মাদকাসক্ত নাতির অত্যাচারে ঘরছাড়া পুরো পরিবার



উবায়দুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
হাজী মোহাম্মদ হোসেনের পরিবার, ছবি: বার্তা২৪.কম

হাজী মোহাম্মদ হোসেনের পরিবার, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘মা মইরা যাওনের পর নাতিডারে কোলে পিডে কইরা মানুষ করছি। আদর-যত্নে কমতি রাহি নাই। আর হেই নাতি সম্পত্তির লাইগা আমগরে মারে, বাড়ি থাকতে দেয় না। তার অত্যাচারে নিজের বাড়ি ছাইড়া পরের বাড়িতে থাকতাছি। এর চাইতে কষ্টের আর কী আছে?’

আক্ষেপ আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আগমুসল্লি গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ হাজী মোহাম্মদ হোসেন।

তার জীবনের পুরোটাই কেটেছে সংসার, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি আর ব্যবসা নিয়ে। সারা জীবনে পরিশ্রম করে গড়েছেন অনেক সম্পদ। হয়তো নিজের বিশ্রামের সময়টা রেখে দিতে চেয়েছিলেন শেষ বয়সের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের খেলায় হেরে গেলেন তিনি।

জীবন সায়াহ্নে এসে হাজী মোহাম্মদ হোসেনকে মাদকাসক্ত নাতির অত্যাচারে ঘর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যের ঘরে। কাটাতে হচ্ছে কষ্টের দিন। বুকের চাপা সেই কষ্টের কারণে দিন দিন অসুস্থ করে তুলছে তাকে। চোখের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে হতাশা, ভয় আর উৎকণ্ঠা।

জানা গেছে, উপজেলার আগমুসল্লি গ্রামের হাজী মোহাম্মদ হোসেনের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে আব্দুল হাই’র প্রথম স্ত্রীর একমাত্র সন্তান মাজহারুল হক (৩৫)। মাজহারুলের বয়স যখন ৬ মাস তখন তার মা মারা যায়। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল হাই।

বড় হয়ে একটা সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে মাজহারুল হক। প্রায়ই টাকার জন্য বাবা-মাকে নির্যাতন করত। এক পর্যায়ে বাপ-দাদার সম্পত্তি লিখে নিতে পুরো পরিবারের উপর অত্যাচার শুরু করে। সেই অত্যাচার থেকে বাঁচতে গত ৭ মাস ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধ হাজী মোহাম্মদ হোসেনসহ গোটা পরিবার।

মাজহারুলের বাবা আব্দুল হাই বলেন, ‘মাদকাসক্ত থেকে ফেরাতে তাকে ভর্তি করিয়েছিলাম পুনর্বাসন কেন্দ্রে। অথচ তার স্ত্রী লুৎফা থানায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ছেলে অপহরণের মামলা করে। সেই মামলায় আমাকে ৫৬ দিন জেলে থাকতে হয়েছে। এমনকি তার বৃদ্ধ দাদা তাকে সম্পত্তি লিখে দেয়নি বলে সবাইকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

মাদকাসক্ত মাজহারুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের আইনি সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।