ঠাকুরগাঁওয়ে সার নিয়ে বিপাকে কৃষক, কপালে চিন্তার ভাঁজ আলু চাষিদের



রবিউল এহ্সান রিপন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে সার নিয়ে বিপাকে কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ে সার নিয়ে বিপাকে কৃষক

  • Font increase
  • Font Decrease

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধান ঘরে তোলার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত ও রোপণের কাজ। এতে দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে কর্ম ব্যস্ততা। আর রাসায়নিক সার সময় মতো ও সঠিক দামে না পাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।

আমনের পর পরই এ জেলার কৃষকরা আলু চাষ শুরু করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় এবারও ধান কাটা শেষে আলু চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত ও রোপণ শুরু করেছেন। কিন্তু রাসায়নিক সারের দাম ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার না পাওয়ায় কৃষদের কপালে পরেছে চিন্তার ভাঁজ। তাতে আলু চাষ নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে চাষিদের মাঝে।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না। আর খুচরা বাজারে সারের দ্বিগুণ দাম। তার পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের।

আলু চাষি আক্কর আলী বলেন, খুচরা বাজারে পটাশ সারের ৫০ কেজির বস্তা ১৬০০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার, ডেপ ১২০০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। তার পরেও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছি না। যারা বড় বড় কৃষক তারা সার পাচ্ছে। আর আমার মতো ক্ষুদ্র কৃষকরা সার পাচ্ছি না।

নূর ইসলাম নামে আলু চাষি বলেন, আলু চাষ করতে চেয়েছিলাম ২ একর কিন্তু সারের কারণে এখন ১ একর জমিতে আলু রোপন করছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে কৃষি করবো। সারের দাম বেশি হলেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।


কৃষক বাচ্চু বলেন, এবার সারের এতো সংকট যা কল্পনা করা যায় না। ডিলারের কাছে তো পটাশ সার পাওয়াই যায় না। আর বাইরে দ্বিগুণ দাম। এভাবে শুধু আলু না যে কোন ফসল চাষ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে সব কিছুর দাম উর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে সারের সংকট। তাই আমরা চরম হতাশা ও বিপাকে পরেছি। এতে কৃষকরা আমরা হুমকির মুখে।

কৃষক হাফিজ উদ্দীন বলেন, এবার সার সহ অন্যান্য কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একর প্রতি আলু চাষে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক (সার) জিল্লুর রহমান বলেন, সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। বরাদ্দ পেলে সার সরবরাহ করা হবে। সারের বিষয়ে সরকারের যথেষ্ট অগ্রগতি আছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, গত বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ২৭ হাজার হেক্টর জমি কিন্তু এবার তার থেকে প্রায় ২ হেক্টর কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৩০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপন সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. আব্দুল আজিজ বলছেন, সারের কোন সংকট নেই। কৃষকরা মনে করছেন পরবর্তীতে তারা আর সার পাবেন না। তাই এখন থেকেই সার মজুদ করতে হুমরি খাচ্ছেন তারা। সারের জন্য কোন প্রকার আলু বা অন্য কোন ফসলের ক্ষতি হবে না।

যারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রয় করছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে ও সারের বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো.সামসুজ্জামান।

 

এবার পুলিশের ২৫ কর্মকর্তাকে বদলি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ২৫ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ না করলে ৮ ডিসেম্বর থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে৷

;

টাঙ্গাইলে সুগন্ধি জাতের ধান চাষে ভালো ফলন



আরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে সুগন্ধি জাতের ধান চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন চাষিরা

টাঙ্গাইলে সুগন্ধি জাতের ধান চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন চাষিরা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলে সুগন্ধি জাতের ব্রি-৩৪ ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এই ধান আবাদ করে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হয়েছেন।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ছয়শত ১৬ হেক্টর জমিতে ব্রি-৩৪ ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি দুই দশমিক ৪৯ মেট্রিকটন। মোট ১৫ শত মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েশসহ মুখরোচক খাবার তৈরিতে সুগন্ধি চালের কোন বিকল্প নেই। দেশে প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে এই চালের। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার খরচ হয়।

এ কারণে কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে দেশেই সুগন্ধি জাতের ধান বেশি পরিমাণে চাষ করার।

এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার কৃষকদের এবার সুগন্ধি জাতের ব্রি-৩৪ ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। সুগন্ধি জাতের ধান চাষে আগ্রহী অনেক কৃষককে প্রনোদণা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয় ব্রি-৩৪ জাতের ধানের বীজ ও সার। এই ধানের ফলন কালোজিরাসহ অন্যান্য সুগন্ধি জাতের চেয়ে বেশি হয় বলে জানায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। সুগন্ধি জাতের ধান ও চালের বাজার মূল্য আমন ধানের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কৃষকরা আমন মৌসুমে সুগন্ধি জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষকরা জানান, আমন ও অন্যান্য ধানের থেকে ব্রি-৩৪ ধানের দাম বেশি, ফলনও ভালো হয়। পোকা-মাকড় আক্রমণ করে না বললেই চলে।

দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া গ্রামের কৃষক আরফান আলী বলেন, ব্রি-৩৪ জাতের ধান চাষ এবার করেছেন। কালোজিরা ও চিনিগুড়া আগে চাষ করতেন। এবার ব্রি-৩৪ চাষ করে ওই সব জাতের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পেয়েছেন।  একই ইউনিয়নের গড়াসিন গ্রামের কৃষক আবু বক্কর মিয়া বলেন, সুগন্ধি এ ধানের দাম অনেক বেশি। তাই আমরা এ ধান আবাদ করছি। আমরা যদি সরকারি ভাবে আরও বেশি বীজ পেতাম। তাহলে আবাদও বেশি করতে পারতাম লাভও বেশি হতো আমাদের। 

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, কালোজিরা চিনিগুড়াসহ অন্য সুগন্ধি ধানের তুলনায় ব্রি-৩৪ ধান প্রতি হেক্টরে একটন বেশি করে উৎপাদন হয়। এ জন্য কৃষি বিভাগ থেকে ব্রি-৩৪ ধান আবাদ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।  কৃষকদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সুগন্ধি ধান চাষ অনেক লাভজনক। এই ধান চাষ বেশি সম্প্রসারিত হোক সে লক্ষ্যে কৃষিবিভাগ কাজ করছে। কৃষকরা আরও লাভবান হোক এজন্য এই জাতের বীজ সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা কৃষিবিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

;

দেশে এ বছর বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭১ লাখ মানুষ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দেশে এ বছর বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭১ লাখ মানুষ

দেশে এ বছর বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭১ লাখ মানুষ

  • Font increase
  • Font Decrease

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর ৭ দশমিক ১ মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যা ২০৫০ সালের মধ্যে ১৩ দশমিক ৩ মিলিয়নে (এক কোটি ৩৩ লাখ) পৌঁছতে পারে। সোমবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

পাঁচ দিনব্যাপী তৃতীয় গ্লোবাল স্কুল অন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেন্ট হেলথ শীর্ষক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করে ডব্লিউএইচও। শরণার্থী এবং অভিবাসী স্বাস্থ্য সমস্যাগুলিকে ভালোভাবে মোকাবিলা, পেশাদার দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য দেশ ও অঞ্চলগুলোকে সহায়তা করতে পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দ্বন্দ্ব, বাণিজ্য এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি এই বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসন সমস্যা বাড়াচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি ৮ জনের মধ্যে এক জন, ১ বিলিয়ন লোকের মধ্যে ২৮১ মিলিয়ন অভিবাসী এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়েছে।

ডব্লিউএইচও কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ তিনটি বড় ধরনের অভিবাসী সমস্যা প্রত্যক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুতরা। মিয়ানমার তার বেশকিচু নাগরিককে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছে, যাদের প্রত্যেকের খাবার, চিকিৎসা ও বসবাসের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বাস্তুহীন এবং অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক ডা. সান্তিনো সেভেরোনি বলেন, বার্ষিক গ্লোবাল স্কুল অন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেন্ট হেলথ হচ্ছে ডব্লিউএইচও হেলথ অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একটি ফ্ল্যাগশিপ এবং প্রচারের জন্য গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান। যা বাস্তবায়নের দিকে উদ্বাস্তু ও অভিবাসী স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আঞ্চলিক এবং দেশীয় অফিসগুলোর সঙ্গে কৌশলগত এবং অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদারের জন্য একটি বড় সুযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ড. টেডরস আধানম ঘেব্রেইসুরস বলেন, অভিবাসন এবং বাস্তুচ্যুতি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার ওপর গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্য, আর্থিক বাধা, কুসংস্কার এবং বৈষম্য সবই উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। শরণার্থী গ্লোবাল স্কুলের মাধ্যমে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের আরও ভাল সেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্বাস্থ্যের অধিকার সর্বত্র সব মানুষের জন্য সমান অধিকার। বিশেষ করে উদ্বাস্তু এবং অভিবাসীদের জন্য প্রসারিত। কারণ সত্যিকার অর্থে সম্মানিত, সুরক্ষিত এবং পরিপূর্ণ হতে হলে, স্বাস্থ্যের অধিকার অবশ্যই সবচেয়ে প্রান্তিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ভালোভাবে দিতে হবে, যারা এখনো সমস্যায় এবং ঝুঁকিতে আছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রেক্ষাটের চিত্র ও চ্যালেঞ্জ একই নয়, সমাধানও একই না। তবে সব দেশ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এমন একজন স্বাস্থ্য কর্মী, যিনি প্রশিক্ষিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র তাদের ( রোহিঙ্গা) বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার সুবিধাই দেয়নি, আরও অনেক কিছু করেছে। যার মধ্যে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ছাড়াও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং আইনি দুর্বলতাগুলি মোকাবিলার জন্য সমন্বিত চেষ্টাও করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বেসরকারি সংস্থা, যুব প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেবেন।

;

ভারতের বিশেষ স্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ: মুর্মু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী দিনগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর জোর দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে বাংলাদেশ বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

ভারতে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করতে গেলে মুর্মু বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বন্ধনে আবদ্ধ এবং অভিন্ন ত্যাগের মাধ্যমে এ অনন্য বন্ধন গড়ে উঠেছে।

নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ঢাকায় ভারতের ব্যাপক ভিসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বছর যৌথভাবে উদযাপন করার কথা স্মরণ করেন।

তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে গভীর রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে গত সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে এবং পরে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা স্মরণ করেন।

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার পরিচয়পত্র পেশ করার সুযোগ লাভের জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা ১৯৭১ সালের যুদ্ধক্ষেত্রেই সূচিত হয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এটিকে ‘প্রতিবেশী সম্পর্কের’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রপতিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি এ সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত ও সুসংহত করার চেষ্টা করবেন।

এ প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত হাইকমিশনার পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিরাম প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

মুস্তাফিজুর রহমান ২০২০-২২ সাল পর্যন্ত জেনেভায় জাতিসংঘ দফতর, ডব্লিউটিও ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরে ভারতে তার কার্যভার গ্রহণ করেন। তিনি সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

;