শুকনো মৌসুমে ধরলার ভাঙন, আতঙ্কে ৩ গ্রামের মানুষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শুকনো মৌসুমে ধরলার ভাঙন, আতঙ্কে ৩ গ্রামের মানুষ

শুকনো মৌসুমে ধরলার ভাঙন, আতঙ্কে ৩ গ্রামের মানুষ

  • Font increase
  • Font Decrease

শুকনো মৌসুমে ধরলার ভাঙন আতঙ্কিত করে তুলেছে গ্রামের মানুষ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। নিজেদের শেষ আশ্রয় ঘর-বাড়ি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করতে নদী পাড়ে জড়ো হয়ে দ্রুত ভাঙন রোধের দাবী জানিয়েছেন তারা।

শুকনো মৌসুমেই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই সব হারাতে হবে তাদের। এসব কথা জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের মোগলবাসা ঘাটে ভাঙন রোধের দাবীতে মানববন্ধনে আসা গ্রামের মানুষ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মোগলবাসা ঘাটে গিয়ে দেখা যায় শত শত শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধিরা ধরলা নদীর ভাঙনের ওপর দাঁড়িয়ে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাদের আকুতি আমরা কিছু চাই না। প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের নদী ভাঙন বন্ধ করে দেন। আমাদের ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, মন্দির রক্ষায় যেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এ কথাগুলো শুধু একজন বা দু’জনের নয়, মানববন্ধনে অংশ নেয়া শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাস ধরে সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কিসামত, কিসামত মোগলবাসা ও সিতাইঝাড় গ্রামে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকশ ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে ঐ তিন গ্রামের ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি, মোগলবাসা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, খেলার মোড় মাদ্রাসা, সেনের খামার উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দির, ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসাহাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। গত এক বছরের মধ্যে এক কিলোমিটার দূরে থাকা ধরলা নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা বাঁধের একেবারেই কাছে চলে এসেছে।

এ অবস্থায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বাঁশের বান্ডেল দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও তা কোন কাজে আসছে না।

মোগলবাসা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হাই জানান, আমার বিদ্যালয়ে ১২শ শিক্ষার্থী। নদী বিদ্যালয়ের কাছে চলে এসেছে। এখনই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তখন এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার উপায় থাকবে না।

মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি)  চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান বাবলু জানান, ধরলার ভাঙনে ইতিমধ্যে মোগলবাসা ইউনিয়নের বেশকিছু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে শুকনো মৌসুমেই আরো বেশকিছু ঘর-বাড়ি ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হবে। আমি দ্রুত এ ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের নিকট জোড় দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, মোগলবাসার ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরোধের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে ধরলার ভাঙন রোধে ঐ এলাকায় অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা হবে।

এছাড়াও ধরলার ডানতীর রক্ষা প্রকল্প নামে স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রকল্পটি পাশ হলে মোগলবাসাসহ ধরলার ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন :