রংপুরে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট চলছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
জ্বালানি তেল বিপণন কার্যক্রম বন্ধ, ছবি: বার্তা২৪.কম

জ্বালানি তেল বিপণন কার্যক্রম বন্ধ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ও ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে আজ ভোর ৬ টা থেকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানী তেল পেট্রোল পাম্প মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

এই ধর্মঘট রংপুর বিভাগ ছাড়াও খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব ডিপোতেও চলছে। এতে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের আহ্বান করেছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রংপুর মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। কিছু পাম্প খোলা থাকলেও জ্বালানি তেল বিক্রয় সেবা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরি টিটু বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। আমাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে শুধু মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পেট্রোল পাম্প পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।  এই খাতটি এরই মধ্যে অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাক টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন,  ট্যাংকলরির ভাড়া  বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল,  ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতীত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোন পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

এদিকে পেট্রোল পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতি রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক শাহ্ মো. সেলিম বার্তা২৪.কম-কে জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের ধর্না দিয়েও কোন কাজ হয়নি। কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আলোচনায় বসার নাম বহুবার কালক্ষেপণ করা হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মত কর্মসূচী পালন করছি।

রংপুর জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে মোট ফিলিং স্টেশনের রয়েছে ১৫২টি। এর মধ্যে রংপুরে রয়েছে ৮৫টি। এসব ফিলিং স্টেশন মজুদের ক্ষমতা রয়েছে ডিজেল ২৭ লাখ, কেরোসিন ১০ লাখ ৬০ হাজার, পেট্রোল ৬ লাখ ও অকটেন ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার। চাহিদা রয়েছে ডিজেল ১ কোটি ২৫ লাখ ডিজেল, পেট্রোল ২৫ লাখ ৫০ হাজার ও অকটেন ৪ লাখ ৪০ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদার তুলনায় রংপুরে অর্ধেকেরও কম জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

সুরমা ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রতিমাসে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন এবং কেরাসিন মিলে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা চার লাখ পাঁচ হাজার লিটার। অথচ তিনি শতকরা ২৫ ভাগ জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এরকম বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে তারা ১৫ দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।

এদিকে ধর্মঘটের প্রতি ট্যাংকলরির  শ্রমিকরা সমর্থন জানিয়েছে অধিকাংশ চালক। তারা মনে করছেন, ট্যাংকলরি চালাতে গিয়ে সড়কে পুলিশের তারা হয়রানির শিকার হতে হয়। ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন হওয়া জরুরী।

ধর্মঘটের কারণে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিপণন বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল চালকরাসহ বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ধর্মঘটের বিষয়টি বেশির ভাগ লোকের অজানা থাকায় পাম্পে তেল নিতে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক গ্রাহক কর্মবিরতির নামে ডাকা এই ধর্মঘটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হবেন বলে অভিযোগ করছেন। 

আপনার মতামত লিখুন :