দুদকের গণশুনানিতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই



সীরাত মঞ্জুর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
গণশুনানি

গণশুনানি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় ১৯৭১ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপিসহ অনেক পুলিশ সদস্যরা বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে জীবন বিলিয়ে দেন। সেই থেকেই অপরাধ দমন ছাড়াও মানবিক কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে সুনাম কুড়াচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশ। করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে তারা।

এক সময় পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কঠোর পদক্ষেপে পাল্টে গেছে পুলিশের সেই চিত্র। অপরাধ করলেই চাকরি হারানোর পাশাপাশি শাস্তিও পাচ্ছেন অনেকে। তাই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পুলিশে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক গণশুনানিতে ৪২টি সরকারি দফতরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এবার ছিল না পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে বদলে গেছে নগরের চিত্র। আমার গাড়ি নিরাপদ- অ্যাপসের মাধ্যমে নগরের সকল সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদি কেউ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলেন বা গাড়িতে রেখে আসেন- অ্যাপসের মাধ্যমে খুঁজে বের করা যাচ্ছে মূহুর্তেই। আইজ অব সিএমপির মাধ্যমে পুরো চট্টগ্রাম নগরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশসংশনীয়। প্রতিটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে নারী-শিশু বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য হেল্প ডেস্ক। জনগণের কথা শুনতে প্রতিটি থানায় ওপেন হাউজ-ডে কর্মসূচি চলছে। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেবা নিতে আসা লোকজনের অভিযোগ শুনে প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন।

গত ১ জুলাই নগরের হামজারবাগ এলাকায় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে অস্ত্রসহ ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেন পাঁচলাইশ থানা পুলিশের এসআই সোহেল। এছাড়া গত ৬ আগস্ট মাসুদ আলম (৩৭) নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছে চাঁদাবাজরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চাপাতিসহ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। নগরের বায়জিদ থানাধীন বালুচড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন মুকবল আহমদ নামের এক রিকশা চালক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের আটক করে পুলিশ। নগরের নিউমার্কেট এলাকার এক বাসিন্দা স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে আসেন। মামলা না নিয়ে উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে এক সঙ্গে সংসার করার পরামর্শ দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এক মাস পর তারা নিজেরাই ওসির সঙ্গে ফুল নিয়ে দেখা করতে আসেন। পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তারা। শুধু এ ঘটনাগুলোই নয়, পুলিশের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শহীদ বীর উত্তম শাহ আলম অডিটোরিয়ামে সকাল ৯টায় দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই বছর পর চট্টগ্রামে ৪২ সরকারি দফতরের বিরুদ্ধে আনা শতাধিক অভিযোগের বিষয়ে গণশুনানি করেছে দুদক। দুদক জানায়, নগরে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি দফতরের সেবা সহজ করা এবং হয়রানি বা দুর্নীতি বন্ধে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

নগরের বিভিন্ন সরকারি দফতরের সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রথমবারের মতো এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। দুদক এবং মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এ গণশুনানির আয়োজন করে।

সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বার্তা২৪.কম-কে বলেন, জনগণ পুলিশ সম্পর্কে কী ভাবে তা আমরা জানতে চাই। আমরা জনগণের কাছে হিরো হতে চাই, ভিলেন নয়। জনগণের কথা শুনতে প্রতিটি থানায় ওপেন হাউজ ডে কর্মসূচি চলছে। সেখানে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেবা নিতে আসা লোকজনের অভিযোগ শুনেন। প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। আমরা অভিযোগ শুনতে চাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, পুলিশ হবে জনগণের পুলিশ, পুলিশ হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। আর সেই জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্যই আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু কোনও ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না বরং গোটা সমাজকে বিপদগামী করে। তাই সমাজ এবং আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে দেশকে মাদকমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশও জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

গণশুনানিতে চট্টগ্রাম বন্দর, ওয়াসা, কাস্টমস, রেল, বিদ্যুৎ, পাসপোর্ট, ভূমি অধিগ্রহণ শাখাসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের ৪৭টি অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। গণশুনানি পরিচালনা করেন দুদকের মহাপরিচালক একেএম সোহেল। সিদ্ধান্ত দেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

গণশুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, জিরো টলারেন্স টু করাপশান হচ্ছে আমাদের একমাত্র টার্গেট। এ লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত আমাদের এ কার্যক্রম চলবে। দুদক এখন শুধু চুনোপুটিদের ধরছে না, রাঘব বোয়ালদের জেলহাজতে পুরে শাস্তি দিয়ে দুদকের সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। দুদকের জালে একবার ধরাখেলে তার সম্পদ ভোগ করার সুযোগ থাকবে না এবং তার জীবন দশায় ভোগ করে যেতে পারবে না। রাষ্ট্রের বৈধ অধিকার ছাড়া কেউ যেন সম্পদ ভোগ করতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সমাজ থেকে সমূলে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করা হবে এটাই দুদকের অঙ্গীকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, পুলিশ এখন আর আগের অবস্থানে নেই। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ এক নতুন মাত্রিকতায় জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ বাহিনীর সদস্যের কারণে গোটা পুলিশ পরিবার কখনো কুলষিত হতে পারে না। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে তাদের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপরও কিছু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলেই পুলিশ হবে জনতার।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে আরও মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভীতি দূর করতে পুলিশকে কাজ করতে হবে। পুলিশ যাতে জনগণের পুলিশ হতে পারে, জনতার পুলিশ হতে পারে এবং জনবান্ধব পুলিশ হতে পারে, এ জন্য ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার, পুলিশ হবে জনতার' এ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। জঙ্গিবাদ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পুলিশ একটি মডেল।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর

  • Font increase
  • Font Decrease

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমীতে নগরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

সোমবার (৩ অক্টোবর) রাতে অষ্টমী পূজায় নগরের এনায়েত বাজার কেদার নাথ তেওয়ারী কলোনী দূর্গা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে চিরায়ত বাংলা সর্বজনীন বোধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান। ধর্মীয় ভেদ বুদ্ধিতে এই দেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধু এই দেশ স্বাধীন করেছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। যার ধারাবাহিক রক্ষা করে যাচ্ছে বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পরশে বাংলাদেশ এখন সুসজ্জিত একটি দেশ। ধর্মীয় ভাবধারায় যার যার ধর্ম সেই নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার বদৌলতে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহাদেব ঘোষ, বিপু ঘোষ বিলু, শিবু প্রসাদ চৌধুরী,সুজিত ঘোষ, দিপু নাথ, রতন ঘোষ, মোরশেদ আলম, মোঃ ফরিদ, দেলোয়ার হোসেন ও সনাতন ধর্ম সংসদ এর উত্তম দে, প্রকাশ ষোষ, অজিত ভট্টাচায.অরুন দে,বিপ্লব দে, টুটুল মজুমদার, পিন্টু প্রসাদ, রাহল ভট্টাচার্য, সৌরভ চৌধুরী বাহাদুর প্রমুখ।

;

অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ



কল্লোল রায়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বশির উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক গৃহবধূকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ৫ দিন আগে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় অভিযোগের পর তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আইনজীবীরা বলছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না হওয়া আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ পুলিশের কাছে পেশকৃত সকল মামলা প্রথম দৃষ্টিতে মিথ্যা বা সত্য, গুরুতর কিংবা সাধারণ দন্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য, যাই হোক না কেন তার এফআইআর গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পুলিশ রেগুলেশন্স ভঙ্গ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বশির দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মন্ডল পাড়া গ্রামের ছামছুল হক-মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে। গত তিন চার মাস আগে সে এক গৃহবধূর ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি বশিরের পরিবারকে জানিয়ে কোনও সুরাহা না পেয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান এবং ওই যুবকের আইডিটি ব্লক করে দেয়। পরে অভিযুক্ত যুবক বিভিন্ন নামে-বেনামের আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে বিরক্ত করতে থাকে। এর মধ্যে ওই গৃহবধূর স্বামীর ভাতিজিকে একই ভাবে বিরক্ত করা শুরু করেন বশির। তাকেও বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন তিনি। বিষয়টি ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে তারা এ নিয়ে অভিযুক্ত বশিরকে জিজ্ঞসাবাদ করেন এবং বশির সকল ঘটনা ‘স্বীকারও’ করেন। কিন্তু তাকে এসব থেকে বিরত থাকার কথা বলা হলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দেন। পরে পরিবারটি বাধ্য হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমার আইডির ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে আমাকে কু-প্রস্তাব দেয় বশির। তার পরিবারকে বললেও কোনও কাজ হয়নি। পরে আমি আমার স্বামীকে বিষয়টি জানায় এবং বশিরের আইডি ব্লক করি। কিন্তু পরে অন্য আইডি খুলে আমাকে একই ভাবে বিরক্ত করতে থাকে। কয়েকদিন থেকে আমার স্বামীর বিবাহিত ভাতিজিকেও একই ভাবে বিরক্ত করছে সে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করলেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না।’

এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই পরিবারের এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘বশির এর আগে আমাদের গ্রামের আরও এক কিশোরীকে ফোনে উত্তক্ত করতো। ওই কিশোরীর পরিবার এর প্রতিবাদ করায় বশির ওই কিশোরীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ছেলেদেরকে খারাপ খারাপ ম্যাসেজ দিতো। পরে ওই কিশোরী গ্রাম ছেড়ে ঢাকা যেতে বাধ্য হয়। এখন আমার ভাবি এবং ভাতিজিকে খারাপ খারাপ ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিচ্ছে। এ নিয়ে আমার ভাতিজির বিবাহিত জীবনে অশান্তি তৈরি হয়েছে। তার স্বামী তাকে ভুল বুঝতেছে। অথচ বশিরের ঘরেও স্ত্রী আছে।’

থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না জানিয়ে অভিযোগকারী এই যুবক বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও মামলা নেয়নি, কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। আমরা তাহলে কার কাছে যাবো। ’

এই যুবক আরও বলেন, ‘বশিরের এক ভাবি পুলিশে চাকরি করেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিও দিচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বশির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র সংযোগ কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন ওই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমিন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ অভিযোগটিতে ভুক্তভোগী পরিবার সম্মানহানীর অভিযোগ করেছে। এজন্য আমরা তদন্ত করে জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অভিযোগ পাওয়ার পাঁচ দিনেও জিডি করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নে ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন বলেন, ‘এখনও করা হয়নি। তদন্ত করে জিডি করা হবে।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা আইনের লঙ্ঘন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলা না নেওয়া একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এর ২৯ ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি তিন মাসের কারাদন্ড অথবা তিন মাসের বেতন জরিমানা অথবা উভয় দন্ড।’

তদন্ত করে জিডি এন্ট্রির বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘সেক্ষেত্রেও আগে জিডি এন্ট্রি করে তদন্ত করতে হবে।’

উলিপুর থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি গতকাল (রবিবার) বিকালে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

;

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার(০৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাজাহানপুর উপজেলার  জামালপুর এলাকায়  ফারহান ফিলিং স্টেশন সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আর কে ট্রাভেলস পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত মুখি বগুড়াগামী এ খালেক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষে আর কে ট্রাভেলস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দুই বাসের চালকসহ  ১৬ জনকে  উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ভর্তি করে দেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১ টায় একজন মারা যান।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওমর ফারুক (২৭) নামের একজন যান। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সরো গ্রামের জামাল হোসেনের  ছেলে।

শেরপুর  হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুইটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

;

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কায় ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় মাইক্রোবাসে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, সোমবার রাত পৌনে ১২ টার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নাটোর জেলার বনপাড়া উপজেলার বনপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪৫), মাইক্রোবাস চালক সেলিম শেখ (৪০) এবং মানিকগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৩৮)। সকালে আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মশিউর রহমান বলেন, রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। ঝাঐল ওভারব্রীজ এলাকায় মাইক্রেবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আমার বোন পান্না খাতুন, দুলাভাই জাহাঙ্গীরসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক জানান, বনপাড়া থেকে একটি মাইক্রোবাস ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলো। মাইক্রোবাসটি কামারখন্দের ঝাঐল ওভার ব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

;