মশার ঘনত্বে রেকর্ড ছাড়াবে

সিনিয়র করেসপেন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মশার লার্ভা

মশার লার্ভা

  • Font increase
  • Font Decrease

আর কিছুদিন বাদেই শুরু হবে বর্ষাকাল। এরইমধ্যে মশার উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে। মশার যন্ত্রণায় কোথাও বসা যাচ্ছে না। নগরবাসীর এমন অভিযোগের পরেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই সিটি করপোরেশনের। এদিকে গবেষণা বলছে, এখনই কার্যকারি পদক্ষেপ না নিলে এবার অতীতের যে কোনো বছরের তুলনায় মশার উপদ্রব বেশি হবে। বলা হচ্ছে এবার মশার ঘনত্ব অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ডোবা, খালে বা মশার প্রজনন ক্ষেত্রে গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তার গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে ভয়ানক এই তথ্য।

গবেষণায় কবিরুল বাশার বলেছেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্বের রেকর্ড ছাড়াবে। মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে মশা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এবার মশার ঘনত্ব অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তার গবেষক দল মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন। গবেষকদল বিভিন্ন মশার জন্ম স্থান পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে মশা সংগ্রহ করেন এবং ল্যাবে নিয়ে এসে শনাক্তকরণ করেন। কিউলেক্স মশার লার্ভা’র ক্ষেত্রে ঘনত্ব পরিমাপের জন্য প্রতি ৫০০ এমএল পানিতে মশার লার্ভা সংখ্যা গণনা করে ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। গত এক সপ্তাহ জরিপে ঢাকার বেশিরভাগ কিউলেক্স মশার জন্মানোর স্থানে ঘনত্ব ২০০ এর উপরে পাওয়া যায়। সাথে সাথে ড্রেন ডোবা এবং নর্দমাতে প্রচুর ডিম দেখতে পান গবেষকদল।

বর্তমান সময়ে যে মশাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে সেটি হচ্ছে কিউলেক্স মশা। এই মশা বিভিন্ন ড্রেন, ডোবা নর্দমা এবং পচা পানিতে জন্মায়। অনেকদিন ধরে কোন বৃষ্টিপাত না থাকায় মশা জন্মানোর স্থানগুলোতে পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল বেড়ে গেছে। এই অর্গানিক ম্যাটরিয়াল গুলো কিউলেক্স মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে যেটি মশা জন্মানোর জন্য উপযুক্ত। গত কয়েক দিনে অগণিত ডিম দিয়েছে মশা। যেই ডিমগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হবে। অতি জরুরি ভিত্তিতে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশার জন্মানোর স্থানগুলোতে লার্ভিসাইড ছিটানো না হলে মার্চ মাসে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে মশা। অতিষ্ঠ হয়ে যাবে নগরবাসী।

ডক্টর কবিরুল বাশার মনে করেন ড্রেন, ডোবা এবং নর্দমার পানি চলন্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লার্ভা মারার কীটনাশক স্প্রে করা জরুরি। ভারী বৃষ্টিপাত হলে স্বাভাবিকভাবে মশা কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন এই গবেষক।

বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা শহরে রয়েছে ১৩ প্রজাতির। কিন্তু যে মশাটি আমাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিরক্তির কারণ সেটি হচ্ছে কিউলেক্স মশা। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি কেউ আমরা ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব পেয়েছি তবে সবচেয়ে তে বেশি পেয়েছি কিউলেক্স মশা। বর্তমানে ঢাকা শহরের একশভাগ মশার মধ্যে ৯৫ ভাগ হচ্ছে কিউলেক্স মশা। এই কিউলেক্স মশা বাংলাদেশের কিছু কিছু জেলায় ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায় বলে আমরা জানি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিউলেক্স মশা ওয়েস্ট নাইল ফিভার ছড়ায়। তবে ঢাকায় এই মশার মাধ্যমে কোন রোগ ছড়ানোর রেকর্ড নেই।

আপনার মতামত লিখুন :