রংপুরে ধান ছেড়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা



ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
বাঁধাকপি চাষে সফল কৃষকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁধাকপি চাষে সফল কৃষকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। গ্রামের মেঠোপথে ধরে হাঁটলে দু'পাশের ক্ষেতজুড়ে উঁকি দিচ্ছে তরতাজা সবজি। বিস্তৃত এই সবুজের বুকে শোভা পাচ্ছে শিম, করলা, লাউ, কপি, বেগুনসহ নানা জাতের সবজি। যেন সতেজ সবজির সঙ্গে হাসছে কৃষক। এ দৃশ্য রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের।

সবজির গ্রামখ্যাত শুধু মিঠাপুকুরই নয়, এখন পুরো রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। অথচ এক সময় ধান চাষে নির্ভরশীল ছিল এ অঞ্চলের কৃষকরা। কম খরচে অল্প সময়ে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় ধানের পাশাপাশি আগ্রহ বাড়ছে সবজি চাষাবাদে। আর তাই সবজি ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এ কারণে এ বছর সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

পোকা নিধনকারী ওষুধ দিচ্ছেন কৃষক
পোকা নিধনকারী ওষুধ দিচ্ছেন কৃষক

চলতি মৌসুমে (২০১৯-২০২০) রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৩৮ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। যা এই মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৯ হেক্টর বেশি। এবছর রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয়েছে রংপুরে। কম আবাদ হয়েছে নীলফামারী জেলায়।

চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের পাঁচ জেলার রংপুরে ১২ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধাতে ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ৮৬১ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর এবং নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৭৩ ভাগ বেশি উৎপাদন।

এদিকে, সবজি চাষাবাদে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে সবজির উৎপাদন বাড়লেও প্রকৃত চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য মূল্য থেকে। অথচ গ্রামের সবজি ক্ষেত পার হয়ে হাট-বাজারে পৌঁছালেই সবজির দাম হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।

গাছে বেগুন এসেছে
গাছে বেগুন এসেছে

 

বর্তমানে শুধু সবজি চাষ করে রংপুর অঞ্চলের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে দাবি মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কৃষক শাখাওয়াত হোসেনের। তার মতো অনেক কৃষকই এখন সবজি চাষে ঝুঁকছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অল্প সময়ে ফসল তোলার পাশাপাশি সবজি চাষে রোগবালাই ও লোকসানের শঙ্কা কম।

পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের কৃষক নুর হোসেন ও কৃষক হালিম মামুদ জানান, আগে তারা শুধু ধান চাষে নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে ধানের পাশাপাশি সবজিও আবাদ করছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে ভালো ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় সবজির চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতর বলছে, শুধু কৃষি জমিতে নয় পতিত জমি, বাড়িতে এবং ছাদে সবজি চাষাবাদে কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সাথে গ্রামে কৃষকদের সবজি চাষে আগ্রহী করতে মাঠ দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

করলা চাষেও লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
করলা চাষেও লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হাসান সারোয়ার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, শস্য বিন্যাসের পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন কাছাকাছি থাকায় কৃষকরা সবজিতে ভালো দাম পাচ্ছেন। এখন বাজারে সবধরনের ফসলের উৎপাদন সমান হওয়া এই অঞ্চলের কৃষকরা আগের তুলনায় সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ছে।

অন্যদিকে, রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দুই হাজার হেক্টর কম জমি সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আবাদ বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৭০৭ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৭৩৬ হেক্টর জমিতে।

এসময় তিনি বলেন, রবি মৌসুমে সবজি আবাদে কৃষকরা লাভবান হবে। কারণ এবার আবহাওয়া পুরোপুরি সবজি আবাদের অনুকূলে আছে। এখন বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটোসহ শাক-সবজির দামও ভালো যাচ্ছে।

   

উপজেলা ভোট: প্রার্থীর নিয়ন্ত্রণে ভোটকেন্দ্রে থাকলে পরিবর্তন করবে ইসি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের ১৫২ নির্বাচনে প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের পর কোনো প্রার্থীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়ে থাকলে কমিশন তা পরিবর্তন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সংস্থাটির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে আরও একাধিক বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।


ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে:

(ক) কমিশন ভোটগ্রহণের তারিখের অন্যূন ১৫ (পনেরো) দিন পূর্বে উক্ত চূড়ান্ত তালিকা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যে সকল এলাকার ভোটারগণ ভোটদান করবেন সে সকল এলাকার নামও চূড়ান্ত তালিকায় উল্লেখ করতে হবে; তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও, বিশেষ পরিস্থিতিতে কমিশন যে কোনো ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে পারবে;
(খ) রিটার্নিং অফিসার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা করবেন।
(গ) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয় এরূপ স্থানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না।
(ঘ) পুরুষ ও মহিলা ভোটারগণ যাতে পৃথকভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন তদুদ্দেশ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটকক্ষের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটচিহ্ন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থান রাখতে হবে।
(ঙ) কোনো প্রার্থীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো স্থানে কোনো ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না।
(চ) প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের পর কোনো প্রার্থীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়ে থাকলে কমিশন তা পরিবর্তন করতে পারবে।
(ছ)প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোট কক্ষে ভোট চিহ্ন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক গোপন কক্ষ থাকবে।

আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে ১৫২ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।

মোট চার ধাপে অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরবর্তীতে তিন ধাপের ভোটগ্রহণ ২৩ ও ২৯ মে এবং ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫টি।

;

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

  • Font increase
  • Font Decrease

পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মবিরতি এক মাসের জন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

এসময় মন্ত্রী বলেন, আমাদের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বহুদিনের দাবি ছিল বেতন বৃদ্ধির। এই দাবির সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই আমি সম্মতি দিয়েছি। আমি তাদের কথা শুনেছি, কয়েকবার তাদের সঙ্গে বসেছি। হাসপাতালকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এরাই সবচেয়ে বেশি কাজ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন, তাদের কাজে যোগ দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ঈদের পরেই আমরা বলতে পারব কবে তাদের বেতন বাড়বে।

;

আবর্জনা নয়, মশার স্তূপ!



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
হালিশহরের একটি মসজিদে স্পে দেওয়ার পর মারা যাওয়া মশা

হালিশহরের একটি মসজিদে স্পে দেওয়ার পর মারা যাওয়া মশা

  • Font increase
  • Font Decrease

জুতার বাক্সভর্তি কালো সদৃশ্য জিনিস। ছবি ও ভিডিওতে দূর থেকে প্রথমে দেখে কেউ কেউ ভেবেছেন ময়লা-আবর্জনা। কেউবা আবার মনে করেছেন চা পাতা। তবে আরও কাছাকাছি থেকে দেখতেই ভাঙে সবার ভুল। আসলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে মশা। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের এ ব্লক জামে মসজিদে দরজা জানালা বন্ধ করে স্প্রে করার পর মারা যায় এসব মশা। পরে সেগুলো একজায়গায় জড়ো করে ছবি ও ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেন মো মুছা নবী নামের এক ব্যক্তি। মুহূর্তেই সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

সেই ভিডিও এবং ছবি দেখে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে থাকেন। সবাই বলতে থাকেন, মশার যন্ত্রণায় বাইরে কোথাও এক মিনিট শান্তিতে দাঁড়ানো কিংবা বসা যায় না। ঘরেও দিনরাত মশারির নিচে থাকতে হয়। এখন প্রায় সব বাসা-বাড়ি কিংবা অফিসের সব মশা মারলেও এমন স্তূপ পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। কিন্তু মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) যেন কোনো হুশ নেই। দিনে দিনে মশার যন্ত্রণা বেড়ে চললেও দৃশ্যমান তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে এই সংস্থার। সেজন্য মশার সেই ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে অনেকে মেয়র মো. রেজাউল করিমের সমালোচনা করেন। কেউবা বলছেন, মশাগুলো প্যাকেটভর্তি করে সিটি করপোরেশনে পাঠানো হোক, তাতেই হয়তো সম্বিত ফিরবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।

চট্টগ্রামে গত এক বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১০ জন। মারা যাওয়াদের মধ্যে গড়ে পাঁচজনের একজন শিশু। সবমিলিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ সহস্রাধিক মানুষ। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু ও আক্রান্ত নিকট অতীতে আর দেখেনি চট্টগ্রাম। ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়লে মশা তাড়াতে চসিকের কিছু তোড়জোড় দেখা যায় বটে, কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই আবার ‘ঘুম’। সর্বশেষ গত বছরের ২ অক্টোবর ডেঙ্গু মশার উৎসস্থল ধ্বংসে অভিযান চালিয়েছিল সংস্থাটি। এরপর প্রায় সাত মাস কেটে গেলেও নেই কোনো কার্যক্রম। আর সিটি করপোরেশনের এমন নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন শুধু মশার প্রাদুর্ভাব হলেই তৎপরতা চালিয়ে মশা নিধন করা সম্ভব নয়, এ জন্য দরকার বছরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম।

তোপের মুখে মেয়র:

রমজানে গরিবদের সঙ্গে ইফতার গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নকাজের চিত্র নিজের ফেসবুক পেজে তুলে ধরছেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। কিন্তু মেয়রের এসব ‘ভালো’ কাজও প্রচার পাচ্ছে কম, উল্টো সেসব ছবির নিচে বেশিরভাগই মন্তব্য করছেন মশার যন্ত্রণা নিয়ে। সবারই যেন একটাই চাওয়া, মশা থেকে মুক্তি। সেজন্য কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মেয়র মহোদয় উন্নয়ন করতে করতে মশা মারার কথা ভুলে গেলে চলবে না, নগরবাসীকে বাঁচান। মশা থেকে উদ্ধার করেন।’ কেউবা আবার বলছেন, ‘চীনের দুঃখ হোয়াংহো, চট্টলার দুঃখ মশা।’ কেউ কেউ মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনকে চিঠিও দিচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। এখন কোথাও কোথাও ঘরে ঘরে জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। জ্বর হলেই মানুষদের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক কাজ করছে।

বাইরে কোথাও দাঁড়ালে এভাবে ঘিরে ধরছে মশার দল 

এদিকে মেয়রের বিভিন্ন পোস্টের নিচে নগরবাসীর ক্রমাগত মশা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের পর যেন কিছুটা সতর্ক হয়েছে সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ১টা ২৯ মিনিটে মেয়রের পেজে ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ভবন ও নালায় মশক নির্ধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মানুষ এমন কার্যক্রমের প্রশংসা করলেও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেছেন, শুধু দেখানোর জন্য নয়, শহরের অলি-গলিতে এমন দৃশ্যমান কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালাতে হবে। তাহলেই মানুষ মশার যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাবে।

তবে মশার লার্ভা মারার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অ্যাডাল্টিসাইডের কিছুটা সংকট আছে। অবশ্য ২০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড কেনার প্রক্রিয়া চলছে।’

কেন মশক নিধন কার্যক্রমে গতি নেই:

গত বছর ডেঙ্গুতে বড় ধাক্কার পরও এবার মশক নিধন কার্যক্রমে তেমন একটা গতি দেখা যাচ্ছে না। এই সুযোগে মশার প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। কিন্তু কেন গতি কমে আসছে মশক নিধন কার্যক্রমে সেটি খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, মশক নিধন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের ব্যস্ত রাখা হয়েছে অন্য কাজে। এর ফলে মশক নিধন কার্যক্রম বলতে গেলে থেমেই আছে।

সিটি করপোরেশনের মশা মারার কাজ কী কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরে ১১ মার্চ অফিস আদেশ দিয়েছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমীর সই করা ওই আদেশে বলা হয়, মশার লার্ভা মারার ওষুধ ছিটানো এবং মশা মারার ধোঁয়ার ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত সেবকদের মূল কাজ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। তাদের দিয়ে আবর্জনাবাহী গাড়ি, নালা পরিষ্কার এবং ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে। এতে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কাজ মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।

তবে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মোবারক আলী বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘জনবল মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত জনবল ছিল না। সেজন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে নালা-নর্দমা পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে যুক্ত সেবকদের মশা মারার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল।’

নগরবাসী অবশ্য আর কোনো ‘অজুহাত’ শুনতে রাজি নন। তাদের এখন একটাই চাওয়া-‘মশা থেকে আমাদের বাঁচান।’

 

;

নিজের হাতে থাকা বোমা বিস্ফোরণে ছিন্নবিচ্ছিন্ন যুবকের দেহ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, শরীয়তপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের হাতে থাকা বোমা বিস্ফোরণের এক যুবকের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। আহত সজিব মুন্সী (২৫) বিলাসপুর ইউনিয়নের মিয়া চান মুন্সী কান্দি এলাকার মোহাম্মদ আলী মুন্সির ছেলে।

বুধবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে বিলাসপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মুমূর্ষ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কবির আলম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান আ. কুদ্দুস ব্যাপারী গ্রুপ এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আ. জলিল মাদবর গ্রুপের মধ্যে এর আগেও দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে জাজিরা থানায় সর্বমোট ১০টি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকালে মিয়া চান মুন্সী কান্দি গ্রামের দুই চাচাত ভাই জমি নিয়ে মারামারি করে। বিকেলে ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুস ব্যাপারী ও জলিল মাদবর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লুটপাট করা হয়।

এতে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়। খবর পেয়ে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম পাহাড়ায় থাকলেও বুধবার সন্ধ্যায় আবার ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় ককটেল বহন করা বালতি নিয়ে যাওয়ার সময় কাঁদায় পিছিলে যায় তখন বালতিসহ ককটেল গুলোর বিস্ফোরণ ঘটে সজিব মুন্সী নামে একজন গুরুতর আহত হন।

জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, "আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বোমা বিস্ফারণ হয়ে সজিব নামে এক যুবক আহত হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

;