ছেলের মুক্তিতে আদালতে দাঁড়ালেন মা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ফরিদা বেওয়া, ছবি: সংগৃৃহীত

ফরিদা বেওয়া, ছবি: সংগৃৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে দু'জন বিচারকের আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। ফলে আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে রাজি হননি কোনো আইনজীবী।

বাধ্য হয়ে ছেলের জামিন আবেদন করে এজলাসে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন ফরিদা বেওয়া নামের এক মা। বিচারক ফরিদা বেওয়ার শুনানি শেষে তার ছেলে লিটন শেখকে জামিনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আইনি জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত জেল থেকে মুক্তি মেলেনি ছেলে লিটনের। পিডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) জনিত আইনি বাধার কারণে জামিন হতে দু'তিন দিন সময় লাগবে।

বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপুর আদালতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে আদালত পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ফরিদা বেওয়া রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন শেখের চক বিহারী বাগান এলাকার মৃত. আব্দুল কাদেরের স্ত্রী। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'সকালে কোর্টে গিয়ে শুনি- উকিলরা ধর্মঘট ডেকেছেন। আদালতে বিচার কাজে তারা অংশ নিচ্ছেন না। তাই ছেলের মুক্তির জন্য আমি নিজেই আবেদন করে জজের সামনে শুনানি করেছি। তিনি আমার কথা শুনেছেন, কিন্তু কিছু কারণে জামিন হয়নি। কাল-পরশু আবার শুনানি করা হবে।'

ফরিদা বেওয়া বলেন, 'আমি লেখাপড়া তেমন জানি না। কোনোরকমে পড়তে ও লিখতে পারি। আইন বিষয়েও কোনো ধারণা নেই। শুধু ছেলেটাকে জেল থেকে তাড়াতাড়ি বের করে আমার বুকে ফিরিয়ে আনতে নিজেই শুনানি করেছি।'

জানা যায়, সম্প্রতি এজলাসে আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭ কার্যদিবস বর্জনের ঘোষণা দেয় রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন।

তাদের দাবি- আগামী এক মাসের মধ্যে ওই দুইজন বিচারককে রাজশাহী আদালত থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, রাজশাহী জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ বরাবর প্রেরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :