সুরক্ষার সন্ধানেই জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করেন শরণার্থীরা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা | সংগৃহীত ছবি

সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা | সংগৃহীত ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

শরণার্থীরা সুরক্ষার সন্ধানেই নিজেদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করেন। উন্নত জীবনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশান্তরিত হওয়া এসব মানুষের মৃত্যুর হারও অনেক বেশি।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীরা নিজের এবং তাদের পরিবারের সুরক্ষা এবং উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধান করতে গিয়ে গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন।

বিপজ্জনক যাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ মোট মানুষের সংখ্যা কম হলেও ইউএনএইচসিআর মনে করে এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।

ইউএনএইচসিআর-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি ৬৯ জনের মধ্যে একজন শরণার্থী ২০১৮ সালে সামুদ্রপথে আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে মারা গেছেন। এ সংখ্যা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে ৮১ জনে একজন ছিল।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সমুদ্র এবং নদী পার হওয়ার চেষ্টাকালে কমপক্ষে ১৫ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী মারা যান অথবা নিখোঁজ হন। এসব ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায় না এবং নিখোঁজ অনেক ব্যক্তির খবর কখনোই পাওয়া যায় না। তাই এ সংখ্যা হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি।

বিগত বছরগুলোতে মারধর, বন্দুকের গুলিতে ক্ষত বা খাবার ও পানির অভাবের কারণে বেশির ভাগ শরণার্থীর মৃত্যুর জন্য মানব পাচারকারীদের দায়ী করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ এর পরে সমুদ্রে মৃত্যু বা হারিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক কারণ ছিল শক্তপোক্ত নৌকার সঙ্কট। অনেকগুলি জলযান দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য তৈরি ছিল না। সমুদ্রে চলার জন্যই সেগুলি নির্মিত হয়নি। এসব নৌকা ডুবেই বেশির ভাগ মৃত্যু হয় বলে ইউএনএইচসিআর-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

২০১৮ সালে ইউএনএইচসিআর শরণার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারে, মানবপাচারকারীরা শরণার্থীদের জিম্মি করে প্রায়শই আত্মীয়দের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পানি ও খাদ্য কমিয়ে দিয়ে শাস্তি দিয়েছে। শারীরিক নির্যাতনের কথাও জানান শরণার্থীরা। নারী শরণার্থীদের যৌন নিপীড়নের কথাও জানতে পেরেছে ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর'র আঞ্চলিক ব্যুরো ফর এশিয়া ও প্যাসিফিকের পরিচালক ইন্দ্রিকা রাত্তওয়াত বলেছেন, ইউএনএইচসিআর আইনের শাসনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ বাড়াতে রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলের দেশগুলোকে ২০১৬ সালের বালি ঘোষণাপত্রের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সমুদ্রে উদ্ধার হওয়া মানুষদের সহায়তা করতে আরও সমন্বিত ও প্রত্যাশিত আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে অবহেলিত মানুষ হলো মিয়ানমারের রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা। তারা তাদের নিজ দেশে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘনের শিকার। তাদের শালীন জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং সুরক্ষিত ভবিষ্যতের প্রত্যাশাকে ম্লান করে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তর অংশ থেকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলি সমাধান না করা অবধি শরণার্থীরা নিজের এবং তাদের পরিবারের সুরক্ষার সন্ধানে বিপজ্জনক ভ্রমণ করতে বাধ্য হবে বলে ইউএনএইচসিআর'র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।