ভোগান্তি যাদের আজন্ম সাথী

অবহেলিত জনপদের নাম হিজলা-মুলাদী-মেহেন্দীগঞ্জ!



এস এল টি তুহিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের সবচেয়ে অবহেলিত জনপদ হিসেবে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার নাম এখন সর্বজন স্বীকৃত। শুধু বংশ পরম্পরায় বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের খুনখারাবি বা মারামারির জন্যই নয়, নদীভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের হাহাকারের জন্যও এ অঞ্চল সমানভাবে পরিচিত এখন।

রাত নামলেই গৃহবন্দি জীবন
মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, স্কুল ছাড়াও অসংখ্য বসতভিটা, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে এ অঞ্চলের মেঘনা নদীর ভাঙনে। তার ওপর রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে সুচিকিৎসার জন্য তাকে নিতে হবে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। কিন্তু এ জন্য সহজে যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। অসংখ্য পোয়াতি মা এই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই হয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, নয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেল তিন উপজেলার প্রায় মানুষেরই মুখে।

এর মধ্যে সবচেয়ে করুণ ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় মেহেন্দীগঞ্জ এলাকার মানুষদের। চারদিকে শুধু অথৈ জলের হাবুডুবু। রাত নামলেই গৃহবন্দি জীবন।

ফেরি বা ট্রলারে করে নদী পার হলে তবেই ওপারে হিজলা ও মুলাদী উপজেলা। এ দুটি উপজেলা পাশাপাশি এবং একই সড়কে, একই সমস্যায় জর্জরিত। এখানে আড়িয়াল খাঁ এবং মেঘনা নদী শহরের সঙ্গে এই দুই উপজেলাকেও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

অন্যদিকে, হিজলা এবং মেহেন্দীগঞ্জ নিয়ে বরিশাল-৪ আসনটি গঠিত। ফলে, হিজলার সঙ্গে মেহেন্দীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদীভাঙন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে হিজলার তিনপাশে এবং মুলাদীর একপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা বরিশাল-৩ সংসদীয় আসন। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন। বাবুগঞ্জের সন্তান রাশেদ খান ইতোপূর্বেও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তবে নিজ এলাকার উন্নয়নে কখনোই কোনো ভূমিকা নেননি বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে মুলাদীর মানুষের জন্য তিনি কিছু করবেন বলে বিশ্বাস করতে চান না মুলাদীবাসী।

যাতায়াত সংকটের কারণে মুলাদীর বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু জানালেন, এই যাতায়াত সংকটের কারণে মুলাদীর বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন। এখানে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির পরও ওপারে বাবুগঞ্জ লাকুটিয়া সড়কটি মেরামত করা না হলে ভোগান্তি কমবে না।

কৃষি এবং নদীতে মাছ শিকার এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা। বলা যায়, জেলে অধ্যুষিত অঞ্চল এই মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা। তিন উপজেলার লোকসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ হবে বলে অনুমান করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম. মাহফুজ-উল-আলম।

তিনি বলেন, শুধু মেহেন্দীগঞ্জের জনসংখ্যাই বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ। ঝড়-ঝঞ্ঝা মাথায় নিয়ে আমরা যে এখনো বেঁচে আছি, এটাই তো আশ্চর্যের বিষয়! মেহেন্দীগঞ্জের যোগাযোগ সবটাই নদীপথে আর হিজলা উপজেলার মানুষের জন্য সড়ক পথ রয়েছে। তবে তা মুলাদীর খেয়াঘাট পর্যন্তই।

নদীপথে বরিশাল থেকে সরাসরি স্পিডবোটে তিন উপজেলাতেই আসাযাওয়া সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে জানালেন হাতেম আলী কলেজে অধ্যায়নরত হিজলার বাজার টেক এলাকার বাসিন্দা রেদোয়ান।

রেদোয়ান বার্তা২৪.কমকে বলেন, গরিব বা মধ্যবিত্ত কিংবা ধনী, আমাদের সবাইকে বাজার-সদাই করতে, চাকরি, পড়াশোনা করতে বরিশাল শহরে যেতেই হয়। শহরে যেতে হলে হিজলা থেকে ‘মাহেন্দ্র’ (হিউম্যান হলার) বা অটোরিকশা নিয়ে মুলাদীর কাজীচর খেয়াঘাট যেতে হবে। সেখান থেকে খেয়া পার হয়ে ওপারে মীরগঞ্জ। মীরগঞ্জ থেকে অটোরিকশা বা ইজিবাইক নিয়ে বাবুগঞ্জের রহমতপুর যেতে হবে। আগে তাও লাকুটিয়া দিয়ে যাতায়াত করা যেতো। কিন্তু ওই সড়ক এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আমাদের তাই আরো ঘুরে রহমতপুর থেকে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছাতে কম করে হলেও দুই, আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে এখন।

বরিশাল থেকে হিজলা উপজেলা পরিষদে এসে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল নিয়ে এই প্রতিবেদকেরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথের দূরত্ব পার হতে।
তিন পাশে নদী। একপাশে সড়ক চলে গেছে, মুলাদীর কাজীরচর খেয়াঘাট পর্যন্ত। চারদিকে শুধু ভাঙনের চিত্র এখানে।

বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের ওপর অসংখ্য ঘরবাড়ি চোখে পড়ে। টেকের বাজার বা বাজার টেক পার হয়ে দক্ষিণে বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউসিয়া গ্রাম। মেঘনা নদীর পাড়ে এখানে ২শ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। নদী তীরবর্তী বাউসিয়া গ্রামের মানুষ তাতেই অনেক খুশি!

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ ও শাম্মী আহম্মেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারা বলেছেন, এই ব্যাগ যদি ফেলা না হতো, তাহলে এবছরের মধ্যে হিজলা উপজেলা পরিষদ এলাকাও নদীতে বিলুপ্ত হয়ে যেতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝন্টু হাওলাদারসহ গ্রামবাসীর কয়েকজন বলেন, এই জিও ব্যাগ হয়ত সাময়িকভাবে ভাঙন রোধে সাহায্য করবে তবে নদীর দুই পাড়ে বরিশালের চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া বেড়িবাঁধের মতোই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

একইসঙ্গে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবিও জানান হিজলা উপজেলার বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয়, স্থানীয় সাংবাদিক ও হিজলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে

এখানে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয়, স্থানীয় সাংবাদিক ও হিজলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। দেলোয়ার হোসেন জানালেন, ইতোমধ্যে ৫টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে, আরো অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদিও এখানে ৬শ ২৮ কোটি টাকার কাজের বরাদ্দ দিয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টাও শুরু হয়েছে। তবে ১০টি প্যাকেজে এই কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি প্যাকেজের কাজই দৃশ্যমান।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, নদীভাঙন রোধে গৃহীত পদক্ষেপ আমার আসার আগেই হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কাজের মান নিয়েও কিছু বলতে পারবো না। তবে মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

মীরগঞ্জ সেতু তৈরি হয়ে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের ৮০ ভাগ ভোগান্তি দূর হয়ে যাবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা আ.লীগ নেতা মিজানুর রহমানকে বহিষ্কার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান

আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

পিএসসিসহ প্রশ্নফাঁস ও চাকরি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানকে পদ থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিষয়টি সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বিকেলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদিতমারী উপজেলা শাখার জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠন বিরোধী, শৃঙ্খলা-পরিপন্থি, অপরাধমূলক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ মিজানুর রহমান (সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আদিতমারী উপজেলা শাখা, লালমনিরহাট) কে স্বীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে, শুক্রবার রাতে একটি বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে পিএসসির প্রশ্নফাঁস ও চাকরি বাণিজ্য চক্রের হোতা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় এলাকার মিজানুর রহমান ওরফে এমডি মিজানের এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।

প্রতিবেদনে তারই আত্মীয় এটিএম মোস্তফার নামও উঠে আসে। বিষয়টি প্রকাশের পর পরই জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। এছাড়াও জেলাজুড়ে এ ঘটনাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিচিতরা নানান সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে থাকেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিজানুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মহোদয়কে অবগত করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

;

মেঘনায় মিলল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদী থেকে এক অজ্ঞাত (৩২) যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তবে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর কূল থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে জোয়ারের সাথে মরদেহটি উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর কূলে ভেসে আসে। সকালে স্থানীয় লোকজন নদীর কূলে গেলে মরদেহটি উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। পরে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তবে তাৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া মরদেহের কোনো পরিচয় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ভাসমান। জোয়ারের পানিতে এখানে ভেসে আসে। শরীর পঁচে ফুলে যাওয়ায় চেহারা চেনা যাচ্ছেনা।

;

কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: যশোরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলন

ছবি: যশোরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারী চাকরি নিয়োগে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী কতৃক জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১২টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মুজিব বাহিনীর যশোর জেলার ডেপুটি কমান্ডার রবিউল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি, সরকারী দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত বা আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেডে (১ম ও ২য় শ্রেণি) কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ আন্দোলন করছে।

এই আন্দোলনের ফলে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলির বিভিন্ন পয়েন্টসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ সৃষ্টি করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিভিন্ন প্রকার যানবাহন এমনকি পায়ে হাটা জনতার পথরোধ করে ঘন্টার পর ঘন্টা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে চলেছে। তারা সমগ্র দিবস "বাংলা ব্লকেড” নামে অবরোধ আরোপ করছে, রেলপথ অবরোধ করছে এমনকি সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচী দেবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত এদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট কোটার পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই (সংবিধান প্রণনয়নের পূর্বেই) বঙ্গবন্ধু সরকার সরকারী চাকরীতে মুক্তিযোদ্ধদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বহাল করেছিলেন। প্রায় ৫৩ বছর ধরে সরকারী চাকরিতে নিয়োগের এই কোটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে হ্রাস বৃদ্ধি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,শুধু বঙ্গবন্ধুর সরকার নয়, ১৯৭৫ সালের পর যতগুলি সরকার এসেছে সকল সরকারের আমলেই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থেকেছে, কোন সময়ই এই কোটা বাতিল নিয়ে কোন কথা ওঠেনি। কোন আন্দোলনও হয়নি। আজ কোটা বিরোধী আন্দোলনের ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের এই সামাজিক পরিবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে যে সকল অতিকথন বা অপপ্রচার চলছে তা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক এবং অসম্মানজনক। আমরা এ জাতীয় কর্মকান্ড ও অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ করছি। ২০১৩ সালে মাননীয় হাইকোর্টের এক রায়ে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক ৯ম থেকে ১৩ম গ্রেড পর্যন্ত কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল ২০১৩ সালে মহামান্য হাইকোর্টের উক্ত বিষয়ে প্রদত্ত রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক।

আন্দোলনের প্রতিবার জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ১০ জুলাই দুপুরে সকল পক্ষকে স্থিতাবস্থা পালনের আদেশ দেওয়ার পরও ঐদিন ঢাকার শাহবাগ মোড় সহ অন্যান্য পয়েন্টে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে যাবতীয় যানবাহনসহ সাধারণ পথচারীদের চরম দূর্বিপাকের সৃষ্টি করে এবং পরদিন ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার সমান ভাবে অবরোধ পালিত হবে বলে ঘোষণা দেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মুক্তিযো রবিউল ইসলাম আরও বলেন,স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সব সময় জেনে আসছি যে, কোন বিষয়ে এমনকি দেশের পবিত্র সংবিধান বিষয়ে কোন মতানৈক্য সৃষ্টি হলে সুপ্রিম কোর্টই হল সেই প্রতিষ্ঠান যার বা যাদের রায় বা আদেশ বা ব্যাখ্যা সকল নাগরিক এমনকি খোদ সরকারের জন্য অবশ্য পালনীয় হয়ে দাঁড়ায়।আজ সবচেয়ে দুঃখজনক হল কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করে চলেছে। তারা ১১ ও ১২ জুলাই অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে জনজীবন বিপর্যন্ত করে তুলেছে। শুধু তাই নয় টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ অবরোধ চলাকালে রাস্তায় ফেলে দেওয়া জাতীয় পতাকার উপর দিয়ে অবলীলায় হেটে যাচ্ছে আবার কেউ কেউ জাতীয় পতাকা রাস্তায় বিছিয়ে তার উপরে বসে তাস খেলছে। তাদের মধ্যে অনেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে কুঁয়া বলে কটুক্তি করছে। একই সাথে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে কটুক্তি করছে। আজ যারা ছাত্র, তারা আগামী দিনে দেশের কর্ণধার। তাদের নিকট থেকে এমন স্পর্কিত আচরণ আমরা আশা করি না এবং তা মেনে নেওয়া যায় না। যশোর জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আমরা এই নৈরাজ্যজনক আচরণের জোড়ালো নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।

আজকের যারা ছাত্র-ছাত্রী, তারা আমাদেরই সন্তানতুল্য। তাদের অগ্রযাত্রা আমরা সর্বদাই কামনা করি। তবে আন্দোলনের নামে এমন কিছুই করা উচিত নয় যা দেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে চলে যায়। দেশের ভবিষ্যত হলো বর্তমান প্রজন্ম। তারা যদি বলে আমরা সর্বোচ্চ আদালত মানি না তাহলে জাতি কোথায় যেয়ে বিচার প্রার্থনা করবে?

আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, 'কোটা না মেধা' 'মেধা মেধা' আমাদের কথা হলো- এদেশের মানুষের অসম বিকাশের দিকে তাকালে এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুধু মেধাবীদের স্বার্থপরতার কথাই ফুটে ওঠে। প্রশ্ন হলো- এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে সমাজের অনগ্রসর মানুষগুলোকে কী বঞ্চনার গহবরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে না?

এ প্রসঙ্গে সকলের জানা থাকা দরকার দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় অমেধাবীদের চাকরির কোনও সুযোগ নেই। যেখানে মেধার সাথে মেধার প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই চাকরি হয়। এমত পরিস্থিতিতে আমরা কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ-সভাপতি হায়দার গণি খান পলাশ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এইএচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, আবুল হোসেন, সাবেক জেলা কমান্ডার শেখ আব্দুল রাজ্জাক, আব্দুস সাত্তার, নজরুল ইসলাম চাকলাদার, অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, আমিরুল ইসলামসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

;

ঘরে বসেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব: পলক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ছবি:  ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক

ছবি: ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক

  • Font increase
  • Font Decrease

ডাক, টেলিযোগাযোগ, ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আইটি ট্রেনিং নিয়ে ঘরে বসেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের আইটি ব্যবহার করে তারা ঘরে বসেই ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে কিন্তু ডলার ইনকাম করতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নে শেখ কামাল আইটিতে ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে একাডেমিক এবং আইটি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। ফলে আইটি/আইটিইএস খাতে বাংলাদেশের যুব সমাজের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে বের হয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেনো ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারেন সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাই-টেক পার্ক স্থাপনের কাজও সমান্তরালে চলমান রয়েছে। এই ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার হতে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

আমরা আশা করছি আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর নির্মাণ শেষ হয়ে যাবে এবং এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করবো। এই তরুণ-তরুণীরা ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার আয় করবে; ডলার আয়ের জন্য আর বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নাই। আর এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই আমরা ২০৪১ সালের আগেই একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

এ সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও ২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুরগাও নারী আসনের সংসদ সদস্য দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ আপেল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোসারুল ইসলাম, সহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;