খাদ্যগুদামের গেইট চুরি করে বিক্রি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
খাদ্যগুদামের চুরি হওয়া গেইট। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

খাদ্যগুদামের চুরি হওয়া গেইট। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের খুলে রাখা গেইট চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা রুস্তম আলী। বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) তা ভাঙ্গারির দোকান থেকে ফিরিয়ে এনে আগের স্থানে রাখা হয়।

তবে এর আগে সোমবার (৪ নভেম্বর) রাতে ভাঙ্গারির দোকানে থাকা ওই গেইটের ছবি স্থানীয় এক ব্যক্তি ফেসবুকে শেয়ার করলে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও তোড়জোড় শুরু করেন। অভিযুক্ত রুস্তম দুর্গাপুর পৌরসভার ধরমপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা জানান, কিছুদিন আগে টেন্ডারের মাধ্যমে গুদামের নতুন গেইট তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় পুরোনো লোহার গেইটটি খুলে রাখা হয়। গুদামের ইনচার্জ আফরোজা বেগমের সহায়তায় তা গোপনে চুরি করে পৌরসভার থানার মোড়ে অবিস্থত ভাঙ্গারির দোকানে কেজি দরে বিক্রি করে দেন আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম। সরকারি গুদামের গেইট ভাঙ্গারির দোকানে থাকায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে দোকান থেকে গেইটটি ফেরত নিয়ে আসেন ইনচার্জ আফরোজা।

ভাঙ্গারির দোকানি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা রুস্তম ভাই কয়েক দিন আগে আমার কাছে গেইটটি বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। ১৯০ কেজি ওজনের ওই লোহার গেইটটি আমি কেজি দরে কিনে নেই। হঠাৎ আজ (মঙ্গলবার) গুদামের লোকজন এসে তা ফেরত নিয়ে গেল। আমি গরিব মানুষ, আমার টাকাটা এখন কে ফেরত দেবে?’

খাদ্যগুদামের ইনচার্জ আফরোজা বেগম জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জানার পর সেটি ফেরত নিয়ে এসেছেন।

চুরির বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে আফরোজা বলেন, ‘আমার গুদামের গেইট খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখন পেয়েছি, নিয়েও এসেছি। থানায় অভিযোগ করার প্রয়োজন তো নেই।’ ভাঙ্গারির দোকানি সেলিম আহমেদকেও কোনো টাকা দেবেন না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম আলী বলেন, ‘গেইট চুরির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহসিন মৃধা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি হারিয়ে গেল, অথচ তারা কোনো খোঁজ কেন রাখল না তা জানতে চাইব। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :