রোহিঙ্গা নির্যাতনে জবাবদিহিতা চায় বাংলাদেশ-ইইউ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ কমিশনের বৈঠক

বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ কমিশনের বৈঠক

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ কমিশন।

সোমবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সভাকক্ষে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথ কমিশনের নবম বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবির কথা জানানো হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের মানুষ, সরকার, পাশাপাশি এনজিও-সহ আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সম্প্রদায় যৌথভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে সৃষ্ট মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সরকার ও জনগণের উদার ও মানবিক ভূমিকা এবং কর্মের জন্য ইইউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

সভায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ উভয়ই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করার লক্ষ্যে একমত হয়েছে। এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) নীতিতে দুই পক্ষ বাণিজ্য করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশ থেকে ইইউতে রফতানি ২০০৬ থেকে ২০১৮ এর মধ্যে তিনগুণ বেশি হয়েছে এবং ইইউ বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার, ইইউ-বাংলাদেশ জলবায়ু সংলাপকে আরও বাড়ানোর জন্য উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

শ্রমের অধিকার সহ মানবাধিকারের সম্মানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের যে কোনও বাণিজ্যিক সম্পর্ক শর্তযুক্ত। বাংলাদেশ সরকার শ্রম অধিকারের মানসম্পন্ন টেকসই সংস্কার এবং ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশনগুলো মেনে চলবে। ইইউ এবং বাংলাদেশ শ্রম ও মানবাধিকারের সঙ্গে সম্মতি জোরদার করার কয়েকটি বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।

যৌথ কমিশন উভয় পক্ষের রাজনৈতিক উন্নতি পর্যালোচনা করে এবং গণতন্ত্রের ভূমিকা, আইনের শাসন ও সুশাসন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘বলপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার’ প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

প্রতিক্রিয়া হিসাবে বাংলাদেশ পক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টাসহ আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা জানিয়েছে। ইইউ ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের কয়েকটি বিধান সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করে। বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানায়, ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের কোনও বিধান কোনভাবে ব্যবহার করা হবে না যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ কর্তৃক অনুমোদিত জাতিসংঘের অন্যান্য মানবাধিকার বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :