‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
করোনা ভাইরাস শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারে মেয়র সাঈদ খোকন

করোনা ভাইরাস শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারে মেয়র সাঈদ খোকন

  • Font increase
  • Font Decrease

এখন পর্যন্ত ঢাকা বা পুরো বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া না গেলেও আক্রান্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এখনো ঢাকা কিম্বা বাংলাদেশ আক্রান্ত হয় নাই, আক্রান্তের সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ‘নোভেল করোনা ভাইরাস’ শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাঈদ খোকন।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএসএমএমইউ উপাচার্য প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক আতিকুর রহমান। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আফজালুন নেছা ও বিএসএমএমইউ এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ। এতে বক্তব্য রাখেন ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আহমেদ।

করোনা ভাইরাস শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারের বক্তারা

নগরবাসীকে সচেতন ও সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা সবাই অত্যন্ত আতঙ্কিত। ভাইরাসটি যে দেশ থেকে এসেছে সেই চীনের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এখনো ঢাকা কিম্বা বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়নি, আক্রান্তের সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই বাস্তবতা সামনে রেখে মোকাবেলা করার জন্য যে সব পরামর্শ দেওয়া হলো সেগুলো সবাই মিলে পালন করব।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই যে কোনো সময় এই ভাইরাস ঢাকা শহর বা বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতে পারি না। যদি এসে পড়ে সেটা কিন্তু ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। তাতে লাখো প্রাণ বা হাজার প্রাণহানিও ঘটতে পারে। আমরা চাই না সেরকম পরিস্থিত হোক। এজন্য সবাইকে নিজ নিজ স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অতীতেও বিভিন্ন দুর্যোগে সীমিত সাধ্য দিয়ে নগরবাসীর পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছে, আগামীতেও নগরবাসীর পাশে থাকবে।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন টিকা বা প্রতিশেধক তৈরি হয়নি। তাই এই রোগ থেকে রক্ষা পাবার একমাত্র উপায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। সবাই যদি সচেতন থাকে তাহলে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাবে।

প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ডা. শামীম আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাস যেহেতু পশু-পাখি থেকে আসছে তাই আমাদের সর্তক থাকতে হবে। এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আর হাঁচিকাশি দেওয়ার সময় যেন সবাই সর্তক থাকি।

করোনা ভাইরাস শীর্ষক সাইন্টিফিক সেমিনারে আগতরা

সেমিনারে উত্থাপিত প্রবন্ধে করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে—

আক্রান্ত হওয়ার কতদিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়:
কারো শরীরে করোনা ভাইরাস ঢুকলে সেটা দুই দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ আকারে দেখা দেবে। আর বিপজ্জনক হলো এই ১৪ দিনের মধ্যে যদি কাউকে দেখে বোঝা নাও যায় তবে তার হাঁচিকাশি থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা এই সময় হাঁচি দিলে বাতাসের সঙ্গে ভাইরাসটি একজন থেকে আরেকজনে স্থানান্তর হয়।

করোনা ভাইরাসের ইতিহাস:
করোনা ভাইরাসটি প্রথম দেখা দেয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। সেখানে একটি বাদুর থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম করোনো ভাইরাস শনাক্ত হয়। তখন ২৭টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, ওই সময় ২ হাজার ৪৯৪ জন আক্রান্ত হয়। সে সময় মারা যায় ৮৫৮ জন।

এ বছর ৭ জানুয়ারি চীনের উহান প্রদেশে একটি পশু-পাখির মার্কেট থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর ৪০টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ২৪ হাজার ৫৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৪৯৪ জন মারা গেছেন। আর চিকিৎসা নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৯৫৭ জন।

বৃহস্পতিবার ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ২৫৪ জন। এর মধ্যে শুধু চীনেই ২৭ হাজার ৯৯৭ জন। শেষ হিসেব মতে মারা গেছে ৫৬৫ জন। চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরেছে ১ হাজার ১৭১ জন।

করণীয় হিসেবে ডা. শামীম আহমেদ বলেছেন, খুব প্রয়োজন না হলে চীনে না যাওয়া বা সে দেশ থেকে না ফেরা। আর যারা আসছে তাদের অন্তত ১৪ দিন করেনটাইন সেবা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা। এছাড়া আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :