খুলনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
স্কুলছাত্রী আফসানা মিমি, ছবি: সংগৃহীত

স্কুলছাত্রী আফসানা মিমি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনার খালিশপুরের বাস্তুহারা কলোনির তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আফসানা মিমিকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মহিদুজ্জামান আলোচিত এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় দেন। একই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খালিশপুরের বাস্তুহারা এলাকার মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে মো. বাবুল হাওলাদার ওরফে কালা বাবুল (৩৮) ও সাদেক হোসেনের ছেলে এমদাদ হোসেন (৩৭)। রায় ঘোষণার সময় সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী মিমির বাবা মো. ইমাম হোসেন এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসামিদের দ্রুত ফাঁসি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে খালিশপুর থানার বাস্তুহারা কলোনির ৯ নম্বর রোডের ৪৯৮ নম্বর বাড়িতে বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেনের শিশুকন্যা মিমি দুই টাকা নিয়ে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। কিন্তু অনেক সময় পরেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবার। তাকে না পেয়ে তার বাবা রাতেই খালিশপুর থানায় জিডি করেন। পরের দিন দুপুর ৩টার দিকে মাদ্রাসার খাদেম কুদ্দুস দিঘিতে আফসানা মিমির মরদেহ দেখে লোকজনকে জানান।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা খালিশপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা করলেও ইমাম হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন এলাকার কালা বাবুল, কাদের ও এমদাদসহ কয়েকজন তার মেয়ে মিমিকে উত্ত্যক্ত করতো। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালিশপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ আবু মোকাদ্দেশ আলি আদালতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ ১০ বছর মামলা চলমান থাকার পর আদালত বুধবার(১৮ সেপ্টেম্বর) এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি এড. ফরিদ আহমেদ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. মোমিনুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন :