শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
উত্তরাঞ্চলে কুয়াশাচ্ছন্ন পথঘাট

উত্তরাঞ্চলে কুয়াশাচ্ছন্ন পথঘাট

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর বিভাগে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত আর হিমালয়ের হিমেল বাতাসে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষরা নিদারুণ কষ্ট আছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। গতকাল রংপুরে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও আজ তা কমে ১১ ডিগ্রিতে নেমেছে।

কুয়াশাচ্ছন্ন পথঘাট

এছাড়াও হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় পঞ্চগড় জেলায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। আজ এ জেলায় দুপুর বারোটা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল (বুধবার) ছিল ১২ দশমিক ছয় ডিগ্রি।

গত সোম ও মঙ্গলবার সূর্যের দেখা মিললেও বুধবার থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে উত্তরের আকাশ। যেন আকাশের বুক থেকে নিখোঁজ হয়েছে সূর্য। পৌষের শুরুতেই শীতের এমন তীব্রতায় শঙ্কিত এ অঞ্চলের অসহায় দরিদ্র মানুষ।

পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত কোনও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।

আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ

এদিকে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে। এতে নগরীর হাট বাজারেও কমেছে লোকের আনাগোনা। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। এদিকে শীত মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি খুব সামান্য। এছাড়া শীতজনিত রোগবালাইও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানকার বেশির ভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র হওয়ায় শীতে তাদের জীবনযাত্রা নেমে এসেছে স্থবিরতা। সূর্যের লুকোচুরি আর মৃদু হাওয়ায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চলছে ঘরে বাইরে।

এদিকে রংপুরের গড়াচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলি গ্রামের তিস্তাপারের হযরত আলী বলেন, ‘নদীপাড়ে ঝুপড়ি ঘর। থাকি থাকি হু হু করি বাতাস ঢোকে। সারা রাইত নিন (ঘুম) ধরে না।’ একই অবস্থা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীপাড়ের মানুষজনের।

নদী থেকে পাথর তুলছে

রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার দিনমজুর সোলেমান ও আব্দুল জব্বার বলেন, ‘এমন জারোতে শরীল (শরীর) দুর্বল হয়া গেইছে। কাম (কাজ) ক্যামন করি। তাও পেটের তাগিদে কামলা (শ্রম বিক্রি) দিবার জন্য বসি আছি। কাম না পাইলে হামার তো পরিবার-পরিজন নিয়া কষ্ট হয়।’

এদিকে শীতের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র লোকজন। শীতবস্ত্রের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শীতের কারণে কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, টাইফয়েট, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকাশ মজুমদার জানান, শীতজনিত রোগবালাই থেকে শিশুকে রক্ষা করতে গরম কাপড় পরানো জরুরি। মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন বাচ্চাদের শীত না লাগে। তবে বেশি অসুস্থ মনে হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা থেকে যে পরিমাণ শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল, এর বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে খুব সামান্য। রংপুরে বরাদ্দ পাওয়া ৬৫ হাজার কম্বলের মধ্যে ৪৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :