পুলিশ নিয়োগে তদবির ও দুর্নীতি বন্ধ করেছি: দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘সব ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হতে হবে। আপনার দেখেছেন এবার পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া। পুলিশ নিয়োগে আমরা তদবির ও অনিয়ম বন্ধ করতে পেরেছি। এজন্য আমি পুলিশ বিভাগকে সাধুবাদ জানাই। ধন্যবাদ দিয়েছি যে- তারা একেবারে দুর্নীতিমুক্তভাবে, কারও কথা না শুনে পুলিশ নিয়োগ করেছেন।’

শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজামান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকও নিয়োগ হবে, কারও তদবির ছাড়া। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্নীতি সহ্য করা যাবে না। আমরা সহ্য করব না।’

তদবিরবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, বদলির তদবির করা একটা অপরাধ। তদবির আর ঘুষ খাওয়া একই। যে কারণে কিছু কিছু তদবিরবাজদের আমরা ধরেছি, জেলে ভরেছি। তদবিরবাজরা সাবধান! প্রাইমারি স্কুলের বদলির ব্যাপারে তদবরি করবেন, আপনার সমস্যা? এটা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে চাই। আপনি হাওড়ে কেন যাবেন না! আপনি চাকরি করতে এসেছেন? আপনাকে হাওড়েও যেতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় কী হয়, আমরা জানি। সেই কারণে আমরাও বলেছি, সবকিছু কম্পিউটারাইজড করতে হবে। কম্পিউটারই বলে দেবে, রহিম কোথায় যাবে, করিম কোথায় যাবে। ক্রাইটেরিয়া ফিস্কড করবেন, কম্পিউটার বলে দেবে কে কোথায় যাবে। বদলি প্রক্রিয়া অনলাইনে হবে, কোনো তদবির চলবে না। তদবির এক ধরনের অপরাধ। তদবির একটা দুর্নীতি।

দুদকের কেউ হাত বেঁধে রাখেনি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষকের পেনশন নিতে গিয়ে কী ভোগান্তি! সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যারা অপরাধী তাদেরকে আমরা ঘুষসহ হাতেনাতে ধরেছি। আমাদের কেউ হাত বেঁধে দেয়নি। আমরা যে কোনো লোককেই ধরতে পারি। দুর্নীতি করলেই ধরা হবে। কোনো অনুমতি নিয়ে আমরা কাউকে ধরব না। আমরা সেটা দেখিয়ে দিয়েছি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এএফএম মনজুর কাদির ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক।

এতে রাজশাহী প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনায় তারা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরেন। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক এই সভার আয়োজন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

আপনার মতামত লিখুন :