বগুড়ায় গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

বগুড়ায় গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শেরপুরে চলন্ত বাসে অগ্নিকান্ডে বাসটি ভস্মিভুত হলেও প্রানে রক্ষা পেয়েছেন অর্ধশত যাত্রী।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২ টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে৷

স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাস রাত ২ টার দিকে শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় পৌঁছে। এসময় মহাসড়কে থেমে থাকা একটি বাস আগুনে পুড়তে থাকে। বাসের যাত্রীরা নিরাপদে নামতে পারলেও তাদের মালামাল বাসের মধ্যেই আগুনে পুড়তে থাকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর নাদির হোসেন বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের কেউ হতাহত হয়নি। বাসে থাকা যাত্রীদের মালামাল ও বাসের অধিকাংশ অংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুড়ে যায়।

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: ইজারাদার-মাঝিকে দায়ী করে প্রতিবেদন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এতে ইজারাদার ও মাঝির অদক্ষতাসহ সাত-আটটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) রাতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি হাতে আসলে প্রকাশ করা হবে। তবে বেশ কিছু দিন যাচাই বাছাই করে প্রথামিকভাবে নৌকাডুবির ঘটনায় ইজারাদার এবং মাঝির অদক্ষতাকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু দিক চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত চলমান রয়েছে। সকল তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি জানা যাবে। তবে প্রতিবেদন নিয়ে এর বেশি বিস্তারিত জানাননি তিনি।

প্রতিবেদন জমার বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান দীপঙ্কর রায় জানান, রোববার রাতে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। এখন বাকি বিষয়টি জেলা প্রশাসক জানাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, মহালয়া পূজা উপলক্ষে গত রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাটে শতাধিক সনাতনধর্মীদের পুণ্যার্থী নিয়ে একটি নৌকা করতোয়া নদী পাড় হয়ে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিল। নৌকাটি নদীর মাঝে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুসহ তিনজন। ঘটনার দিনই পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়কে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। রোববার তারা প্রতিবেদন জমা দেন।

এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্যে নারী ৩০ জন, পুরুষ ১৮ জন ও ২১ শিশুর মরদেহ রয়েছে। এর মাঝে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ৪৫ জন, আটোয়ারী উপজেলার ২ জন, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১৮ জন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ জন এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

তবে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা গ্রামের মদন চন্দ্রের ছেলে ভুপেন ওরফে পানিয়া (৪০), বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামের সরেন্দ্রনাথ (৬৫) এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথের মেয়ে জয়া রানির (৪) মরদেহ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

;

বৃদ্ধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ভূমি অফিসের দুই কর্মকর্তাকে বদলি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ভূমি অফিস

ভূমি অফিস

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি বাতিল করতে আসা এক বৃদ্ধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এরমধ্যে অভিযুক্ত বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি ও নিউটন বড়ুয়াকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বদলি করা হয়েছে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৈতিকসূত্রে পাওয়া জমি মসজিদের জন্য দান করেছিলেন নুর বেগম। এরপর সেটি অধিগ্রহণ করে ফায়ার সার্ভিস। অধিগ্রহণের পর মসজিদ কমিটিকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও দিয়েছিলেন দাতার স্বামী আবদুল মোনাফ। কিন্তু হঠাৎ উভয় নামজারি বাতিলের আবেদন করেন তিনি।

কাজ না হওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে গালিগালাজ করেন। অভিযোগ করেন, টাকা না দেওয়ায় তার কাজ হয়নি। এর প্রায় এক মাস ২০ দিন পর মারা গেলেও এখন মেয়েদের অভিযোগ, নন্দ বড়ুয়ার অসদাচরণের জেরে মারা গেছেন তিনি।

জানা যায়, গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে আব‌দুল মোনাফ হাটহাজারী ভূমি অফিসের অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়ার কাছে আসেন। তিনি ২০১৯ সালে রুজুকৃত নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলার (১৫৭/২০১৯) আদেশ সম্পর্কে জানতে চান। যা ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর জারি করা হয়।

এসময় বিজয় নন্দ বড়ুয়া জানান, আপনার জমি যেহেতু অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেহেতু আপনার জমি নিয়ে নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলাটি নথিজাত করা হয়। আপনি যদি আপিল করতে চান তাহলে আদেশের সার্টিফাইড কপি নিয়ে রাজস্ব আদালতে আপিল করতে পারেন।

এ কথা বিস্তারিত বলার পর আবদুল মোনাফ অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। তিনি টাকা দেননি বলে তার কাজ হয়নি বলেও দাবি করেন মোনাফ। মা-বাবাকে অতিরিক্ত গালিগালাজ করায় এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আবদুল মোনাফকে বেয়াদব বলে গালিগালাজ করেন বিজয় নন্দ বড়ুয়া। এসময় আরেক অফিস সহকারী নিউটন বড়ুয়া আবদুল মোনাফকে শাসিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আব‌দুল মোনাফ। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব‌দুল মোনাফের মেয়ে মিনু আক্তার। তার অভিযোগ, এসিল্যান্ড অফিসের বিজয় নন্দ বড়ুয়া ও নিউটন বড়ুয়ার দুর্ব্যবহারের ধকল সইতে না পেরে আমার বাবা মারা যান। আমি এ ঘটনার তদন্ত করে বিজয় নন্দ বড়ুয়া ও নিউটন বড়ুয়ার শাস্তি চাই।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের আগে হাটহাজারীর মীরেরহাট মধ্য পাহাড়তলী মৌজায় আমার মা নুর বেগমের (বাবার সূত্রে পাওয়া) জমি আনোয়ারা বেগম নামে এক নারীর কাছে নিজের অংশসহ বিক্রি করেন মামা রফিক মিয়া। পরে সেই জমি জসিম উদ্দিন নামে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন আনোয়ারা। জসিম উদ্দিন আমার মা নূর বেগমের প্রাপ্ত অংশসহ নামজারি খতিয়ান সৃজন করেন। ২০১৭ সালে ওই জমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করে সরকার (এল এ কেইস নং ২৯ / ২০১৭-২০১৮)। আমার মায়ের প্রাপ্ত অংশের ক্ষতিপূরণ পেতে তৎপরতা শুরু করে জসিম উদ্দিন। আমরা জানতে পেরে খতিয়ান দুটি বাতিলের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে হাটহাজারীর তৎকালীন এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করি (নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলা নং-১৫৭/২০১১)।

তিনি বলেন, কিন্তু তিন বছরের বেশি ধরে আমরা এসিল্যান্ড অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। ফাইলটি দেখাশোনা করছিলেন বিজয় নন্দ বড়ুয়া। তিনি নানা অজুহাতে নিষ্পত্তির জন্য সহায়তা না করে ফাইলটি আটকে রাখেন। বাবার সাথে দুর্ব্যবহারের পরের দিনই এসি ল্যান্ড স্যারকে ভুলভাল বুঝিয়ে খতিয়ান বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে আমার বাবা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। আমরা ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের জন্য ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার (এডিসি) কাছেও আবেদন করি।

তবে হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মধ্য পাহাড়তলী মৌজার ওই জমির (বি.এস. ১০৫১ নং খতিয়ানের বি.এস. ১২৫৪ দাগে ০.৪৮০০ একর) মালিক নুর বেগম ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর তিতাগাজী জামে মসজিদের পক্ষে মোতাওয়াল্লি আব্দুল লতিফের নিকট দান করেন। যা পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয় (এল.এ. মামলা নং ২৯/১৭-১৮)।

অধিগ্রহণের টাকা মসজিদ কমিটির নামে নামজারি না থাকায় ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর আবদুল মোনাফ ও তার মেয়ে মিনু আক্তার মসজিদ কমিটিকে (৩৪০০ নং) অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করে দেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল দেওয়ার সময় আবদুল মোনাফ মসজিদ কমিটি থেকে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আবু রায়হান বলেন, বৃদ্ধের সঙ্গে যে আচার-আচরণ করা হয়েছে সেটি খুবই দুঃখজনক। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তাদেরকে অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে।

;

কবিরহাটে টিসিবির ৭ হাজার লিটার তেল উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সাত হাজার লিটার টিসিবির (পণ্য বিক্রয়কারী সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চুরি হওয়ার সাত দিন পর নোয়াখালীর কবিরহাট হাট থানার পুলিশের সহায়তায় রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রাম থেকে তেলগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রূপগঞ্জ সিটি মেইল থেকে ১৪ হাজার ২শত লিটার তেল নিয়ে রংপুরে টিসিবির আঞ্চলিক ডিপোতে নেওয়ার পথে চালকের যোগসাজশে তেলগুলো চোরাই চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে রোববার এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কবিরহাটের নবগ্রামের শাহ আলম বেপারী বাড়ি ও গাজীর খেয়ার নুর উদ্দিনের মুদি দোকান, দিদারের দোকানসহ কয়েকটি স্থানে তল্লাশি করে চোরাইকৃত তেলের অর্ধেক জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কবির, দিদার ও শাহআলম ব্যাপারীকে গ্রেফতারসহ ও বাকি তেলগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানা পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

;

ঘামে ভেজা টাকা আমাকে দিলেন রিকশাচালক মনির



ইজাজ আহমেদ মিলন
ঘামেভেজা টাকা আমাকে দিলেন রিকশাচালক মনির

ঘামেভেজা টাকা আমাকে দিলেন রিকশাচালক মনির

  • Font increase
  • Font Decrease

সমকাল অফিস থেকে বের হয়ে চ্যানেল আই ভবনে যাচ্ছিলাম। শত শত গাড়ি আটকে আছে সড়কে। ফুটপাতেও ভীড়। এরই মধ্যে পেছন থেকে আমার নাম ধরে কেউ একজন ডাক দিলেন। বুকটা যেনো কেমন করে উঠলো! এখানে তো কেউ আমাকে চেনার কথা না। ডাকটি কোথাও বাঁধাপ্রাপ্ত না হয়ে সরাসরি আমার কানে এসে ধাক্কা লাগে। পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি রিকশার হ্যান্ডেল হাতে মনির হোসেন পান খাচ্ছেন। কাছে এগিয়ে যেতেই জড়িয়ে ধরলেন মনির। তার শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। মনিরের ঘামের গন্ধ নাকে আসার সঙ্গে সঙ্গে আব্বার কথা মনে পড়ে গেলো। আব্বার শরীরে ঘামের গন্ধও মনিরের ঘামের মতোই ছিল।

মনিরকে আমি চিনি, আমাদের পাশের গ্রামের মানুষ। তবে নামটা মনে করতে পারছিলাম না। তিনি নিজে থেকেই তার পরিচয় দিতে শুরু করলেন। এবার আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। বুকে বুক মিলিয়ে পুনরায় তার ঘামের গন্ধ নিলাম। বাড়ি থেকে গিয়ে ঢাকায় রিকশা চালান তিনি। আমার প্রতি তার দরদ ও ভালোবাসা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়ছিলাম।

মনিরের সঙ্গে থাকা টাকাগুলো ঘামে ভিজে গেছে। ঘামে ভেজা কিছু টাকা বের করে আমাকে বললেন, ‘এই নেও কিছু খাইয়া যাও’। আমার চোখ ভিজে উঠলো। আহা দরদ - ভালোবাসা! আব্বাও যখন বুক পকেট থেকে বের করে আমাকে টাকা দিতেন সে টাকাও এমন ভেজা থাকতো। খুব বিনয়ের সঙ্গে মনির ভাইয়ের টাকাটা হাতে নিলাম ঠিকই, কিন্তু আবার তাকেই সে টাকা ফিরিয়ে দিতে আমার বিবেক বাধ্য করলো।

মনির ভাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন! ছলছল করে উঠছিল তার চোখ। এবার আমার পকেট থেকে বের করে মনির ভাইকে কিছু..... । কিন্তু নিতে চাইলেন না, মনির তার সমস্ত বিনয় ঢেলে দিয়ে ' না ' করছিলেন। খুব জোর করে তার হাতে দিলাম। যাক সে কথা। তার সঙ্গে আরও অনেক কথা হয় আমার। কেমন এক মায়ায় জড়িয়ে পড়ি।

বিদায় বেলায় মনির ভাই বললেন - ' দেইখ্যা যাইয়ো কিন্তু ভাই! বাড়িতে আইলে দেহা করুমনি '। আমি বারবার তার দিকে ফিরে তাকাই আর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন অপলক। রিকশার হ্যান্ডেল তখনও তার হাতে....

গাজীপুর প্রতিনিধি, দৈনিক সমকাল

;