রাজশাহীর বাজারে দাম কমেছে আগাম শীতকালীন সবজির



স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
রাজশাহীর বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীর বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রথম দিকে সবজি চড়া দামে বিক্রি হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে তা অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে।

কিন্তু, পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বেড়েছে আলুরও। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নগরীর সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া, নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে, আগাম জাতের শীতকালীন সবজির দাম কমায় বাজারে আসা ক্রেতারা বেশ খুশি। তবে হতাশার কথা জানিয়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন- ধান চাষ করে গত কয়েক বছর তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সবজি চাষে মনোযোগী হয়েছেন। তবে শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোপুরি আসার আগেই দাম কমায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

বাজারে উঠেছে আগাম শীতকালীন সবজি, তবে কমায় লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি। সিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাঁধাকপি প্রতি পিস ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা।

মুলা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি। করলা ৬০ টাকা কেজি থেকে নেমে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, পেঁপে ১২ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৮০ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা এখন বেড়ে যথাক্রমে ৯৫ ও ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হঠাৎ আলুর দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা। বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ কেজি দরে।

রাজশাহীর বাজারে শীতের সবজি বাঁধাকপি

মাস্টারপাড়া কাঁচা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দু’দিনে সবজির দাম অর্ধেকে নেমে গেছে। বাজারে বেশি আমদানি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে আবার নাকি ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই আড়তদাররা দাম বাড়িয়েছে। ফলে আমাদেরও খুচরা মূল্যে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এদিকে, শীতকালীন আগাম সবজির দাম মৌসুম শুরুর আগেই কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। রাজশাহীর পবা থেকে সবজি নিয়ে মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে আসা সাহেব আলী বলেন, ‘দু’বছর ধানে লস খেয়ে সবজি চাষ করছি। মাঠে আমার ধান নেই। মাঝের বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও যা আছে, তার ভালো দাম পাওয়ার আশায় ছিলাম। তবে দুই হাট যেতেই যেভাবে দাম কমেছে, তাতে সবজিতেও লোকসানের শঙ্কা দেখছি।’

আবু তৈয়ব নামে আরেক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, ‘আমার তিন বিঘা ফুলকপি। এখন যে সাইজ হয়েছে, তাতে তিনটায় এক কেজি হচ্ছে। এজন্য অল্প কিছু কপি ৪/৫ দিন আগে হাটে নিয়ে এসেছিলাম। তখন ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করি। ভালো দাম থাকায় আজও ছোট কপি কেটে বাজারে এনে দেখছি- গত হাটের চেয়ে আজ অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। খুব লোকসান হয়ে গেল।’