ব্রিটিশ আভিজাত্যের চট্টগ্রাম ক্লাবে দেশি ঐতিহ্য নিষিদ্ধ!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককে একবার দরজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো তারা। এই তারা হলো চট্টগ্রাম ক্লাব। যাদের পরিচিতি এশিয়ার প্রাচীনতম অভিজাত ক্লাব হিসেবে। তারা চট্টগ্রামের অন্যতম সংবাদ ব্যক্তিত্ব আবদুল খালেককে ক্লাবে ঢুকতে দেয়নি আভিজাত্য ভাঙবে না বলে। কারণ, খালেক সাহেবের পরনে নাকি পাঞ্জাবি ছিলো। এ পোশাক বাঙালির ঐতিহ্য হলেও ব্রিটিশ নিয়মে গড়া চট্টগ্রাম ক্লাবের ড্রেস কোডে নিষিদ্ধ। আজাদী সম্পাদক অবশ্য তার স্বকীয়তা বিসর্জন দেননি। আর কখনোই চট্টগ্রাম ক্লাবমুখী হননি তিনি।

তার মতো অনেকেই পাঞ্জাবি পরার কারণে ক্লাব গেট থেকে অপমানিত হয়ে ফিরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে প্রাইম ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দেশের স্বনামধন্য একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান। পাঞ্জাবি পরায় তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো। পাঞ্জাবি পরায় একজন ব্যবসায়ীকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মিজানুর রহমান তখন বলেছিলেন, ভেন্যু ভাড়ার সময় আমাদের ড্রেসকোডের বিষয়ে বলা হয়নি। স্বাধীন দেশে ব্রিটিশদের গোলামি নিয়ম থাকা উচিত নয়; পরিবর্তন করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর আক্ষেপ আরও বড়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্লাব অনেকাংশে ভূমিদস‍্যু ও নষ্ট মাফিয়াদের দখলে। আমি আর যাই না সেখানে। এখন আমার সদস্যপদও নেই। ঘৃণা, প্রচণ্ড ঘৃণা তাদের প্রতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে সামাজিক ক্লাব হিসেবে ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রতিষ্ঠা। সামাজিক সংগঠন হিসেবে ইউরোপিয়ানরা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই ক্লাবে ইউরোপিয়ানরাই কেবল সদস্য হতে পারতেন। ফলে তাদের সংস্কৃতি ও আচারঘনিষ্ঠ নিয়মই চলত। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা বিতাড়িত হলে পাকিস্তানিরা নিয়ন্ত্রণ নেয়; কিন্তু সেখানেও বাঙালিদের সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল না। নিয়ম-কানুনেও পরিবর্তন আনেনি। তারা কাবুলি পরার কারণে পাঞ্জাবিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পোশাক মনে করত। ফলে তারাও বাঙালির ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মূল্য দেয়নি।

ব্রিটিশদের বিতাড়ন এবং মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ব্রিটিশদের কালো নিয়ম ও ভোগবাদী মনোভাব থেকে বের হতে পারেনি ক্লাবটি। বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতি ও জীবনাচারকে উপেক্ষা করে এখনো লাটদের বানানো নিয়ম মানতে হয় ক্লাবের সদস্য ও আগত অতিথিদের, যা বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ক্লাবের সদস্য এবং অতিথিদের নির্ধারিত ড্রেসকোড পরে ক্লাবে আসতে হয়। টি-শার্ট ও শার্টের সঙ্গে পরতে হবে ফরমাল সু বা ক্লাব নির্দেশিত স্যান্ডেল। তবে পাঞ্জাবি পরে প্রবেশ করতে পারবে না। ড্রেসকোড না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড ও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ক্লাবের বাই-লজ অনুযায়ী ক্লাব পরিচালিত হয়। সেটাতে পরিবর্তন আনতে হলে ইজিএমের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচিত কমিটি বাই-লজে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ ছালাম বলেন, ক্লাবটি ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেক নিয়ম টেনে নিয়ে যাচ্ছি। ড্রেসকোডও সে রকম একটি। তবে চাইলে এ নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। ঢাকা ক্লাব নিয়ম পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি অ্যালাউ করেছে।

তবে ক্লাবের বর্তমান চেয়ারম্যান নাদের খান বলছেন, ড্রেসকোড থাকতেই পারে। ১৪৪ বছর আগে ব্রিটিশরা সামাজিক ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের নিয়ম-কানুন এখনো চলছে। সন্ধ্যা ৭টার পরে ক্লাবে আসতে হলে ড্রেসকোড মানতেই হবে। মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং বাই-লজের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ক্লাবের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়ম বাতিল করা জরুরি। ড্রেসকোড থাকতেই পারে। কিন্তু বাঙালির সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নিয়ম থাকা উচিত নয়। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার পর ক্লাব ড্রেসকোড মানতে বাধ্য করতে পারে না। ব্রিটিশ আমলের অনেক আগে থেকেই পাঞ্জাবি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক। বর্তমানেও বাঙালির অঘোষিত জাতীয় পোশাক পাঞ্জাবি। পহেলা বৈশাখ, ঈদ-পূজা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জানাজায় পাঞ্জাবি পরা হয়। এদেশের প্রধান পোশাক পরে ক্লাবে কেন যেতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত জাতীয় শোক দিবসের আগে গত ১১ আগস্ট ভারতীয় শিল্পী এনে গানের জলসা আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সমালোচনার তোপে পড়ে চট্টগ্রাম ক্লাব। পরে বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এছাড়া ক্লাবটির মদের বার থেকে বিভিন্ন জায়গায় মদ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মদ খেয়ে ভ্যাট না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ



কল্লোল রায়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বশির উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক গৃহবধূকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ৫ দিন আগে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় অভিযোগের পর তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আইনজীবীরা বলছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না হওয়া আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ পুলিশের কাছে পেশকৃত সকল মামলা প্রথম দৃষ্টিতে মিথ্যা বা সত্য, গুরুতর কিংবা সাধারণ দন্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য, যাই হোক না কেন তার এফআইআর গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পুলিশ রেগুলেশন্স ভঙ্গ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বশির দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মন্ডল পাড়া গ্রামের ছামছুল হক-মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে। গত তিন চার মাস আগে সে এক গৃহবধূর ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি বশিরের পরিবারকে জানিয়ে কোনও সুরাহা না পেয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান এবং ওই যুবকের আইডিটি ব্লক করে দেয়। পরে অভিযুক্ত যুবক বিভিন্ন নামে-বেনামের আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে বিরক্ত করতে থাকে। এর মধ্যে ওই গৃহবধূর স্বামীর ভাতিজিকে একই ভাবে বিরক্ত করা শুরু করেন বশির। তাকেও বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন তিনি। বিষয়টি ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে তারা এ নিয়ে অভিযুক্ত বশিরকে জিজ্ঞসাবাদ করেন এবং বশির সকল ঘটনা ‘স্বীকারও’ করেন। কিন্তু তাকে এসব থেকে বিরত থাকার কথা বলা হলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দেন। পরে পরিবারটি বাধ্য হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমার আইডির ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে আমাকে কু-প্রস্তাব দেয় বশির। তার পরিবারকে বললেও কোনও কাজ হয়নি। পরে আমি আমার স্বামীকে বিষয়টি জানায় এবং বশিরের আইডি ব্লক করি। কিন্তু পরে অন্য আইডি খুলে আমাকে একই ভাবে বিরক্ত করতে থাকে। কয়েকদিন থেকে আমার স্বামীর বিবাহিত ভাতিজিকেও একই ভাবে বিরক্ত করছে সে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করলেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না।’

এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই পরিবারের এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘বশির এর আগে আমাদের গ্রামের আরও এক কিশোরীকে ফোনে উত্তক্ত করতো। ওই কিশোরীর পরিবার এর প্রতিবাদ করায় বশির ওই কিশোরীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ছেলেদেরকে খারাপ খারাপ ম্যাসেজ দিতো। পরে ওই কিশোরী গ্রাম ছেড়ে ঢাকা যেতে বাধ্য হয়। এখন আমার ভাবি এবং ভাতিজিকে খারাপ খারাপ ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিচ্ছে। এ নিয়ে আমার ভাতিজির বিবাহিত জীবনে অশান্তি তৈরি হয়েছে। তার স্বামী তাকে ভুল বুঝতেছে। অথচ বশিরের ঘরেও স্ত্রী আছে।’

থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না জানিয়ে অভিযোগকারী এই যুবক বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও মামলা নেয়নি, কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। আমরা তাহলে কার কাছে যাবো। ’

এই যুবক আরও বলেন, ‘বশিরের এক ভাবি পুলিশে চাকরি করেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিও দিচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বশির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র সংযোগ কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন ওই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমিন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ অভিযোগটিতে ভুক্তভোগী পরিবার সম্মানহানীর অভিযোগ করেছে। এজন্য আমরা তদন্ত করে জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অভিযোগ পাওয়ার পাঁচ দিনেও জিডি করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নে ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন বলেন, ‘এখনও করা হয়নি। তদন্ত করে জিডি করা হবে।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা আইনের লঙ্ঘন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলা না নেওয়া একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এর ২৯ ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি তিন মাসের কারাদন্ড অথবা তিন মাসের বেতন জরিমানা অথবা উভয় দন্ড।’

তদন্ত করে জিডি এন্ট্রির বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘সেক্ষেত্রেও আগে জিডি এন্ট্রি করে তদন্ত করতে হবে।’

উলিপুর থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি গতকাল (রবিবার) বিকালে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

;

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার(০৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাজাহানপুর উপজেলার  জামালপুর এলাকায়  ফারহান ফিলিং স্টেশন সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আর কে ট্রাভেলস পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত মুখি বগুড়াগামী এ খালেক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষে আর কে ট্রাভেলস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দুই বাসের চালকসহ  ১৬ জনকে  উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ভর্তি করে দেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১ টায় একজন মারা যান।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওমর ফারুক (২৭) নামের একজন যান। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সরো গ্রামের জামাল হোসেনের  ছেলে।

শেরপুর  হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুইটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

;

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কায় ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় মাইক্রোবাসে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, সোমবার রাত পৌনে ১২ টার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নাটোর জেলার বনপাড়া উপজেলার বনপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪৫), মাইক্রোবাস চালক সেলিম শেখ (৪০) এবং মানিকগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৩৮)। সকালে আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মশিউর রহমান বলেন, রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। ঝাঐল ওভারব্রীজ এলাকায় মাইক্রেবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আমার বোন পান্না খাতুন, দুলাভাই জাহাঙ্গীরসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক জানান, বনপাড়া থেকে একটি মাইক্রোবাস ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলো। মাইক্রোবাসটি কামারখন্দের ঝাঐল ওভার ব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

;

ট্রলারডুবি : মালয়েশিয়াগামী ৩০ রোহিঙ্গা উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ট্রলারডুবি : মালয়েশিয়াগামী ৩০ রোহিঙ্গা উদ্ধার

ট্রলারডুবি : মালয়েশিয়াগামী ৩০ রোহিঙ্গা উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের টেকনাফে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৩০ রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা।

মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের হরমুনিয়াপাড়া এলাকার উপকূলবর্তী গভীর সাগরে ট্রলারডুবির এঘটনা ঘটে।

কোস্টগার্ডের টেকনাফের বাহারছড়া আউটপোস্ট স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

টেকনাফের শামলাপুরের স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোরে কয়েকজন লোক বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল। এ সময় দেখা যায় তাদের ট্রলার ডুবে গেছে। পরে কোস্টগার্ডকে সংবাদ দিলে তারা বোট নিয়ে উদ্ধার শুরু করে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ভোরে সমুদ্রপথে রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করলে বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তারা বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এজন্য গতরাতে তারা একটি ট্রলারে করে রওনা হয়। ট্রলারে কতজন ছিল, তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এখনও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

;