ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কঠোর অবস্থানে কেসিসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
শহর জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শহর জুড়ে জায়গা করে নিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর নগরীতে রিকশা চলাচল বন্ধের সময়সীমা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর)।

এদিকে, সময় শেষ হলেও মালিক ও চালকরা এখনও রিকশা থেকে ব্যাটারি অপসারণ করেননি। উল্টো সোমবার (১৪ অক্টোবর) থেকে কেসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা।

অন্যদিকে, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কেসিসি নগরীর ৩৮৭টি রিকশার ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়েছে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় গত ১ জুলাই থেকে খুলনা মহানগরীকে ব্যাটারিচালিত রিকশামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই সময় তিন মাস বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। পরে কেসিসির বিশেষ সাধারণ সভায় আবারও সময় বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু রিকশা মালিক-চালকরা মেয়রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

সোমবার রিকশা ধর্মঘটের কারণে খুলনায় যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। বাড়তি ভাড়া দিয়ে টেম্পু, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকে যাতায়াত করতে হয়। আবার বাহনের অভাবে পায়ে হেঁটেও অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

নগরীর বাসিন্দা আহমেদ শরীফ জানান, হঠাৎ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজিবাইকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর পায়ে চালিত রিকশা নেই বললেই চলে।

তৌহিদ খান বাবু নামের এক যাত্রী জানান, তিনি মেয়েকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। কিন্তু কোনও রিকশা পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইজিবাইকে উঠতে হয়েছে।

এদিকে, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রিকশা চালকরা নগরীর সাত রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের বাড়ির সামনে বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করেন। এরপর জাতিসংঘ পার্ক হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক-মালিক ঐক্য পরিষদের খুলনা মহানগরী শাখার সহ-সভাপতি সেলিম শিকদার বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করার প্রতিবাদে আমরা ধর্মঘট পালন করছি। কেসিসির এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে মেয়র, জেলা প্রশাসক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।’

কেসিসির সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কেসিসি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) যৌথভাবে ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্ট থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। প্রথমদিন সকাল ১০টা থেকে নগরীর ২১, ২২, ২৩, ২৮, ৩০ ও ৩১নম্বর ওয়ার্ডের চার্জিং পয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।’

কেসিসির সচিব মো. আজমুল হক বলেন, ‘কোনও আন্দোলনের হুমকিতে কেসিসি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না।’

কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘চালক-মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপরও যদি কেউ নির্দেশনা না মানে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :