খেলার মাঠ দখল দেখলেই ৩৩৩- এ ফোন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,ঢাকা
‘আমরাও বলতে চাই’ শীর্ষক সংলাপে  মেয়র/ ছবি: বার্তা২৪.কম

‘আমরাও বলতে চাই’ শীর্ষক সংলাপে মেয়র/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শিশুবান্ধব শহর গড়তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কোনো মাঠে মেলা চলবে না। যদি কোথাও কেউ সমস্যা করে, তোমাদের খেলতে না দেয়, তাহলে ৩৩৩ এ কল করে বলবে, আমার খেলার মাঠে আমাকে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ডিএনসিসি নগর ভবনে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে ‘আমরাও বলতে চাই’ শীর্ষক সংলাপে মেয়র এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা থেকে, বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত কিশোর-কিশোরীগণ এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। কিশোর-কিশোরীরা পরিবেশ দূষণ, শিশুশ্রম, খেলার মাঠ, নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও বস্তির আবাসন ইত্যাদি বিষয়ে মেয়রের কাছে দাবি তুলে ধরেন।

সংলাপে মোহাম্মদ হাসান নামে একজন কিশোর সিটি কর্পোরেশনে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই এবং যা আছে সেগুলোও মেলার কারণে দখল হয় জানালে মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশনের কোন মাঠে কোন ধরনের মেলা হবে না। আমরা এর অনুমতি দেব না। এগুলো তোমরা (শিশু-কিশোর) ব্যবহার করবে। যদি কোথাও কেউ সমস্যা করে, তোমাদের খেলতে না দেয়, তাহলে ৩৩৩-এ কল করে বলবে, আমার খেলার মাঠে আমাকে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

এ সময় কিশোরীরা তাদের খেলাধুলা এবং মাঠ ও পার্কে যাওয়ার নিরাপদ পরিবেশ দাবি করলে মেয়র বলেন, আমরা ২৪টি খেলার মাঠ ও পার্কের সংস্কার ও উন্নয়ন করছি, যার ১৭টিতেই সিসি টিভি ক্যামেরা এবং এলইডি লাইট থাকবে। বনানী ১৮ নম্বর রোডের মাঠে শুধু নারী ও শিশুরা খেলবে। আর বাকিগুলোতে ও একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা একটি নির্দিষ্ট জায়গা কিশোরীদের জন্য আলাদা করে দেওয়া যায় কি না আমরা দেখব।

মরিয়ম আক্তার মেঘলা নামের এক কিশোরী সিটি কর্পোরেশনের কাছে হাসপাতাল ও ফার্মেসিগুলোতে নারী চিকিৎসক এবং ফার্মাসিস্ট চান। মেঘলা বলেন, আমাদের কিশোরীদের অনেক ধরনের সমস্যা থাকে, কিন্তু আমরা সেগুলো হাসপাতালে বা ফার্মেসিতে বলতে পারি না, কারণ সেখানে পুরুষ বেশি।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, সিটি করপোরেশনের মাতৃসদন হাসপাতালগুলোতে নারী চিকিৎসক আছেন, সেখানে কিশোর-কিশোরী কর্নার আছে। তোমরা সেখানে আসতে পারো। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরাও ভিজিটে তোমাদের কাছে যাবে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঘোষণা দিচ্ছি - যেসব ফার্মেসিতে শতভাগ নারীকর্মী থাকবেন তাদের থেকে কোনো ধরনের কর নেবে না সিটি কর্পোরেশন।

মেয়র আরও বলেন, তোমাদের সাহস করে কথা বলতে হবে। তোমাদের অধিকার তোমাদেরই আদায় করে নিতে হবে। আজ যে দাবিগুলো তোমরা উপস্থাপন করলে সেগুলো আমরা বিভিন্ন মেয়াদে সমাধান করবো। সংলাপের পরে মেয়র কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গুলশানস্থ বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক পরিদর্শন করেন।

সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার সাঈদ আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মঞ্জুর আহমেদ, ইউনিসেফ এর নগর বিশেষজ্ঞ শামীমা সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :