এক যুগ ধরে শেকলে বন্দী সেলিমের জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪, ময়মনসিংহ
এক যুগ ধরে শেকলে বন্দী সেলিমের জীবন

এক যুগ ধরে শেকলে বন্দী সেলিমের জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

সেলিম চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। খোলা আকাশের নিচে তাঁকে মেহগনি দুইটি গাছের সাথে লোহার শেকলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কখনো বৃষ্টি শুরু হলে মাথার উপরে পলিথিন দিয়ে তাঁকে ঢেকে দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দীর্ঘ একযুগ ধরে এমন-ই বন্দী জীবন যাপন করছে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ডিগ্রিভুমি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খাঁনের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন সেলিম খাঁন (৩৫)। হাত ও পায়ের সঙ্গে লাগানো শেকলই সেলিমের সারা দিনের সঙ্গী।

ভারসাম্যহীন সেলিমের ভাই অটোরিকশা চালক কিবরিয়া (৩০) বলেন, ভাইয়ের বয়স যখন ২৫ তখন তাঁর শরীরে খিঁচুনি ওঠতো। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। দুইবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গেছি। একাধিকবার স্থানীয়  ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেও প্রতিবন্ধী কার্ড পায়নি। একটা প্রতিবন্ধী কার্ড পেলে উপকার হতো।

ভারসাম্যহীন সেলিমের মা জাহানারা বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে পাগল ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। নিজের বসতবাড়ি ছাড়া আর কোনো জমিজিরাত নাই। টেহার অভাবে ছেলেডারও চিকিৎসা করাইতে পারতাছি না। দুবেলা খাবারও ভালো করে জুটে না। অর্ধাহারে-অনাহারে চলছে সংসার। বড় ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে কোন রকমে। সংসারে সে যে টাকা-পয়সা দেয় তা দিয়ে সংসার চলে না। ছোট ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষা দিবে। ছোট ছেলের লেখা পড়ার খরচসহ সংসারের খরচ চালিয়ে আর মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসা করতে পারছেন না।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন- উন্নত চিকিৎসা পেলে সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারে এজন্য সরকারসহ বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তারা। সঠিক চিকিৎসা দিলে ভালো হতে পারে সেলিম। ফিরে আসতে পারে স্বাভাবিক জীবনে।

প্রতিবেশী আবদুল হালিম বলেন, অপরিচিত লোকজনকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। শেকল খুলে দিলে বৈদ্যুতিক তার টেনে ছিঁড়ে ফেলে। শরীরে কাপড় রাখে না, কাগজের মত ছিঁড়ে ফেলে। গরু ছাগলও রেহায় পায় না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তোতা সেলিমের মায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন। আমি প্রতিবন্ধীদের কার্ড করে দিতে খুঁজতেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুদ্দিন খাঁন মানিক বলেন, রোগীকে দেখেননি। তবে রোগীর পরিবার যোগাযোগ করলে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাছলিমা খাতুন বলেন, খুব দ্রুতই একটি কার্ড করে দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবিদুর রহমান জানান, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বরের বেতন ছাড়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় করে। আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষক-কর্চমারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা থেকে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করবে পারবেন।

এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাউশির অধিনস্থ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের আটটি চেক অনুদান বন্টনকারি অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবে।

তবে সাধারণ স্কুল-কলেজের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা ছাড় দেওয়া হলেও এখানো কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। প্রতি মাসে এ দুই স্তরের শিক্ষকদের অর্থ পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়ে থাকে। আগামী রোববার বা সোমবার বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানা গেছে।

;

পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে: বিশ্বব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রগতি করেছে। এখন দেশে প্রবৃদ্ধির গতিপথ ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির হারকে আরও ত্বরান্বিত করতে একটি শক্তিশালী সংস্কার এজেন্ডা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদন একথা বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ‘দ্যা কান্ট্রি ইকোনমিক মেমোরেন্ডাম: চেঞ্জ অফ ফেব্রিক আইডেন্টিফাইস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধাগুলো চিহ্নিত এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য কার্যকরী সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর সেলিম রায়হান এবং এসবিকে টেক ভেঞ্চারস ও এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউটাকা ইয়োশিনো’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত দেশীয় পরিচালক ডানডান চেন উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ম্যাক্রো ইকোনমিক্স, ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর অনুশীলন ব্যবস্থাপক হুন এস সোহ। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নোরা দিহেল এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পরামর্শক জাহিদ হুসেন প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, জনগণের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আমরা আরও উন্নতি করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে থাকব।

;

আরও এক লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিতে চিঠি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি গুদামে মজুদ বাড়াতে আরও এক লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে ৪৫ প্রতিষ্ঠান।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আমদানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এরমধ্যে নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ৮১ হাজার টন এবং আতপ চাল ১৯ হাজার টন। চালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারবে।

আমদানির শর্তে বলা হয়, বরাদ্দ পাওয়া আমদানিকারকদেরকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ, গুদামজাত ও বাজারজাতকরণের তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবহিত করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি ইস্যু বা জারি করা যাবে না। আমদানি করা চাল স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের নামে পুনরায় প্যাকেটজাত করা যাবে না এবং আমদানি করা বস্তায় চাল বিক্রি করতে হবে।

;

নৌকাডুবি: পঞ্চম দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ৩ জনের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
করতোয়ায় নৌকাডুবি

করতোয়ায় নৌকাডুবি

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনে এসেও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

নিখোঁজ তিন জনের মধ্যে এক শিশুসহ ২ পুরুষ রয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন- দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা গ্রামের মদন চন্দ্রের ছেলে ভুপেন ওরফে পানিয়া (৪০), বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের খগেন্দ্রনাথের ছেলে সুরেন (৬৫) ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথের মেয়ে জয়া রানী (৪)।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযান চালায়। সকাল থেকে স্থানীয়রাও তাদের সহযোগিতা করেন।

চতুর্থ দিনে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বৃহস্পতিবার দিনভর কোন মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৬৯ জনের মরদেহ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বোদা উপজেলায় ৪৬ জন, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১৭ জন, আটোয়ারী উপজেলায় ২ জন, পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ১ জন এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ৩ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, নারী ৩০ জন ও শিশু ২১ রয়েছে।

গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে দুপুরে আউলিয়া ঘাট থেকে একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পরই ডুবে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকা যোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতার জানায় তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। মনে করা হচ্ছে স্রোতের কারণে অনেক মরদেহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে।

;