ময়মনসিংহ ‘বিআরটিএ’ কার্যালয়ে ১০ মাসের আবেদন ১ মাসেই

উবায়দুল হক,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,ময়মনসিংহ
বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের সামনে ভীড়/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের সামনে ভীড়/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মোটরসাইকেল চালাই দশ বছর ধইরা। খারাপ চালাই না। কিন্তু কখনো লাইসেন্স করা হয় নাই। এখন সরকার নতুন আইন করছে। এই আইনে বড় শান্তি। তাই আর ঝুঁকি না নিয়া লাইসেন্স করতে আইলাম।’

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ সার্কেল কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন মুক্তাগাছা থেকে এখানে সেবা নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মাহমুদ হাসান (৩৮)।

এ সময় তার কথার সুর ধরেই ফুলপুর থেকে আসা আরেক সিএনজি চালক আলী আকবর বলে উঠলেন, ‘২০ বছর ধইরা ভুয়া লাইসেন্স দিয়া চলতাছি। নতুন আইন নিয়া এহন সরকার খুবই কঠিন। হেলেইজ্ঞা (সেজন্য) ভুয়া বাদ দিয়া আসলটাই করবার আইলাম।’

নিরাপদ সড়ক আইন ২০১৮ বাস্তবায়নের পর থেকে প্রতিদিনই ভিড় লেগেই থাকে এ কার্যালয়ে। প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের জটলা লেগে থাকছে। কেউ আসছেন চালক লাইসেন্স করাতে, আবার কেউবা আসছেন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনের জন্য। এ কারণে দম ফেলার সময় মিলছে না বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিকেলে অফিস সময় পেরিয়ে রাত পর্যন্ত সেবা দিতে হচ্ছে তাদের। এমন বাড়তি চাপে হিমশিম খেলেও, বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন আইন অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ফিটনেস সনদ না থাকলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড। আগে এ অপরাধের জরিমানা ছিল ৫শ’ টাকা। একইভাবে অন্যান্য জরিমানার হারও বেড়েছে।

বিআরটিএ ময়মনসিংহ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ মাসে চালক লাইসেন্সের আবেদন পড়েছে মোট ১১ হাজার ৪৪৯টি। এর মধ্যে সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর গত ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১ মাসেই আবেদন করেছেন ৬ হাজার ৩৮ জন। তাদের পরীক্ষার জন্য শিক্ষানবিশ (লার্নার) কার্ড দেয়া হয়েছে। আর সব ধাপ পেরিয়ে লাইসেন্স হাতে পাবার অপেক্ষায় রয়েছেন ৮ হাজার ৯৯২ জন।

বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল কবির বলেন, ‘সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার পর এ সার্কেলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কাজের চাপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবাপ্রার্থীদের পদচারণায় বিআরটিএ কার্যালয় সার্বক্ষণিক মুখরিত। আমাদের সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘ইতোপূর্বে চালক লাইসেন্সের জন্য প্রতিদিন যেখানে সর্বোচ্চ ৩০-৪০টি আবেদন পাওয়া যেত এখানে এখন দুইশ থেকে আড়াইশ পর্যন্ত আবেদন জমা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ফিটনেস এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনের আবেদনও বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কার্যালয়ে এসে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করি কোন প্রার্থীকেই হয়রানি, ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।’ 

আপনার মতামত লিখুন :