বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত: প্রণয় ভার্মা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, নয়াদিল্লী আগামী দিনগুলোতে ঢাকার পাশে থাকতে প্রস্তুত রয়েছে। ভারত ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য দিয়ে থাকে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মৈত্রী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গলফক্লাবে মৈত্রী দিবসের ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ভারতীয় হাই কমিশন এই অভ্যর্থনা ও সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং অধিকতর সমৃদ্ধি ও সাফল্যের পথচলায় আগামী দিনগুলোতেও পাশে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দু’দেশের নেতারাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আমাদের জন্য এটা ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’, কিন্তু প্রতিবেশীদের মধ্যেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটি সত্যিই বহুমুখী এবং একে অপরের জাতীয় উন্নয়নের সম্পূরক। ১৯৭১ সালের এই দিনে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০ দিন আগেই, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়েছিল।

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, বিগত ৫১ বছরে ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের অর্জন ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ হিসেবে এই দিনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্ব ১৯৭১ সালে অভিন্ন উৎসর্গের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং এই সম্পর্কের শিকড় ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির দ্বারা অনেক গভীরে প্রোথিত।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের মহিমা এবং বঙ্গবন্ধুর মূল্যবোধ, আদর্শ ও স্বপ্নসিক্ত আমাদের এই মৈত্রীবন্ধনের শিকড় অত্যন্ত গভীরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দক্ষিণ-এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন করেছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, অধিকন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের আদর্শিক মানচিত্রেরও পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আপনাদের স্বাধীনতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে আমাদের দু’দেশের জনগণের মধ্যে অভিন্ন সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ভাষার বন্ধন ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের মধ্যে নিবিড় সংযোগ গড়ে তুলেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত ৫০ বছরে উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাদেরকে এখন নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ১৯৭১ সালের ইতিহাস বুঝতে পারে এবং সেই আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করতে পারে। ভার্মা আরও বলেন, আমাদের সৈন্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রক্ত ঝরিয়েছেন। এই অটুট বন্ধনের কারণেই পরীক্ষার সময় আমরা সব সময় পরস্পরের পাশে দাঁড়াব।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায়ই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জ্বালানি, আইটি ও মহাকাশের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতেও আমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী- এই অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হাই ইম্পেক্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তৃণমূল পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারত ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ভারত এ মাসে জি-২০ সভাপতি হওয়ার পর, আমাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ অতিথি রাষ্ট্র হিসেবে এতে যোগ দিয়েছে বলে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

হিরো আলমকে নিয়ে আ. লীগ-বিএনপির বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যকে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিয়ে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সর্বোপরি দেশের একজন সাধারণ নাগরিককে নিয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের বা কারোরই এমন উপহাস করার কোনো অধিকার নেই।

আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে জামানত হারালেও বগুড়া-৪ এ মাত্র ৮৩৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। রাজনীতির মাঠেও তাকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

হিরো আলমকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য অনভিপ্রেত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে। হিরো আলমকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। তারা সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে।

উল্টোদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ...এই আওয়ামী লীগ হিরো আলমের কাছেও কতটা অসহায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তার সঙ্গে জিততে হয়। দুই ক্ষেত্রেই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমকে অবজ্ঞা বা তাচ্ছিল্যসূচক বিবেচনায় পরস্পরকে আক্রমণ করেছেন দুই নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী পরস্পরকে নিয়ে বিষোদগার নতুন কিছু নয়। কিন্তু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমের ব্যক্তি পরিচয় ও অবস্থাকে মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করিয়ে দুই দল একে অপরকে আক্রমণ করেছেন। সেই মানদণ্ড যে ইতিবাচক কিছু নয়, বরং এর মাধ্যমে আলম এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি দেশের ‘সাধারণ’ একজন নাগরিকের প্রতি দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের এমন আচরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থূলতাকেই জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠিত করে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তার বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলে, কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত না হলে, দেউলিয়া না হলে, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ না করলে বা আনুগত্য স্বীকার না করাসহ কিছু শর্ত পূরণে তিনি সংসদ সদস্য হতে পারবেন। সংবিধানের শর্ত পূরণের পরও আলমকে কেন্দ্র করে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক শিষ্টাচারকেই ভূলুণ্ঠিত করে না, বরং তার সাংবিধানিক অধিকার অবজ্ঞার নামান্তরও বটে। হিরো আলম নির্বাচিত হলে সংসদকে ছোট করা হতো এমন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারন্তরে সংসদকে ছোট করা হয়েছে। কারণ, সংসদীয় গণতন্ত্রের চেতনা ও চর্চায় মানুষে-মানুষে বৈষম্যের প্রকাশ অগ্রহণযোগ্য।

;

দুই বছর পর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে যাবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর শহীদ মিনারে যাননি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবছর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তাদের আগমন, অবস্থান ও প্রত্যাগমনের সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করা হবে।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রস্থানের পর ৩০ মিনিট বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হবে। বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও যাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই সঙ্গে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রবেশ ও বের হওয়ার স্থানসহ প্রয়োজনীয় এলাকায় সিসিটিভি, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও আর্চওয়ে থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি ব্যবস্থা নেবে। আগেই ট্রাফিক রোডম্যাপ মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে। ঢাকা মহানগরের বাইরের অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকা, বিভাগীয় এলাকা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতেও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

মোছলেম উদ্দিন আ. লীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মী ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন।

তিনি বলেন, মানুষ মরণশীল একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে, তবে তার কর্মফলকেই মানুষ স্মরণ করে। মোছলেম উদ্দিন সাহেব আমাদের দল এবং দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তাকে জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মোছলেম উদ্দিন আহমদ ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কখনো তার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এবং তার পূর্বের আন্দোলনে চট্টগ্রামে তিনি সবসময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি একটি অপারেশন চালানোর সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ গ্রেফতার হন।সেখানে তিনি যথাযথ গেরিলার মতোই কাজ করেছিলেন এবং সেখান থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হন। মুক্ত হয়ে তিনি আবারও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এর মাধ্যমে দেশপ্রেম এবং দেশের জনগণের জন্য যে কর্তব্যবোধ সেটাই প্রকাশিত হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সাল আমাদের জন্য একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। মহিউদ্দিন চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দসহ যারা সেদিন প্রতিবাদ করেছিলেন, মোছলেম উদ্দিন তাদের সাথেই ছিলেন, তারা সেদিন সকলে মিলে প্রতিবাদ করেছিলেন। ওই সময় মৌলভী সৈয়দকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে দিনের পর দিন টর্চার করে জিয়াউর রহমান তাকে হত্যা করে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ আমাদের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। খালেদা জিয়া যে ভোট চুরি করেছিল, তার বিরুদ্ধে আমরা যে, ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেছিলাম, সেই আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। আমাদের প্রতিটি আন্দোলনে তার উপস্থিতি আমরা উপলব্দি করেছি। লালদিঘির ময়দানে মিটিং করতে গেলে সেখানে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল, একবার না-দুই/তিনবার আমি গুলির মুখোমুখি হই। মোছলেম উদ্দিন ভাইকে সব সময় পাশে পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে আমাকে দেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছিল। ওই সময় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছিল। তারপরও তিনি সক্রিয় ছিলেন, পিছু হটেননি। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ একজন কর্মীকে আমরা হারিয়েছি। তিনি আমাদের প্রতিটি দুঃসময়ে দলের পাশে যেমন ছিলেন, জাতীয় স্বার্থেও তিনি যথেষ্ট অবদান রেখে গেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু তার সেই কষ্টের কথা তিনি ভুলে গেলেন, যখন চট্টগ্রামে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেই জনসভা আয়োজন করতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ওই সময় তার একটা কেমো নেয়ার তারিখ ছিল। সেটাও তিনি নেননি, মনে করেছিলেন-মিটিংটা শেষ হবার পরই তিনি তা নেবেন। এই যে একটা আন্তরিকতা বা দলের প্রতি কর্তব্যবোধ, দেশের মানুষের প্রতি তার যে দায়িত্ববোধ সেটাই ছিল সব চাইতে বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য অনেকবারই চেষ্টা করেছি। দু’বার নমিনেশন দেয়ার পরও তিনি তখন জয়ী হতে পারেননি। পরে ২০২০ সালে মনোনয়ন দেয়ার পর তিনি জয়ী হয়ে আসেন। তিনি সংসদ সদস্য হয়ে আশায় খুবই খুশী ছিলেন যে, সংসদে তিনি তার জনগণের কথা বলতে পারবেন এই ভেবে। কিন্তু আজ তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আওয়ামী লীগের জন্য এটা একটা বিরাট ক্ষতি। কারণ ছোট বেলা থেকে চট্টগ্রামের সাথে আমাদের যোগাযোগ। চট্টগ্রামের বহু নেতা একে একে চলে গেছেন। করোনার সময় অনেককে আমরা হারিয়েছি। আওয়ামী লীগের ২১ জন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি, আর জাতীয় পার্টির দুইজন। এছাড়া ধর্মমন্ত্রী আব্দুল্লাহ সাহেবকেও আমরা হারিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

;

‘গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করলে করদাতার সংখ্যাও বাড়বে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্রেতা ও ভোক্তার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গ্রামের মানুষের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করে তাই গ্রামেও আয়কর জাল সম্প্রসারণ করতে হবে।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়কর বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে যখন হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২৭৭ মার্কিন ডলার। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৩২৯ ডলার। ২১ বছরে মাথাপিছু আয়ে[
’[র পার্থক্য মাত্র ৫২ মার্কিন ডলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতাগ গ্রহণ করেন তখন দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০০ মার্কিন ডলার, বর্তমানে তা ২৮২৪ ডলারে উন্নত হয়েছে। মাত্র ১৪ বছরে ২১২৪ ডলারের মাথাপিছু আয়ের পার্থক্যটা অভূতপূর্ব এবং অসাধারণ।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ আমাদের ৬৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী যুবক যারা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে সমদৃত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। কর প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সবাইকে অংশ গ্রহন করারও আহবান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে আয়কর প্রদান করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। সেজন্য আয়কর ব্যবস্থায় সমন্বিত ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন যেখানে মাথাপিছু আয় সাড়ে বারো হাজার ডলার অর্জনের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে একই ছাতার নীচে আনতে পেরেছেন বলেই মাত্র ১৪ বছরে ২১২৪ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয় বেড়েছে আমাদের।

তিনি বলেন, আইএমএফ পাকিস্তানকে আবেদন করার দুই বছর পর এখনো ঋণ দেয়নি অথচ বাংলাদেশকে ৬ মাসে ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করে, তারা যেহেতু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখে তাই আয়কর ব্যবস্থা ব্যবসায়ী বান্ধব হতে হবে।

এ সময় তিনি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আয়কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত সংযুক্ত করলে তা আয়কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে 'আয়কর ব্যবস্থার ক্রম বিকাশ ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আয়করের ভূমিকা' এবং 'আয়কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা' শীর্ষক এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম।

;