প্রতিবন্ধীর কৃষি জমি দখলের চেষ্টা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
প্রতিবন্ধী শাহাজাহান মিয়া, ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রতিবন্ধী শাহাজাহান মিয়া, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের কাউনিয়ায় এক প্রতিবন্ধীর চাষাবাদের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় মামলা হলে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে আদালত। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলদার নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পিতাহীন প্রতিবন্ধী শাহাজাহান।

এদিকে দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ও স্থানীয় একটি মহলের চাপে অসহায় হয়ে পড়েছে প্রতিবন্ধীর পরিবারটি। এ অবস্থায় বসত ভিটারপাশের ওই একখণ্ড কৃষি জমি রক্ষায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতিবন্ধী শাহাজাহান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, কাউনিয়া উপজেলার সানাই মোড়ের দক্ষিণে নিজ পাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী শাহাজাহান মিয়ার পরিবারের বসবাস। পিতৃহীন পরিবারে অভাব অনটনের সংসারে শাহাজাহানের প্রতিবন্ধী ভাতা ও অন্যের সাহায্য সহযোগিতাই এখন তাদের ভরসা। বেঁচে থাকার মতো অবলম্বন হিসেবে বসত ভিটার পাশে রয়েছে চাষাবাদ করার ১৪ শতক জমি। তিন মাস আগে ওই কৃষি জমির ফসল নষ্ট করে ক্রয় সূত্রে মালিকানা দাবি করে জমি দখলের চেষ্টা করেন স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদাররা।

এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী শাহাজাহানের বড় বোন জুলেখা বেগম আইনের আশ্রয় নেন। এতে মামলা হলে আদালত উভয়পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্প্রতি বাড়ি নির্মাণ করতে ওই জমিতে বালু ও ইট ফেলেছে দখলদার আব্দুল সাত্তার, হোসেন আলী, মিলন মিয়া ও সহিদ মিয়া। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা, মামলার হুমকি ধমকিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী প্রতিবন্ধী শাহাজাহান মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার পিতার মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি মহলের ইন্ধনে দখলদাররা তাদের চাষাবাদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রেখেছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় নানাভাবে হয়রানি করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারকে বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।

চাষাবাদের জমি দখলের অভিযোগ

জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল সাত্তার, হোসেন আলী, মিলন মিয়া ও সাহিদ মিয়া। তাদের দাবি, প্রতিবন্ধী শাহাজাহানের জমিতে তাদের কেউ দখল নিতে যায়নি। বরং ক্রয় সূত্রে পাওয়া জমির খতিয়ান ও দাগ দেখে তারা ২৮ শতকের মধ্যে তাদের ১৪ শতক দখলে রেখেছে। এনিয়ে প্রতিবন্ধী পরিবার মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে বলেও উল্টো অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে কাউনিয়া থানার ওসি তদন্ত মো. সেলিমুর রহমান সেলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আদালতের নির্দেশনানুযায়ী ১৪৪/১৪৫ ধারার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তারপরেও যদি কেউ আইন অমান্য করে এবং এব্যাপারে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠক হয়েছে। এখন ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। একারণে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে অন্যায়ভাবে কেউ কাউকে হয়রানি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।