নীলা এখন কুষ্টিয়াবাসীর গর্ব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
নিলুফার ইয়াসমিন নীলা

নিলুফার ইয়াসমিন নীলা

  • Font increase
  • Font Decrease

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা বিজয়ী দলের খেলোয়াড় নিলুফার ইয়াসমিন নীলা এখন কুষ্টিয়াবাসীর গর্ব ও অহংকার। ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য দেখানো কুষ্টিয়ার অন্যান্যদের তালিকায় নারী খেলোয়াড় নিলা সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি মুখ উজ্জল করেছেন কুষ্টিয়াবাসীর।

কুষ্টিয়ার মাটিতে দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা ও সামাজিক কুসংস্কার-প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবলে তিনি এখন সফল নারী খেলোয়াড় হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন। উদ্যমী ও সাহসী এই নারী ফুটবলারের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

রিকশাচালক বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় নিলুফার বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর ও তার ছোট বোন সুরভী আক্তারের বয়স তখন ছিল মাত্র দেড়মাস। সে সময় মা বাছিরন আক্তার দুই মেয়ে নিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখেন। সাহস বুকে নিয়ে মা বাছিরন নিলুফারের নানা বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় কুঠিপাড়া চরে আশ্রয় নেন। তিনি শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সামান্য বেতনে চাকরিও শুরু করেন।

মায়ের ইচ্ছে ছিলো মেয়ে দুটোকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। নিলুফা ছোট বেলা থেকেই খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই সে নানা খেলায় সাফল্য দেখিয়েছেন। উচ্চ লাফ, দৌড়সহ প্রায় সব ধরনের খেলায় পারদর্শিতায় নিলুফার মা বাছিরন মেয়েকে ক্রীড়াবিদ হিসেবে তৈরির ইচ্ছা পোষণ করেন।

তিনি মেয়েকে উৎসাহ ও সাহস দিতে থাকেন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে নিলুফাকে খেলোয়াড় বানাতে তার পরিবারকে নানা নেতিবাচক কথাও শুনতে হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহরের চাঁদ সুলতানা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পর মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন নিলুফা। পরে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিলুফার ইয়াসমিন নীলান মা-বোন

কুষ্টিয়ার আরেক কৃতি সন্তান আবু ফাত্তাহ ছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা। তিনি শহরের কুঠিপাড়া এলাকায় নিলুফারের ফুটবল খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে উৎসাহ দেন। ঢাকায় প্রশিক্ষণ ও ভর্তিবাবদ যাবতীয় সহযোগিতা করেন তিনি ।

ফুটবলে সাফল্য দেখানো নিলুফা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন। সেই অর্থ দিয়ে জমি কিনে জুগিয়া ফার্মপাড়ায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

বর্তমানে কুষ্টিয়া পৌরসভার জুগিয়া এলাকায় বসবাসরত নিলুফারের মা বাছিরন জানান, আমার মেয়ে জাতীয় দলে ফুটবলার একথা এলাকার অনেকেই জানতেন না। এমনকি শহরেরও অনেকে জানতো না। কিন্তু সাফ নারী ফুটবলে শিরোপা লাভের পর থেকে আমার বাড়িতে সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, পৌর কাউন্সিলরসহ অনেকেই আসছেন। আগে যারা নিলুফাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেতেন, তাদের অনেকে ক্ষমাও চেয়েছেন।

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন নিলুফার বাড়ি যাওয়ার পথটি নিজ খরচে আছাগামুক্ত ও চলাচল উপযোগী করেছেন। এছাড়া তার বাড়ির উঠানের পানি নিস্কাশন ও জলবদ্ধতা নিরসনে বালু ফেলে উঁচু করে দিয়েছেন। এতে নিলূফার মা বাছিরন আক্তার বেশ খুশি।

নিলুফার ইয়াসমিন নীলা পুরুস্কার

নিলুফা ইয়াসমিন নীলা বলেন, খেলাধুলা দেখতে ভালো লাগে। ছোটবেলায় টিভিতে ফুটবল খেলা উপভোগ করতাম। পরবর্তীতে নারীদের ফুটবল খেলা দেখে কেমন যেন মনে হতো এটাও কি সম্ভব। এক সময় দেখি নারীরাও ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও এগিয়ে যাচ্ছে। তাই ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন সময় ফুটবল খেলায় নাম লেখায়। এরপর অনূর্ধ্ব-১৪ তে কুষ্টিয়া জেলার হয়ে চুয়াডাঙ্গায় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করি। এরপর রাজশাহীতেও ফুটবল খেলেছি। প্লানের ক্যাম্পেও অংশগ্রহণের পর জাতীয় দলে অংশগ্রহণ করি। গেল বারে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশি কিশোরীরা চ্যাম্পিয়ন অর্জন করতে পেরে আমরা পুরো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আনন্দিত। সম্প্রতি সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দলের সদস্য হিসেবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। নীলার আক্ষেপ আমাকে কুষ্টিয়ার প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধি তেমন কেউ চেনে না বা জানেনা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, নিলার সাফল্যে আমরা কুষ্টিয়াবাসী গর্বিত। সাফজয়ী এই ফুটবলারের পাশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা সব সময় থাকবে বলেও তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়ার নারী ফুটবলার নিলুফার সাফল্যে আমরা গর্বিত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মামনা দেওয়ার পরিকল্পনা করা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

   

‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি হলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারলে ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘অবাধ ভোটাধিকার, প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন করতে গেলে কখনো শতভাগ সুষ্ঠু ভোট হয় তা কিন্তু না। নির্বাচনের কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে সুষ্ঠু ভোট করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে যদি সঠিকভাবে পোলিং এজেন্ট কাজ করে তাহলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। পাশাপাশি নির্বাচনের কাজে যারা যুক্ত থাকেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাদের শক্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসময় প্রার্থীর এজেন্টদেরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালাটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার এবং জুম অ্যাপের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানটি জেলা নির্বাচন অফিসের সম্মেলন কক্ষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সম্প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। এতে আনুমানিক ৫০ জন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি রাখা হয়।

কর্মশালায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ইসি সচিবালয়ের সাবেক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বক্তব্য রাখবেন।

;

শেওড়াপাড়ায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শেওড়াপাড়ায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

শেওড়াপাড়ায় পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন জে কে ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকার সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে থেকে তারা সড়ক অবরোধ করেন।

মিরপুর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, জে কে ফ্যাশনের কারখানা মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে স্থানান্তরিত করা হবে গাজীপুরে। তবে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলছেন কারখানা স্থানান্তরের কথা বলে মূলত মালিকপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করতে চাইছে। তাই তারা কারখানা স্থানান্তরের আগে অগ্রিম তিন মাসের বেতন চান। দাবি না মানায় তারা সকাল থেকে শেওড়াপাড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে নামেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের গার্মেন্টসের সামনে যেতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য মালিকপক্ষ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছি। শ্রমিকদের দাবি কারখানা স্থানান্তরের আগে তাদের যেন তিন মাসের অগ্রিম বেতন দেওয়া হয়। শ্রমিকরা সন্দেহ করছেন মালিকপক্ষ কারখানা স্থানান্তরের কথা বলে মূলত গার্মেন্টস বন্ধ করে দেবে।

;

গ্রেফতারের দেড় ঘণ্টা পরই মারা গেলেন দুদকের সাবেক কর্মকর্তা!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
নিহত ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা

নিহত ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক সাবেক উপপরিচালকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা। মারা যাওয়া দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ-পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নগরীর বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে মারা যান ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লা।

এর আগে, একইদিন রাত ১১টার দিকে তাকে এক কিলোমিটার এলাকার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আদালতে একটা মামলা (সিআর মামলা) হয়েছিল।

শহীদুল্লার ছেলে ক্যাপ্টেন নাফিস শহিদ অভিযোগ করেছেন তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ওয়ারেন্ট না দেখিয়ে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ চান্দগাঁও থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) বাসায় আমার বাবাকে ধস্তাধস্তি করে নিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে আমার চাচারা থানায় যান। কিন্তু দেখেন বাবাকে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানার ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমার বাবা হৃদরোগী ছিলেন। তার সবসময় ইনহেলার ও মেডিসিনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব আমার বাবার কাছে পৌঁছাতে দেয়নি পুলিশ। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার বাবা দুদকের সাবেক উপপরিচালক। কিন্তু তাকে ন্যুনতম সম্মানটুকু পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এটা পরিকল্পিত হত্যা।

শহীদুল্লার পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মামলার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না। এ সংক্রান্ত কোনো নোটিশও পাননি শহীদুল্লা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-উত্তর) পংকজ দত্ত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি সিআর মামলায় শহীদুল্লাকে গ্রেফতারের ১৫ মিনিট পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুতই তাকে হাসপাতালেও নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শহীদুল্লার ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের কেউ অসদাচরণ করেনি। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পর খারাপ লাগার কথা জানালে আমি তাকে আমার কক্ষে এনে বসাই। পরে তার ভাইদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ দুদক থেকে ২০০৭ সালের ১২ জুলাই অবসরে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে চান্দগাঁও থানার পাশের এক কিলোমিটার এলাকায় বাস করতেন।

;

চট্টগ্রামে আড়াই ঘণ্টা পর থামল কলোনির আগুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা ২৪.কম চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে আড়াই ঘণ্টা পর থামল কলোনির আগুন

চট্টগ্রামে আড়াই ঘণ্টা পর থামল কলোনির আগুন

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আমিন কলোনিতে লাগা আগুন আড়াই ঘণ্টা অভিযানে পুরোপুরিভাবে নির্বাপণ করেছে ফায়ার সার্ভিস। এতে শতাধিক ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউিট এই আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করে। এর আগে, ভোর ৬টার দিকে আমিন জুট মিল মসজিদের পাশের পুড়া কলোনিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই কলোনীতে থাকা বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর ও গার্মেন্টস শ্রমিক। পাশে থাকা কয়েয়কটি ছোট দোকান ও কাপড়ের গুদাম পুড়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই কলোনির বসতি ঘর। কারও কোনো কিছু বের করা সম্ভব হয়নি। এতে কলোনিটির আনুমানিক শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। তবে কলোনির ভেতরে থাকা রাবেয়া ডিজিটাল কিন্ডারগার্ডেন নামে একটি স্কুল আগুন থেকে রক্ষা পেলেও পাশের ঘরে রাখা শিক্ষার্থীদের সব বই পুড়ে চাই হয়ে গেছে।

আগুন থামার পর নিজ নিজ ঘর থেকে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র সরাতে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্তরা। এসময় অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

এদিকে আগুনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে, র‌্যাব, পুলিশসহ গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত দেখা গেছে।

মামুনুর রশিদ নামের এক ভুক্তভোগী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কিভাবে আগুন লাগছে জানি না। সকালে ফজরের নামায পড়ে শুয়েছি, আগুন আগুন চিৎকার শুনে উঠলাম। উঠে পুলিশকে ফোন করছি। তারা ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। সবাই ঘুমে ছিল। চিৎকার শুনে সবাই বেরিয়ে কোনো রকম জানটা বাঁচাইছে। এখানতে প্রায় ৩’শ পরিবার রয়েছে। গুদাম আর দোকান আছে মাত্র কয়েকটি। আগুনটা মূতলত মুজার গুদাম থেকে শুরু হয়েছে। আমার ৭টা ঘর ভাড়া দেওয়া ছিল। প্রত্যেকটিতে ১ লাখ টাকা ধরে হিসেব করলে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমার।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। এসব নিয়ে মামলা মুকদ্দমা চলছে। এর ৫ বছর আগেও এখানে আগুন লেগেছে।’

নুরুন্নবী সুমন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি এসে ভাড়াটিদের থেকে শুনলাম তেলের গুদাম থেকে আগুন লাগছে। এখানে আমার ৪টা দোকান ও ৩২টা ভাড়া ঘর ছিল।’

ভুক্তভোগীরা জানান, কলোনীর সাথে লাগোয়া কযেকটি কপড়ের গুদাম রয়েছে৷ সেখানে একটি মুজার গুদাম থেকে প্রথমে এই আগুন দেখা যায়। তবে কিসে থেকে আগুনের সূত্রপাত তা কেউ দেখেনি।

ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-সহকারী পরিবচালক আব্দুর রাজ্জাক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের টিম সকাল সাড়ে ৬টায় খবর পায়। সাথে সাথে তারা এসে অভিযান শুরু করে এবং আমাদের আগ্রবাদ ফায়ার স্টেশনে সাহায্য চায়। এরপর আগ্রাবাদ, কালুরঘাটসহ তিনটা স্টেশন থেকে আমাদের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সোয়া ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ৯ টার দিকে আমরা আগুন পুরোপুরিভাবে নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, হয়তো চুলার আগুন, না হয় মশার কয়েলের আগুন অথবা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনটার সূত্রপাত ঘটতে পারে। প্রথমে একটি হাতমুজার গুদামে আগুনটা লেগেছে।'

এঘটনায় আনুমানিক ৪০টার ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশে থাকা মার্কেটকে আগুন থেকে রক্ষা করা গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। এসময় কেউ হতাহত হয়নি বলেও জানান তিনি।

;