‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জর্জরিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জর্জরিত। তাই তাদের কাছ থেকে দ্রুত কোন কাজ হাসিল করা সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

শনিবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের বিজয়ী ডাঃ বাবু-আমিন পরিষদের নির্বাচনোত্তর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

জালাল মহিউদ্দিন বলেন, চিকিৎসকরা অনেক সমস্যা নিয়ে জেলা পর্যায় থেকে আসেন, আমরা তাদেরকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যাই। তখন তাদের ফাইলটি সচিব দেখে দেন, তারপর ফাইলটি নিচে নামে। এরপর সেকশন অফিসার থেকে ফাইল যখন সচিব মহোদয়ের কাছে যায় তিনি ছোট্ট একটি নোট দেন । বলেন আমার সঙ্গে পরে কথা বলবেন। আবার সেই ফাইল আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসে। এসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।এসব কারণে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পাকিস্তান আমলে যেমন ছিল এখনো তেমনই আছে।

তিনি বলেন, আমরা জানি না তাদের রাজনৈতিক চিন্তা ধারা কি। তারা কোন রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা নিয়ে এই মন্ত্রণালয়ের এত বড় বড় পোস্টে কাজ করছেন তাও আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।

এ সময় তিনি দালালদের খপ্পর থেকে ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমি শুনেছি সম্প্রতি সেলিম নামে এক ভদ্রলোক আপনাদের ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবদের সঙ্গে ফুসুর ফুসুর করে কথা বলে কাজ করে নেন। আমরা যখন মন্ত্রণালয়ে থাকি না। এই ব্যাপারে আপনাদের কে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতবার জাতিসংঘে গিয়েছেন, যত পুরস্কার পেয়েছেন তার মধ্যে বেশিরভাগই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু স্বাস্থ্যবান্ধব মানুষ সেহেতু ওনার সঙ্গে আলোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে।

এসময় এসোসিয়েশনের দুটি দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি শুনেছি আপনাদের দু'টি দাবির মধ্যে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ঢুকতে চাওয়া এবং অপর দাবিটি দশম গ্রেডে আপনাদের চাকরি যাতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনারা কথা বলতে চাচ্ছেন। কথা বলার মধ্য দিয়ে যদি আপনারা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারেন। এবং যদি সব পথ বন্ধ থাকে তাহলে আন্দোলনই একমাত্র পথ। তবে যেখানে বর্তমান সরকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আছেন সেখানে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না বলে আশা করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, স্বাচিপ সভাপতি প্রফেসর ইকবাল আর্সলান, সাবেক সচিব ম.আ.কাশেম মাসুদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, জাপান আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শামসুল আলম ভুট্টো, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলহাজ্ব আবু হানিফ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :