নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং, হাসপাতালে ভর্তি ২ শিক্ষার্থী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেকপোস্টের পাশে একটি ছাত্রী নিবাসে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফারহানা রহমান লিয়োনাকে ম্যানার শেখানোর নামে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে সে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

অপরদিকে, একাধিকবার র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ও খিচুনি শুরু হলে তাকেও প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সে বর্তমানে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসারত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ সুজন আলী ও সহকারী প্রক্টর আল জাবির। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সকল ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্য বিশিষ্ট একটি এন্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলীকে আহ্বায়ক, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান সদস্য সচিব ও সদস্য করা হয়েছে অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট মাসুদ চৌধুরী ও দোলন চাঁপা হলের প্রভোস্ট নুসরাত শারমিন তানিয়াকে।

সহকারী প্রক্টর আল জাবির জানান, শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে এটি স্পষ্ট যে, তাদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এতে তারা ভীত হয়ে পড়েছে। এই মানসিক নির্যাতন যারা করেছে তাদের বিচার না করতে পারলে আমি আমার সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করব।

আপনার মতামত লিখুন :