দুর্নীতির অভিযোগ, এক বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ময়মনসিংহ
এনামুল হক সরকার, ছবি: সংগৃহীত

এনামুল হক সরকার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

এনামুল হক সরকার। ময়মনসিংহের গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই ভবন ও গেট নির্মাণ এবং প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ওই কাজ করতে গিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বছর খানেক আগে। তখনই অভিযোগ তদন্তে করা হয়েছে কমিটি। কিন্তু এক বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত।

অভিযোগ আছে, একটি পক্ষ প্রভাব খাঁটিয়ে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, ম্যানেজ কিংবা প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তদন্ত কমিটির চিঠির জবাব দেওয়া নিয়ে কালক্ষেপণ করায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা করিম ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলমকে।

বিদ্যালয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চে বিদ্যালয়ে নতুন পাঠদান ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন প্রধান শিক্ষক এনামুল হক সরকার। তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে প্রকল্প কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কোনো টেন্ডার ছাড়াই নিজে নিজে প্রায় অর্ধকোটি টাকায় ভবন ও গেট নির্মাণ করেন। আর ওই কাজ করার সময় অর্থ আত্মসাৎ, গাছ কাটাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিরও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ওই বছরের আগস্টে ইউএনও ফারহানা করিম দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলমকে। পরে সাইফুল আলম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কমল কুমার রায়কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জমা দেওয়া হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন।

Teacher
অভিযোগ তদন্তের নির্দেশপত্র, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা কমল কুমার রায় বলেন, ‘তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তিনি চিঠির জবাব না দেওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাকে আবার চিঠি দেব।’

অপরদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, ‘ম্যানেজ করা কিংবা প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। সময় সুযোগের অভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। আমরা শিগগিরই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক সরকার বলেন, ‘চিঠিতে আমাকে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন।’

আপনার মতামত লিখুন :