রসমেলায় পিঠার বাহার, শীতের মাঝেও চলছে আহার!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
খুলনায় রসমেলায় বাহারি পিঠা

খুলনায় রসমেলায় বাহারি পিঠা

  • Font increase
  • Font Decrease

আগে শীতকাল এলেই খেজুরের রসের ঘ্রাণে চারিদিক মুখিয়ে থাকতো। নাগরিক কোলাহলের মাঝে এখন খেজুরের রস বাংলার প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। পৌষের শেষে রসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে খুলনায় চলছে রসমেলা। রসমেলায় শোভা পাচ্ছে শত শত পিঠার বাহার।

নগরীর পাবলিক হল প্রাঙ্গণে শনিবার (১১) সন্ধ্যায় দেখা যায়, শীতকে উপেক্ষা করে রকমারি পিঠার আয়োজন দেখতে রসমেলায় শত শত মানুষের ভিড়। কেউ খাচ্ছেন, আবার কেউ ঘুরে দেখছেন পিঠার বাহার। লোকে লোকারন্ন হয়ে জমে উঠেছে রসমেলা। খাবার ভিত্তিক ফেসবুক পেজ ‘খুলনা ফুড ব্লগার্স’ এ উৎসবের আয়োজক। ভিন্নধর্মী এ উৎসবে স্থান পেয়েছে ৩৫টি স্টল।

মেলাপ্রাঙ্গণে খেজুরের কাচা রসের সাথে মেলায় শোভা পাচ্ছে কয়েকশ’ পিঠা

ঐতিহ্যবাহী এ রসমেলায় উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলাপ্রাঙ্গণে খেজুরের কাচা রসের সাথে মেলায় শোভা পাচ্ছে কয়েকশ’ পিঠার আয়োজন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রসের পিঠা, নকশি পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, বউ পিঠা, জামাই পিঠা, সেমাই পিঠা, পান পিঠা, ঝিনুক পিঠা, বকুল পিঠা, কাতাইফ পিঠা, পাতা পিঠা, চ্যাবা পিঠা, মাছ ছানা, ভাপা পিঠা, মালপোয়া, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, কুশলী পিঠা, ঝিনুক পিঠা, ডিম পাকন, খোলা চিতই, দুধ চিতই, রস চিতই, ডিম চিতই, সিদ্ধ কুলি পিঠা, ভাজা কুলি, ঝাল কুলি, তিলের পুলি, দুধপুলি, ক্ষীরে ভরা পাটি সাপটা, নোনতা পাটিসাপটা, বিস্কুট পিঠা, গাজর কপি পাটিসাপটা, পাকন পিঠা, সুন্দরী পাকন, গোলাপফুল পিঠা, মেরা পিঠা, বিবিখানা পিঠা, কলার পিঠা, ইলিশ পিঠা, আনারস পিঠা, আমিত্তি, কাস্তুরি, চাপাতি পিঠা, ফুলঝুরি, বাদাম-নারকেল ঝালপিঠা, মুগ ডালের নকশি পিঠা, ফুলন দলা, চিড়ার মোয়া,মুড়ির মোয়া, তিলের নাড়ু, নারকেলের নশকরা, খই এর মুড়কি, লাল পুয়া পিঠা, নমুরালিসহ আরো কয়েকশ পিঠা।

মেলায় আগত দর্শনার্থী

রসমেলায় ঘুরতে আসা মার্জিয়া ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ছোট বেলায় শীতকালে বাড়িতে পিঠা তৈরি হতো। এখন আর আগের মতো সেসব আয়োজন হয়না। এখানে এসে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো। কত বছর পরে খেজুরের কাঁচা রস খেলাম বলতে পারবোনা। সবমিলে এ যেনো এক অতীতে ফিরে যাবার আবহ।

খেজুরের রস

খুলনা ফুড ব্লগার্সের কর্ণধার স্বপ্নীল মাহফুজ বার্তা২৪.কম কে বলেন, শীত মানেই পিঠা পুলির উৎসব আয়োজন। তবে শীতের পিঠার সাথে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে আমরা রসমেলার আয়োজন করেছি। ছোটবেলায় খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়ি চুরি করে রস খাওয়াটা আমাদের অনেকের সোনালী স্মৃতি। এখন তো চাইলেও রসের দেখা মেলেনা। সেই স্মৃতি থেকেই মূলত রসমেলার আয়োজন। খেজুরের রসের সাথে এ পিঠা উৎসবে স্থান পেয়েছে কয়েকশ পিঠা। মেলায় আগতরা হরেক পিঠার স্বাদে যেনো বাল্যবেলায় ফিরে যাচ্ছেন। রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

আপনার মতামত লিখুন :