ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের ১১ দিনেও চাল পাননি জেলেরা

জহির রায়হান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বরিশাল
ইলিশ ধরার অপরাধে আটককৃত জেলেরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইলিশ ধরার অপরাধে আটককৃত জেলেরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ১১ দিনেও জেলেরা পাননি কোনো সহযোগিতা। সরকারের দেওয়া মানবিক সহায়তার আওতায় প্রতিজন জেলের জন্য বরাদ্দ করা হয় ২০ কেজি চাল। কিন্তু এখনো তারা সেটা পাননি।

গত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে জেলেদের বিশেষ অভিযান, যা চলবে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। বেধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ।

জানা গেছে, ইলিশ ধরা বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, নৌ বাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত চলছে স্থানীয় বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান। জেলে আটকসহ জব্দ করা হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ। তবে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন জেলেরা।

আরও জানা গেছে, অভিযান শুরুর আগেই বরিশাল জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে চাল বিতরণের ছাড়পত্র নিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। জেলেদের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও গুদাম কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে গুদামেই পড়ে আছে তাদের সহায়তার চাল।

জব্দকৃত কারেন্ট জাল

 বাকেরগঞ্জের বোয়ালয়িয়া ডাকুয়া বাড়ী এলাকার একাধিক জেলে জানান, তারা নিবন্ধিত জেলে কিন্তু আগে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের চাল দিচ্ছেন না স্থানীয় চেয়ারম্যান।

তবে জেলেদের অভিযোগ অস্বীকার করে রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘জেলেরা এখন ইলিশ ধরে না। তবে চেয়ারম্যান ঢাকায় থাকায় কাউকেই এখনো চাল দেওয়া হয়নি। চাল গুদাম ঘরেই আছে। চেয়ারম্যান ঢাকা থেকে আসলেই চাল বিতরণ করা হবে।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘উপজেলার নিবন্ধিত সব জেলে বরাদ্দকৃত চাল পায় না। নদীর তীরবর্তী বেশিরভাগ জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। তবে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জব্দকৃত ইলিশ মাছ

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সাঈদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে সরকারের দেওয়া মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বরিশাল জেলায় নিবন্ধিত মোট ৭৪ হাজার ৫৭৯ জন জেলে রয়েছেন। গত ৯ দিনে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে ৩৩০টি অভিযানে ২১০ জেলে আটক, আট লাখ ৪৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ২.৩১ মেট্রিকটন ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের বিভিন্ন মেয়াদে ২৪৯টি মামলা ও দুই লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :