গার্ডার ধসে মৃত্যু: যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ে ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহতের ঘটনা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুলাই) এক যুগ আগে দায়ের হওয়া মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞা এসব মন্তব্য করেছেন। রায়ে ৮ আসামির প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আলাদতের রায়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে মানুষের মৃত্যু ও আহতের ঘটনা ফৌজদারি মামলার মতো ঘটনা প্রমাণের কোনো আবশ্যকতা নেই। ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবেভাবে প্রমাণিত। এতো বিশাল আকারের কর্মযজ্ঞের মধ্যে তিনটি গার্ডার ভেঙে পড়ে ১৩ জন মানুষ মারা যাওয়া ও বহু মানুষ আহত হওয়ার এই ঘটনা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মামলায় নিহতের ক্ষেত্রে আসামিদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মৃত্যু হতে পারে এমন ধারণাও আসামিদের ছিল না। প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য, তদন্ত কমিটিসমূহের প্রতিবেদন ও নথিতে রক্ষিত কাগজে এতো বড় দুর্ঘটনায় সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের দায় প্রায় পুরোটাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার-পারিশার। কিন্তু প্রতিষ্ঠান একটি বিমূর্ত ধারণা মাত্র। প্রতিষ্ঠানকে সাজা প্রদান করা বাস্তবসম্মত নয়। বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত এই দুর্ঘটনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মালিক থেকে শুরু করে সকল কর্মচারী, যারা যেই পদেই থাকুক না কেন।

'এই আসামিরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সংঘটিত যে কোনো অপরাধমূলক অবহেলার জন্য দায়ী। এই দায় আসামির ব্যক্তিগত নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়। প্রতিষ্ঠানের সাজা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বচ্ছতা ও জন্যবদিহিতা হুমকির মুখে পড়বে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার এই নিম্ন বিত্ত মানুষগুলোর পারিবারের অভিশাপ থেকে এ দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের জবাবদিহিতার অভাব, নির্মাণকারী, ঠিকাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে কাজের সমন্বয় না থাকা, ফ্লাইওভার নির্মাণের মতো এতো বিশাল কর্মযজ্ঞে ন্যূনতম নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ না করা, দুর্ঘটনার পর ফ্লাইওভার নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের পারস্পরিক দোষারোপ ইত্যাদি বিষয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি উদবুদ্ধ যেকোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে।'

তৎকালীন পত্রিকায় ছাপানো খবর। ছবি: সংগৃহীত

রায়ে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত শ্রেণির এবং এদের অনেকেই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কাম্য নয়। ২টি তদন্ত কমিটি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার ও পারিশার ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে বহু অনিয়ম ও ব্যত্যয় খুঁজে পেয়েছেন, যার দায় আসামিরা উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

রায়ে বলা করা হয়, একজন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যে এটা প্রমাণিত যে, দুর্ঘটনা সংঘটনের পর সিডিএ কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছেন। যা ঘটনার ব্যাপকতা ও ভয়াবহতার তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে এ আদালত মনে করে। কোনো প্রাণের ক্ষতিপূরণ অর্থ দ্বারা পূরণ হওয়ার নয়। কারণ এ ঘটনায় মৃত এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবার নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘদিন একটি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা অর্থ দিয়ে পূরণযোগ্য নয়। তাছাড়া, ভুক্তভোগীদের অনেকেই শারীরিকভাবে অসমর্থ হয়ে পড়ায় জীবিকা অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪৫(১) (বি) ধারার বিধান মোতাবেক, দেওয়ানি আদালতের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষমতা অক্ষুন্ন রেখে, আসামিদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে, যার মধ্যে মৃতের পরিবারসমূহকে ১ লাখ টাকা হারে এবং আহতদের পরিবারকে অবশিষ্ট টাকা আনুপাতিক হারে, প্রদান করলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে বলে এ আদালত মনে করে।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, আসামিপক্ষের দেওয়া সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কপিদৃষ্টে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর সিডিএর চেয়ারম্যান মৃতের পরিবারকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা, পঙ্গুদের ১ লাখ টাকা এ আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। কিন্তু, আসামিপক্ষে দেওয়া পত্রিকার কপি একটি ফটোকপিমাত্র, যার মূলকপি চিহ্নিত হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত এমন কোনো মৃতের পরিবারের সদস্য কিংবা গুরুতর আহত কাউকে আসামিপক্ষ হতে ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। মামলাটি দীর্ঘ ১২ বছরের পুরাতন একটি মামলা এবং আসামিরাসহ ভুক্তভোগী ও ভুক্তভোগীর পরিবার, সাক্ষীরা দীর্ঘদিন যাবৎ ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশায় কোর্টে আসা যাওয়া করছে। ক্ষতিগ্রস্তের দ্রুত বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত না করা এটা রাষ্ট্র এবং বিচারকার্যে জড়িত সকলের ব্যর্থতা।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, পেনাল কোডের ৩০৪ এর এ ৩৪ ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ৮ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পেনাল কোডের ৩৩৮ এর ৩৪ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উভয় কারাদণ্ড একটির পর আরেকটি চলবে। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা জরিমানার টাকা নিহত পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে অবশিষ্ট টাকা আনুপাতিক হারে প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিদের উপর আরোপিত জরিমানার অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সেইসঙ্গে আসামিদের উপর আরোপিত জরিমানার অর্থ এজাহারে উল্লেখিত নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারসমূহের নিকট রায়ে উল্লেখিত হারে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন সবাই ঠিকাদার মীর আখতার-পারিসা’র (জেভি) তৎকালীন কর্মী। তারা হলেন- প্রকল্প ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আবদুল জলিল, আমিনুর রহমান, আবদুল হাই, মোশাররফ হোসেন, মান নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলী শাহজাহান আলী ও রফিকুল ইসলাম।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট আবদুর রশীদ বলেন, এই দুর্ঘটনার দায় প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। আদালত রায় ঘোষণার সময় এই মেসেজটাই দিয়েছেন, আসামিরা যেখানেই দায়িত্ব পালন করুক না কেন এ দায় তাদের ওপরও বর্তায়। সারাদেশে আরও যেসকল প্রতিষ্ঠান এরকম বড় বড় কাজ করছেন তারা যেন সতর্ক থাকেন এবং এরকম দুর্ঘটনা না হয় সেই মেসেজই দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, কর্তব্যে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৮ জুন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মজিবুর রহমানের আদালত ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মেঘনায় মিলল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদী থেকে এক অজ্ঞাত (৩২) যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তবে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর কূল থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে জোয়ারের সাথে মরদেহটি উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর কূলে ভেসে আসে। সকালে স্থানীয় লোকজন নদীর কূলে গেলে মরদেহটি উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। পরে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তবে তাৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া মরদেহের কোনো পরিচয় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ভাসমান। জোয়ারের পানিতে এখানে ভেসে আসে। শরীর পঁচে ফুলে যাওয়ায় চেহারা চেনা যাচ্ছেনা।

;

কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: যশোরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলন

ছবি: যশোরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারী চাকরি নিয়োগে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী কতৃক জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১২টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মুজিব বাহিনীর যশোর জেলার ডেপুটি কমান্ডার রবিউল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি, সরকারী দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত বা আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেডে (১ম ও ২য় শ্রেণি) কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ আন্দোলন করছে।

এই আন্দোলনের ফলে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলির বিভিন্ন পয়েন্টসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ সৃষ্টি করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিভিন্ন প্রকার যানবাহন এমনকি পায়ে হাটা জনতার পথরোধ করে ঘন্টার পর ঘন্টা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে চলেছে। তারা সমগ্র দিবস "বাংলা ব্লকেড” নামে অবরোধ আরোপ করছে, রেলপথ অবরোধ করছে এমনকি সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচী দেবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের পূর্ব পর্যন্ত এদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট কোটার পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই (সংবিধান প্রণনয়নের পূর্বেই) বঙ্গবন্ধু সরকার সরকারী চাকরীতে মুক্তিযোদ্ধদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বহাল করেছিলেন। প্রায় ৫৩ বছর ধরে সরকারী চাকরিতে নিয়োগের এই কোটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে হ্রাস বৃদ্ধি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,শুধু বঙ্গবন্ধুর সরকার নয়, ১৯৭৫ সালের পর যতগুলি সরকার এসেছে সকল সরকারের আমলেই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থেকেছে, কোন সময়ই এই কোটা বাতিল নিয়ে কোন কথা ওঠেনি। কোন আন্দোলনও হয়নি। আজ কোটা বিরোধী আন্দোলনের ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের এই সামাজিক পরিবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে যে সকল অতিকথন বা অপপ্রচার চলছে তা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক এবং অসম্মানজনক। আমরা এ জাতীয় কর্মকান্ড ও অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ করছি। ২০১৩ সালে মাননীয় হাইকোর্টের এক রায়ে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক ৯ম থেকে ১৩ম গ্রেড পর্যন্ত কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল ২০১৩ সালে মহামান্য হাইকোর্টের উক্ত বিষয়ে প্রদত্ত রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক।

আন্দোলনের প্রতিবার জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ১০ জুলাই দুপুরে সকল পক্ষকে স্থিতাবস্থা পালনের আদেশ দেওয়ার পরও ঐদিন ঢাকার শাহবাগ মোড় সহ অন্যান্য পয়েন্টে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে যাবতীয় যানবাহনসহ সাধারণ পথচারীদের চরম দূর্বিপাকের সৃষ্টি করে এবং পরদিন ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার সমান ভাবে অবরোধ পালিত হবে বলে ঘোষণা দেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মুক্তিযো রবিউল ইসলাম আরও বলেন,স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সব সময় জেনে আসছি যে, কোন বিষয়ে এমনকি দেশের পবিত্র সংবিধান বিষয়ে কোন মতানৈক্য সৃষ্টি হলে সুপ্রিম কোর্টই হল সেই প্রতিষ্ঠান যার বা যাদের রায় বা আদেশ বা ব্যাখ্যা সকল নাগরিক এমনকি খোদ সরকারের জন্য অবশ্য পালনীয় হয়ে দাঁড়ায়।আজ সবচেয়ে দুঃখজনক হল কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করে চলেছে। তারা ১১ ও ১২ জুলাই অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে জনজীবন বিপর্যন্ত করে তুলেছে। শুধু তাই নয় টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ অবরোধ চলাকালে রাস্তায় ফেলে দেওয়া জাতীয় পতাকার উপর দিয়ে অবলীলায় হেটে যাচ্ছে আবার কেউ কেউ জাতীয় পতাকা রাস্তায় বিছিয়ে তার উপরে বসে তাস খেলছে। তাদের মধ্যে অনেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে কুঁয়া বলে কটুক্তি করছে। একই সাথে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে কটুক্তি করছে। আজ যারা ছাত্র, তারা আগামী দিনে দেশের কর্ণধার। তাদের নিকট থেকে এমন স্পর্কিত আচরণ আমরা আশা করি না এবং তা মেনে নেওয়া যায় না। যশোর জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আমরা এই নৈরাজ্যজনক আচরণের জোড়ালো নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।

আজকের যারা ছাত্র-ছাত্রী, তারা আমাদেরই সন্তানতুল্য। তাদের অগ্রযাত্রা আমরা সর্বদাই কামনা করি। তবে আন্দোলনের নামে এমন কিছুই করা উচিত নয় যা দেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে চলে যায়। দেশের ভবিষ্যত হলো বর্তমান প্রজন্ম। তারা যদি বলে আমরা সর্বোচ্চ আদালত মানি না তাহলে জাতি কোথায় যেয়ে বিচার প্রার্থনা করবে?

আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, 'কোটা না মেধা' 'মেধা মেধা' আমাদের কথা হলো- এদেশের মানুষের অসম বিকাশের দিকে তাকালে এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুধু মেধাবীদের স্বার্থপরতার কথাই ফুটে ওঠে। প্রশ্ন হলো- এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে সমাজের অনগ্রসর মানুষগুলোকে কী বঞ্চনার গহবরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে না?

এ প্রসঙ্গে সকলের জানা থাকা দরকার দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় অমেধাবীদের চাকরির কোনও সুযোগ নেই। যেখানে মেধার সাথে মেধার প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই চাকরি হয়। এমত পরিস্থিতিতে আমরা কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ-সভাপতি হায়দার গণি খান পলাশ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এইএচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, আবুল হোসেন, সাবেক জেলা কমান্ডার শেখ আব্দুল রাজ্জাক, আব্দুস সাত্তার, নজরুল ইসলাম চাকলাদার, অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, আমিরুল ইসলামসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

;

ঘরে বসেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব: পলক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ছবি:  ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক

ছবি: ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পলক

  • Font increase
  • Font Decrease

ডাক, টেলিযোগাযোগ, ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আইটি ট্রেনিং নিয়ে ঘরে বসেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের আইটি ব্যবহার করে তারা ঘরে বসেই ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে কিন্তু ডলার ইনকাম করতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নে শেখ কামাল আইটিতে ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে একাডেমিক এবং আইটি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। ফলে আইটি/আইটিইএস খাতে বাংলাদেশের যুব সমাজের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে বের হয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেনো ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারেন সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাই-টেক পার্ক স্থাপনের কাজও সমান্তরালে চলমান রয়েছে। এই ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার হতে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

আমরা আশা করছি আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এর নির্মাণ শেষ হয়ে যাবে এবং এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করবো। এই তরুণ-তরুণীরা ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার আয় করবে; ডলার আয়ের জন্য আর বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নাই। আর এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই আমরা ২০৪১ সালের আগেই একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

এ সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও ২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুরগাও নারী আসনের সংসদ সদস্য দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ আপেল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোসারুল ইসলাম, সহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;

কোটা আন্দোলন মামলায় যে অভিযোগ করল পুলিশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং মারধরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের পরিবহন বিভাগের গাড়িচালক খলিলুর রহমান।

শনিবার (১৩ জুলাই) বার্তা২৪.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতি. উপ-পুলিশ কমিশনার (রমনা জোন) শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে খলিলুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতি. উপ-পুলিশ কমিশনার (রমনা জোন) শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা একটি মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে আমাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। মামলা না করলে গাড়ি রিপেয়ার করতে পারছিনা। সাজোয়া যান ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা একটি ভাঙচুরের মামলা করা হয়েছে।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ১১ জুলাই কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে বিকেল ৪টার সময় স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে বেআইনি জনতায় আবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা শাহবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন ও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সাধারণ জখম করেন।’

‘পরে তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ সময় বিএসএমএমইউয়ের পাশে নিরাপদ স্থানে রাখা এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যাননের চারদিকে ঘেরাও করে অনেক সংখ্যক আন্দোলনকারীরা গাড়ির ওপর উঠে উদ্দাম নৃত্য শুরু করেন। তারা ওয়াটার ক্যানন চালককে গাড়ি থেকে জোর করে বের করার চেষ্টা ও গতিরোধ করেন। এর ফলে এপিসি ২৫ এর সামনের দুইটি এসএস স্ট্যান্ড, বনাটের উপরে বাম পাশে রেডিও অ্যান্টেনা এবং ডান পাশের পেছনের চাকার মার্টগার্ড চলি এবং ওয়াটার ক্যাননের বাম পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে অনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ছাত্রদের অন্যান্য সিনিয়র স্যাররা বুঝিয়ে শুনিয়ে এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যানন থেকে নামিয়ে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল, টেপটেনিস বল ও ইটের টুকরা ছুড়ে মারেন। এতে অনেক পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।’

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব সিনিরয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বারডেম হাসপাতালের গেটের ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের আহত করেন। তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন। ছাত্ররা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানায় ছাত্রদের ধরে নিয়ে গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে মারতে তেড়ে আসেন ও পুলিশকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শাহবাগ মোড় ত্যাগ করেন।’

বিবাদীরা বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি কাজে বাধা দেন। তারা স্বেচ্ছায় আঘাত করেন, গতিরোধ, দাঙ্গা দমনকারী কর্তব্যরতদের প্রতি আক্রমণ ও বাধা দিয়ে ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি দেখান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

;