কমছে পেঁয়াজের দাম, চড়া দামে শীতের আগাম সবজি

তৌফিকুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
শীতের সবজি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শীতের সবজি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কিছুটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। তবে পেঁয়াজের এই বাজার দরে সন্তুষ্ট নয় ক্রেতারা। আমদানি ও সরবরাহ ভালো থাকলে কয়েক দফায় পেঁয়াজের দাম কমতে পারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন আগাম সবজি। শীতকালীন সব সবজির দামও বেশ চড়া বাজারে। গত দুই দিনের তুলনায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাছ ও খাসির মাংসের দামও কিছুটা বেড়েছে।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকালে রাজধানীর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকায় এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা পিস, টমেটো ১২০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা,গাজর ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, মুলার শাক ১৫ টাকা আটি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজার করতে আসা নাজনীন আক্তার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। নতুন যেসব সবজি বাজারে আছে সেগুলোর দামেও আগুন ঝরছে। বাজার পরিস্থিতি খুবই বাজে। প্রতিটা জিনিসের দাম বেশি। দিন দিন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।'

টাউন হল বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৭০টাকা পিস, কাঁকরোল ৮০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, কাচা মরিচ ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, কলা ৩০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী জমান মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'দুই দিনের তুলনায় আরেকধাপ বেড়েছে সবজির দাম। আর এর মধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। সেগুলোর দামও অনেক বেশি। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দামও কমে যাবে।'

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে খাসির মাংসের দাম, গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা থেকে দাম বেড়ে ৮০০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা, ভেড়ার মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪০০ টাকা, হাঁস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি মার্কেটের মাংস ব্যবসায়ী মোঃ আকরাম হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'দুই দিনের তুলনায় কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে খাসির মাংসের দাম। তবে অন্যান্য মাংসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। পূজা উপলক্ষে খাসির মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।'

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় সাইজের ইলিশ মাছের হালি ৪০০০ টাকা, রুই মাছ ২৫০ টাকা, গ্লাসকাপ মাছ ২২০ টাকা, সিলভার কাপ মাছ ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৬০ টাকা, নলা মাছ ১৬০ টাকা, পাবদা মাছ ৫৫০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছোট মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডিম, আটা, ময়দাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাসের বাজার করতে আসা বাচ্চু মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে অভিযোগ করে বলেন, 'বাজারে প্রতিটা জিনিসের দাম নাগালের বাইরে। আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের এই পরিস্থিতিতে বাজার করা অনেক কঠিন। বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। নিয়মিত বাজার তদারকি করলে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারে না ব্যবসায়ীরা।'

টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাবিব সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'বাজারে কোন জিনিসের দাম বাড়লো আর কোনটার দাম কমলো সেটাতে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই। আমরা প্রতিদিন যে দামে কাঁচামাল কিনে নিয়ে আসি তার থেকে খুব সীমিত লাভে বিক্রি করে থাকি।'

আপনার মতামত লিখুন :