শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে ৪ চা-শ্রমিক নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মৌলভীবাজার
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে ৪ চা-শ্রমিক নিহত

শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে ৪ চা-শ্রমিক নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লাখাইছড়া চা বাগানে ঘর লেপার জন্য মাটি আনতে গিয়ে টিলা ধসে ৪ নারী চা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টায় লখাইছড়া চা বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শামীম অর রশিদ তালুকদার বলেন, টিলা ধ্বসে ‘চার জন চা শ্রমিক মারা গেছেন। আহত ও নিহতের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে'।

কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা বলেন, আজ সকালে ৪ নারী ঘর লেপার মাটি সংগ্রহ করতে আসেন। টিলা থেকে মাটি কেটে নেওয়ার সময় সেটি ধসে পড়ে। সেসময় মাটি চাপায় তারা ঘটনাস্থলে নিহত হন।'

নিহতরা হলেন, চা-শ্রমিক হীরামনি ভূমিজ (৩০), পূর্ণিমা ভূমিজ (২৮), রাধা মাহালি (৪০) ও শকুন্তলা ভূমিজ (৪০)।

এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম অর রশিদ তালুকদার, কালীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা প্রমুখ। 

মর্মান্তিক এই ঘটনায় ওই এলাকা জুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত ব্যক্তিদের সৎকার কাজের জন্য আব্দুস শহীদ এমপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আব্দুস শহিদ এমপি সাংবাদিকদের বলেন, কর্মক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু শ্রীমঙ্গল পাহাড় অধ্যুষিত এলাকা। তিনি মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় আমরা ব্যথিত এবং মর্মাহত। সরকারের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের সবাইকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া ব্যবস্থা করব।

চুয়াডাঙ্গায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ৮ মাস বয়সী শিশু আব্দুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (০৫ অক্টোবর) সাড়ে ১১টার দিকে জীবননগর-তেতুলিয়া সড়কের একটি চালমিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিশুটির মা শান্তা খাতুনকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত আব্দুর রহমান (৮) জীবননগর পৌর এলাকার শাপলাকলিপাড়ার রুবেল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে পাখিভ্যানযোগে বাবার বাড়ি তেতুলিয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন মা শান্তা খাতুন। এসময় জীবননগর-তেতুলিয়া সড়কের হাসেম মিয়ার চাতালের সামনে পৌঁছালে পাখিভ্যানটি ভেঙে যায়। এতে ভ্যান থেকে পাকা রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন মা শান্তা খাতুন ও শিশু আব্দুর রহমান। তাদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মা শান্তা খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিশু আব্দুর রহমানের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগায় হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। মা শান্তা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক জানান, নিহত শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

;

মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরলেন দেবী দুর্গা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ষষ্ঠী, সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী পেরিয়ে দুর্গাপূজার আজ বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসবের।

বুধবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় যথারীতি দশমীবিহিত পূজা শুরু হয়, যা বিকাল পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গা এই মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, আজ সকালে দশমীবিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন শুরু হয় সারা দেশে। বিজয়ার শোভাযাত্রা নিয়ে চলছে প্রতিমা বিসর্জনের পালা। বিসর্জন শেষে শান্তিজল নিয়ে ঘরে ফিরবেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

প্রতিমা বিসর্জন দিতে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। এতে যোগ দেয় ঢাকার ২৪১টি মণ্ডপ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। এখান থেকে সম্মিলিতভাবে বিজয়ার শোভাযাত্রা যাবে সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। এরপর চলছে প্রতিমা বিসর্জন।

এ সময় শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনা বাজিয়ে মানুষ উৎসবে মেতে উঠেন। এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াইজঘাটে ব্যাপক পুলিশ, র‌্যাব ও নৌ পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এবারের দুর্গোৎসব হচ্ছে। আজ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হবে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছি। শেষ সময়ে মণ্ডপগুলোতে বিদায়ের সুর লক্ষ করা যাচ্ছে।’

এ বছর সারাদেশের ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। গত বছর সারা দেশের পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি; যা গত বছরের থেকে ৫০টি বেশি। আর ঢাকা মহানগরে মণ্ডপের সংখ্যা ২৪১টি; যা গত বছরের থেকে ছয়টি বেশি।

;

বিয়ে বাড়িতে কিশোরীকে ধর্ষণ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বাড়ির পাশের দূর সম্পর্কের চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে এক কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত যুবক সপরিবারে পলাতক রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে দিবাগত রাত ২টার দিকে নির্যাতিত কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

অভিযুক্ত যুবকের নাম টিপু (২৫)। সে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের কালামুন্সি বাজার সংলগ্ন মালি পাড়া এলাকার নুরনবী মেম্বার বাড়ির রফিকের ছেলে।

পুলিশ ও এবং নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত যুবক ও নির্যাতিত কিশোরী দূর সম্পর্কের মামাতো-ফুফাতো ভাই বোন। গতকাল মঙ্গলবার ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের সাথে বাড়ির পাশে আরেক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। একপর্যায়ে ওই কিশোরের মা-বাবা বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে তাদের বাড়িতে চলে যায়। পরে অভিযুক্ত টিপু কৌশলে ওই কিশোরীকে বিয়ে বাড়ির একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। তারপর কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই ধর্ষক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ভুক্তভোগী কিশোরের পিতা থানায় এসেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

;

সাজেকে যান চলাচল স্বাভাবিক, স্বস্তিতে পর্যটকরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
সাজেকে যান চলাচল স্বাভাবিক, ভোগান্তি কাটিয়ে স্বস্তিতে পর্যটকরা

সাজেকে যান চলাচল স্বাভাবিক, ভোগান্তি কাটিয়ে স্বস্তিতে পর্যটকরা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ ৮ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে সচল হয়েছে রাঙামাটির সাজেক-খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে অতি বৃষ্টির কারণে বুধবার ভোর রাতে সাজেকে যাওয়ার পথে শুকনা নন্দ রাম পাড়া এলাকায় রাস্তার উপর একটি পাহাড় ধসে পড়ে। এর ফলে বুধবার সকাল থেকে সাজেকে যানচলাচল বন্ধ ছিলো। সকাল থেকে সাজেক, খাগড়াছড়িগামী এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী যানবাহনসহ ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

পরে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০-ইসিবি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকে ঘাম ঝড়িয়ে, শ্রম দিয়ে মাটি সরানোর কাজ নামে।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্নদেব বর্মণ জানান, সকালে পাহাড় ধসের ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। সাজেক এলাকায় প্রায় ছোট বড় মিলে ২শত গাড়ি রয়েছে। যা গতকাল এসেছিলো। আজ সকালে অনেকের চলে যাওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় এখন সবাই আটকে আছে। আমাদের এখানে ১১২টি কটেজ আছে। সব মিলে প্রায় ৪ হাজার পর্যটক থাকতে পারেন।

এক পর্যায়ে বুধবার বেলা তিনটা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বচল হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

;