বিশ্ব পর্যটন দিবসে পুরস্কৃত শামছুল হক রিপনের দুই ছবি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শামছুল হক রিপন

শামছুল হক রিপন

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ। এদিন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর আয়োজনে ছবি প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছে আলোকচিত্রী শামছুল হক রিপনের দুই ছবি তার মধ্যে একটি ছবি তৃতীয় হয়েছে। স্বীকৃতি হিসেবে রিপন পেয়েছেন ক্রেস্ট ও ৩০ হাজার টাকা সম্মানি। বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজনে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রিপনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, এমপি।

এক সময় শখে ছবি তুলতেন রিপন, কিন্তু এখন ছবি তোলা ই তার পেশা। এ বিষয়ে শামছুল হক রিপন বলেন, বাংলাদেশের ৫৬টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো আমি যা দেখছি বা দেখেছি তা স্মৃতির ফ্রেমে ধরে রাখা দরকার। তখন থেকেই আমি ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখা শুরু করি। এরমধ্যে ২০১২ সালে আমাকে একটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল তাদের সাথে যোগ দিতে বলল, আমি রাজি হয়ে গেলাম। এরপর থেকেই আমার পেশাগতভাবে ফটোসাংবাদিকতা শুরু।’

বর্তমানে দ্য বিজনেস পোস্ট-এ স্টাফ-ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন শামছুল হক রিপন। এরআগে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ, দৈনিক ভোরের পাতা, প্রিয় ডট কম, এনটিভি অনলাইনে কাজ করেছেন।

রিপন জানান, গণমাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে আমি সমৃদ্ধ হয়েছি। আমার ছবি তোলার দক্ষতা বেড়েছে। তাই আজকের এই প্রাপ্তিতে আমি আমার সকল কর্মস্থল ও সেখানকার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও অনেক ভালো কাজ করার প্রেরণা দেবে।

নভেম্বরে ৫৮৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৪৩



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদায়ী নভেম্বর মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৬৪৩ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময় রেলপথে ৬৪ টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ০৪ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১৮ টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথে সম্মিলিতভাবে ৬৬৮টি দুর্ঘটনায় ৭০৯ জন নিহত ও ৮৪০ জন আহত হয়েছে।

এইমাসে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এ ছাড়া, সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ১৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৮৪ জন চালক, ৮৭ জন পথচারী, ৮৫ জন নারী, ৮৯ জন শিশু, ৫০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭৪ জন শিক্ষার্থী, ২৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ১৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ২ জন এনএসআই সদস্য, ১২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনা সদস্য, ৯ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ২ জন প্রকৌশলী, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২ জন চিকিৎসক এবং ৭ জন সাংবাদিকের পরিচয় মিলেছে।

সংঘঠিত দুর্ঘটনায় ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ বাস, ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস এবং ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়কে দুর্ঘটনায় ৫৯.৮৯ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ খাদে পড়ে, ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ বিবিধ কারণে, ১ দশমিক ১৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিপদজনক ওভারটেকিং, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, ছোট যানবাহন ক্রমশ বৃদ্ধি, বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সার্ভিস লেইন না থাকায় ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা বিভিন্ন ফিডার সড়ক থেকে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নেমে আসার ফলে এসব ছোট যানবাহন দুরপাল্লার বাস ও প্রাইভেট কারের গতির কমিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া, গুরুত্বপূর্ণ জংশনে, রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজ গুলোতে যানজট তৈরি করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

;

‘কার্বন নিঃসরণ কমাতে এখন সবাই বেশি কমিটমেন্ট করেছে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘কার্বন নিঃসরণ কমাতে এখন সবাই বেশি কমিটমেন্ট করেছে’

‘কার্বন নিঃসরণ কমাতে এখন সবাই বেশি কমিটমেন্ট করেছে’

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছন, কপ-২৭ সম্মেলনে অনেকেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি কমিটমেন্ট করেছে।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করার জন্য আমরা যে বৈশ্বিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছি, তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একটা বৈশ্বিক ঐক্যমত তৈরি করার লক্ষ্যেই কপ সম্মেলনগুলো হয়।

আরও পড়ুন: কপ-২৭ সম্মেলনে লস এন্ড ড্যামেজ স্বীকৃতি পেয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কপ-২৭ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি: বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সঙ্গে মত বিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মাসউদুল হক, হাবিব রহমান প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, পরিবেশ পরিবর্তনজনিত ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ এর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি আমাদের বহুদিনের। শেষ পর্যন্ত প্যারিস এগ্রিমেন্টের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে এটিকে স্বীকার করে নেয়া হলেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না।

মিশরে কপ-২৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের প্রায় একশ’ রাষ্ট্রপ্রধান-সরকার প্রধানরা গিয়েছিলেন এবং এবারের অন্যতম অগ্রগতি হলো যে, বিশ্ব সম্প্রদায় ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, কপ-২৭ সম্মেলনে অনেকেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি কমিটমেন্ট করেছে। আমাদের সরকারও ২০৪১ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ৪০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সোলার, গ্রিনপাওয়ার, জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসবের জন্য একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এটি খুব ভালো দিক। ভাবনার বিষয় এতোকিছুর পরও বিশ্বের তাপমাত্রা ১৮৮০ সালের ভিত্তি তাপমাত্রা থেকে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, এখন ১.১ ডিগ্রি বেড়েছে। আর তাতেই সার্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকায় দাবানল, পাকিস্তানে যারা পানির সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নয়, সেখানে বন্যা দেখা যাচ্ছে।

;

কুষ্টিয়ায় বিএনপির ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ায় বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) মামলাটি দায়ের করেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজু মোহন সাহা।

তবে এটিকে হয়রানিমূলক মামলা বলে অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুষ্টিয়া শহর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন হোসেন (৪৫) কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত বাদশা আলীর ছেলে। সদর উপজেলার সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান (৪৪) খাজানগর আদর্শপাড়া এলাকার আয়নাল ফকিরের ছেলে, হাবিবুর রহমান হাবিব (২৮) সন্তোষপুর গোয়ালপাড়া এলাকার মহির উদ্দিনের ছেলে এবং হাটশ হরিপুর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলামিন মালিথা হাবিব (৩২) হাটশ হরিপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় সংলগ্ন নির্মানাধীন বিআরবি হাসপাতালের মেইন গেইটের সামনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের উপর ৪৫ থেকে ৫০ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গ সংগঠনের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে রাষ্ট্রের সম্পদ ক্ষতি সাধন করার জন্য সমবেত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের উচ্ছৃঙখল নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫টি বাঁশের লাঠি, তিনটি লোহার রড, ১৭ পিচ বিভিন্ন সাইজের ইটের টুকরা, এক লিটার পেট্রোল, একটি গ্যাস লাইট উদ্ধার করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে পুলিশ। বিএনপি নেতারা যখন মাঠে নামছে, তখনই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে সরকার। গায়েবি মামলা দিয়ে চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের অপরাধ করেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

;

হয়রানি মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আইন প্রণয়নের আহবান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হয়রানি মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আইন প্রণয়নের আহবান

হয়রানি মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আইন প্রণয়নের আহবান

  • Font increase
  • Font Decrease

কর্মজগতে সকল ধরনের সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনে “যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন” প্রণয়ণের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের জোট জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২২ উপলক্ষে আজ ৬ ডিসেম্বর ২০২২ (মঙ্গলবার) জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘কর্মজগতে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনঃ প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ এর সদস্য সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী’র সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এর সদস্য শামসুন নাহার ভূইয়া, এমপি। কর্মজগতে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসন বিষয়ে জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম তুলে ধরেন বিল্স পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুন নাহার ভূইয়া, এমপি বলেন, কর্মক্ষেত্রে যে কোন ধরণের যৌন হয়রানি প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি করে যা মানবাধিকারের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। তিনি বলেন, নারীরা ঘরে বাহিরে অনেক পরিশ্রম করে কিন্তু নারীদের গৃহকর্মে কাজের কোন স্বীকৃতি নেই। তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়। কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসন করতে “যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন করা খুবই জরুরি।

দেশের অর্থনীতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারী ও পুরুষ প্রায় সমান অবদান রাখছে উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের ল এন্ড জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের উপ-সচিব নুসরাত জাহান বলেন, দেশে অনেক ভাল আইন রয়েছে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি আরো কমে আসবে। এক্ষেত্রে আইন মানার বিষয়ে সকলের মানসিক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উপপরিচালক সুসমিতা পাইক বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার সংজ্ঞাতেই বলা আছে কোন আচরনগুলো যৌন হয়রানি, তারপরেও কর্মক্ষেত্রে এই আচরনগুলো দ্বারা নারীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই বিষয়ে সকলের মানসিক পরিবর্তন অনেক জরুরী। তিনি বলেন পরিবার থেকে একজন শিশুকে গড়ে তুলতে হবে ভাল মানুষ হিসেবে। সে যেন বুঝতে পারে কোন কাজটা ভাল আর কোনটা খারাপ।

আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনরে (বিইএফ) অতিরিক্ত মহাসচিব সাইদুল ইসলাম বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা সমূহ আইন হিসেবে মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে সকলের অঙ্গীকার একান্তভাবে আবশ্যক।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি সকলের দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আহসান হাবীব বুলবুল বলেন প্রতিটি মানুষের মানবিক বিকাশের জন্য মানুষের অধিকার রয়েছে। নারীরা কর্মক্ষেত্রে, যাতায়াত ও বিভিন্ন স্থানে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন যা তার মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন শ্রমিকদের জন্য কর্মপরিবেশ নিরাপদ করতে না পারলে তাদের উৎপাদনশীলতা কম হবে যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও ।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আমাদের নিষ্ক্রিয়তাই সহিংসতার ক্ষেত্রটা বাড়িয়েছে। সকলের ইতিবাচক মনোভাবই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি যেমন দরকার সেই সাথে ভিক্টিমকে সহযোগিতা করাও একান্তভাবে প্রয়োজন। সামাজিকভাবে এমন একটা পরিবেশ তৈরী করতে হবে যেখানে নারীরা সুরক্ষিত থাকবে এবং সকল অধিকারগুলো ভোগ করবে। যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি।

বৈঠকে অন্যান্য বক্তারা বলেন, নারীরা দেশে এবং দেশের বাইরে পুরুষের সাথে সমানভাবে শ্রম দিচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসাজনক। কিন্তু নারীরা এখনো সকল ক্ষেত্রে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সংবাদিক’সহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রের সংজ্ঞাগত পরিধিকে বিস্তৃত করে সরকার আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার্স এডুকেশন-এনসিসিডব্লিউই চেয়ারম্যান শামীম আরা, সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশ এর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম, বিকেএমইএ এর সহকারী সচিব মোঃ জাকারিয়া খালেদ, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ খাদিজা আক্তার, মনডিয়াল এফএনভি’র বাংলাদেশ পরামর্শক মোঃ শাহীনুর রহমান, কর্মজীবী নারী’র কাজী গুলশান আরা, ফেয়ারওয়্যার ফাউন্ডেশন এর কান্ট্রি ম্যানেজার বাবলুর রহমান প্রমুখ।

;