পেঁয়াজের দাম বাড়তি, অন্যান্য দ্রব্য স্থিতিশীল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সপ্তাহের শেষ দিনে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাইকারি দাম একটু বাড়তি থাকলেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বাদে অন্যান্য দ্রব্যাদির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কাঁচা বাজারের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম গত দুই দিনের তুলনায় কেজি প্রতি পাইকারি পাঁচ টাকা বেশি।

আড়তগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৭০ টাকা, বার্মা ও নাসিক পেঁয়াজ প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। এসব পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকা করে বেশি দরে। কারওয়ান বাজারের আড়তদার শাহ আলম জানান, গত দুই দিন থেকে পেঁয়াজের দাম একই থাকলেও আজ থেকে কেজি প্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে। অফ সিজন,পূজার বন্ধ এবং বৃষ্টির কারণে এমন বাড়তি দাম। আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

চায়না রসুন প্রতি কেজি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা, নাটর রসুন ১৩৮ টাকা, এক দানা ১৮০ টাকা। খুচরা বাজারে এসব রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে।

সাদা আদা প্রতি কেজি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, দেশি আদা ২০০ টাকা, চায়না আদা ১১৬ টাকা। এসব আদা খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার আলু পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং বিক্রমপুরের আলু ১৪ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বগুড়ার আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা এবং বিক্রিমপুরের আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। শুকনা মরিচ প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি, খুচরা ১৭০ টাকা।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ টাকা, শীতের অগ্রিম মূলা ৩০-৩৫ টাকা, করলা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০, পটল ৩০-৩৫ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, মুখী কচু (ছড়া) ৫০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, অগ্রিম শীতের ফুলকপি সাইজ ভেদে ২০, ২৫ ও ৩০ টাকা এবং শশা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা এবং দুই হালি ডিম একসঙ্গে কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ৭৫ টাকা।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড় সাইজ শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, মাঝারি ৪০০ টাকা, ছোট ৩০০ টাকা। রুই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, টাকি মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, মাগুর প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। চাষের কৈ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, কাতল বড় সাইজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা। কোরাল প্রতি কেজি ৪৫০, বোয়াল ৫০০, পোয়া ৪৫০, বাটা ৪০০, রূপচাঁদা ৫০০, ফাইসা ৪০০ এবং পুটি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা।

প্রতি কেজি খাশির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি, ছাগলের মাংস ৭৫০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি।

এদিকে সাদা চিনি প্রতি কেজি পাইকারি ৫৪ টাকা খুচরা ৫৮ টাকা, দেশি মশুর ডাল পাইকারি ৯৮ টাকা খুচরা ১০৫ টাকা, মশুর ডাল মোটা পাইকারি ৪৮ টাকা খুচরা ৫৫ টাকা, মুগ ডাল পাইকারি ১১৪ টাকা খুচরা ১২০ টাকা, বাছা বুট ৭৬ পাইকারি টাকা খুচরা ৮০ টাকা, এ্যাংকর পাইকারি ২৮ টাকা কেজি খুচরা ৩৫ টাকা, ডাবলি পাইকারি ২৮ খুচরা ৩৫ টাকা, ছোলা পাইকারি ৬৪ টাকা কেজি খুচরা ৭০ টাকা, খেসারি পাইকারি ৬০ টাকা কেজি খুচরা ৬৫ টাকা।

চিনিগুড়া চাল পাইকারি ৯৪ টাকা খুচরা ১০০ টাকা, আটাশ পাইকারি পাইকারি ৩৫ খুচরা ৪০ টাকা, নাজির পাইকারি ৫৫ টাকা খুচরা ৬০ টাকা, মিনিকেট ৪৪ টাকা পাইকারি খুচরা ৪৮ টাকা এবং পোলাও চাল পাইকারি ৯৬ টাকা কেজি খুচরা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জিরা পাইকারি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা খুচরা ৩৬০ টাকা। দারুচিনি প্রতি কেজি পাইকারি ৪০০ টাকা খুচরা ৪৫০ টাকা। এলাচ প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ টাকা খুচরা ২৪০০ টাকা। লবঙ্গ প্রতি কেজি পাইকারি ৯০০ টাকা খুচরা ১০০০ টাকা। কালো মরিচ ৫০০ টাকা কেজি পাইকারি খুচরা ৬০০ টাকা।

বোতল জাত ভোজ্য সয়াবিন তেল প্রতি পাঁচ লিটার পাইকারি ৪৪০ টাকা (তীর ) খুচরা বাজারে ৪৫০ টাকা। রূপচাঁদা প্রতি পাঁচ লিটার পাইকারি ৪৭৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৮৫ টাকা।

পাইকারি বাজারে নিত্য ব্যবহার্য বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়লেও পেঁয়াজ ও রসুন বাদে অন্যান্য দ্রব্যের দাম খুচরা বাজারে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। তবে বিক্রেতারা বলছেন বৃষ্টি চলতে থাকলে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। আবার অনেকে বিক্রেতা বলেন, শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেই কাঁচা সবজির দাম কমতে শুরু করবে।

আপনার মতামত লিখুন :