ভারত এমন কিছু করবে না যাতে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা সভা

৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা বন্ধু প্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর)  জাতীয় জাদুঘরে ৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই দিনেই ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে। ভারতের অবদান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অকল্পনীয়। ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা তুলনাহীন।

ভারতের প্রায় ১৭০০০ সৈন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মত্যাগ করেছেন। বিগত এক দশকে দুই সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনালী যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি (ঘাদানি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমি একজন ছোট মেয়ে হিসেবে আমার দাদার সঙ্গে রেডিওতে এ ঘোষণা শুনি। ভারত তার নিজের সম্পদের ওপর চাপ নিয়েও এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। ভারতীয় সৈন্যরা অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন।

তিনি বলেন, বন্ধুরা এটাই করে। ৭১'এ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল এবং চিরকাল থাকবে। যে সম্পর্ক ৭১ এ শুরু হয়েছে তা আজ সোনালী যুগে চলছে, এটিকে আরো নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। ৪৮ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক খাতে যে উন্নতি করেছে তা বিশ্বে অনুকরণীয়।

ঘাদানি সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, দুর্ভাগ্য হলো ৭৫ এর পর যে সরকারগুলো বেশী ক্ষমতায় ছিল তারা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী। যখনই ভারতের সঙ্গে আমরা মৈত্রী করতে চেয়েছি তখনই তারা বাধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। কিন্তু বিভিন্ন তথ্যে থেকে জানা গেছে ভারত ৬ ডিসেম্বর এবং ৭ ডিসেম্বর ভুটান স্বীকৃতি দিয়েছিল। শাহরিয়ার কবির মঞ্চে উপবিষ্ট  পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এটি সংশোধন করার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত বৃটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা ফেনী নদীর কিছু পানি দিতে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন বলে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে ঐ অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের জন্য যে মানবতা দেখিয়েছেন সেখানে এ পানি টুকু দেওয়ার সমালোচনা করা অহেতুক।

ঘাদানি উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমরা ভারতের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে এ অপপ্রচার বাংলাদেশে এখন আর কোনো মূল্য পায় না।

সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রকৃত ও পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা বাস্তবায়ন হলে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।