সেলিমের বাসা থেকে নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পাসপোর্ট জব্দ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সেলিম প্রধানের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পাসপোর্ট জব্দ করে র‌্যাব

সেলিম প্রধানের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পাসপোর্ট জব্দ করে র‌্যাব

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসার মূল হোতা সেলিম প্রধানের বাসা থেকে নগদ ২৯ লাখ টাকা এবং ৭৭ লাখ টাকা সমমানের বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও তার বাসা থেকে ৮ কোটি টাকার চেক ও ১২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সেলিম প্রধানের গুলশান-২ ও বনানীর বাসায় অভিযান শেষে র‌্যাব-১-এর সিও সারওয়ার বিন কাশেম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সোমবার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে আটক করে র‌্যাব-১-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে তার গুলশান-২ এর বাসায় অভিযানে চালায় র‌্যাব।


পরে মঙ্গলবার দুপুরে সেলিম প্রধানের বনানীর আরেকটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আখতারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ওই বাসা থেকে জব্দ করা হয় প্রায় ২১ লাখ টাকা।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, প্রাথমিকভাবে সেলিম প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার গুলশান ও বনানীর বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে তার বাসায় বিদেশি ৪৮টি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা সমমূল্যের ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক ও ১২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনোর মূল সার্ভার, ৮টি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া।


র‌্যাব সিও আরও বলেন, সেলিম প্রধান তার ভাইয়ের হাত ধরে ১৯৮৮ সালে জাপান চলে যান। সেখানে গিয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে জাপানিদের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর সেখান থেকে তিনি থাইল্যান্ডে যান। সেখানে শিপইয়ার্ডের একটি ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে জাপানিদের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। যার নাম মিস্টার দু। এই মিস্টার দু সেলিমকে বাংলাদেশে একটি কনস্ট্রাকশন সাইট খোলার প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে একটি অনলাইন ক্যাসিনো খোলার উপদেশ দেন। সেই সূত্র ধরে টি-২১ এবং পি২৪ নামে অনলাইন গেমিং সাইট চালু করেন সেলিম।

তিনি আরও বলেন, আমরা জব্দকৃত কাগজপত্রসহ সার্ভার পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছি এই অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে তাদের প্রতি মাসে প্রায় ৯ কোটি টাকা আয় হতো। এসব টাকার অর্ধেক কোরিয়া এবং বাংলাদেশের যারা জড়িত তারা পেতেন।


হরিণের চামড়া, নগদ টাকা ও মাদকদ্রব্য পাওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মানিলন্ডারিং এবং মাদকদ্রব্য আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হবে। এসব মামলায় সেলিম প্রধান এবং তার দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান র‌্যাব সিও সারওয়ার বিন কাশেম।

আরও পড়ুন:
এবার সেলিম প্রধানের বনানীর বাসায় অভিযান
বিমানবন্দর থেকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম গ্রেফতার

আপনার মতামত লিখুন :