নৌ শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে বরিশালে চলছে না লঞ্চ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,বরিশাল
বরিশালেও শুরু হয়েছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মবিরতি/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বরিশালেও শুরু হয়েছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মবিরতি/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও শুরু হয়েছে স্থানীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের লাগাতার কর্মবিরতি।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে কর্মবিরতির প্রথম দিনে বরিশাল নদীবন্দর থেকে স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণ ১১ রুটে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মবিরতি ডাকা হলেও বরিশালের লঞ্চঘাটে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন ভোর ৬টা থেকে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। আগে থেকে কোন ঘোষণা না থাকায় অসংখ্য যাত্রী ঘাটে গিয়ে জানতে পারেন লঞ্চ চলাচল বন্ধ। গন্তব্যে যেতে না পেরে তাদের আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার মজু চৌধুরীর হাটে যাওয়ার জন্য বরিশাল লঞ্চঘাটে আসা মো. কামাল হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, তার মা অসুস্থ হয়ে চাঁদপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। যেকোনো উপায়ে তাকে চাঁদপুর যেতেই হবে। এখনে কর্মবিরতির কারণে তিনি বাসযোগে চাঁদপুর রওনা দেবেন।

একাধিক নৌযান শ্রমিক বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ১১ দফা দাবি লঞ্চমালিকরা বাস্তবায়ন না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

ভোলাগামী এমভি সঞ্চিতা লঞ্চের মাস্টার শাহে আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য লঞ্চ না ছেড়ে শনিবার ভোর থেকেই বরিশাল লঞ্চঘাটে কর্মবিরতি পালন করছি।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শেখ আবুল হাসেম বার্তা২৪.কম বলেন, গেল ২০১৬ সাল থেকেই নৌযান শ্রমিকদের স্বার্থে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোন দাবি মানেনি লঞ্চমালিকরা। তাদের খেয়াল মত শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সময়ে ১১ দফা দাবি মানার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করিয়েছে। এবার ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।

ঘোষিত ১১ দফা দাবিতে রয়েছে, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মেরিন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন,খোরাকী ভাতা ফ্রি, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, মাস্টার ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় ও ডিপিডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সব অনিয়ম বন্ধ, কোর্স চলাকালে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটি, নৌ শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসালয় খোলা, নৌপথে মোবাইল কোর্টের নামে হয়রানি এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নৌ শ্রমিকের মৃত্যু হলে ১০ লাখ টাকা মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ, ভারতগামী শ্রমিকদের লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পাস সার্ভিস ভিসা ও জাহাজের ফ্রিজিং ব্যবস্থা, বাজার ও অন্যান্য কাজের জন্য আলাদা নৌকার ব্যবস্থা।  

আপনার মতামত লিখুন :