলব না যে তারা ক্ষুব্ধ, তবে তারা অস্বস্তি বোধ করছে। সব বোঝাই আমাদের উপর এসে পড়ছে। এটাই সমস্যা।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের খোলা জায়গা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ তা তাদের নিজের দেশেই রয়েছে। তারা সেখানে ফিরে যেতে চায়। আর এটাই সবার মূল অগ্রাধিকার। কেউ যদি তাদের নিতে চায়, তারা নিতে পারে।

;

এক দিনে রেকর্ড ৪৪০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দিন যত যাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ৪৩৮ জন ভর্তি হয়েছিলেন।

আজকে ডেঙ্গুতে নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫০ জন।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২৫ জন ঢাকার বাসিন্দা। ঢাকার বাইরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৫ জন। সবমিলিয়ে বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এক হাজার ২৭২ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ৩৫৬ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৭৬২ জন।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ভাইরাসের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

;